ফেনী    বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী
প্রতিটি চেকেই ২ লাখ  টাকার ‘চতুর’ জালিয়াতি

প্রতিটি চেকেই ২ লাখ টাকার ‘চতুর’ জালিয়াতি

ফুলগাজীতে চেক জাল করে সরকারি অর্থ লোপাটের বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে দৈনিক ফেনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩ মার্চ পর্যন্ত ২৬টি চেকের প্রতিটি চেকে ইউএনও’র স্বাক্ষরের পর অঙ্কে ও কথায় মূল অঙ্কের পাশে ২ লাখ টাকা বাড়তি যুক্ত করে চতুরভাবে এই জালিয়াতি করা হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় আট মাস ধরে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের বিভিন্ন খাতের চেকে অনুমোদিত টাকার সঙ্গে বাড়তি ২ লাখ টাকা অঙ্কে ও কথায় যুক্ত করে অর্থ লোপাট করা হয়। গত ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই প্রথমবার চেক জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করা হয়। অফিস আপ্যায়ন খাতে ওই চেকে প্রকৃত অঙ্কের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার টাকা। জালিয়াতি করে কথায় ও অঙ্কে দুই লাখ যুক্ত করার পর চেকে অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৩ হাজার টাকায়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩ মার্চ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাতে ২৬টি চেকের অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৪৫৫ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিটি চেক থেকে ২ লাখ টাকা বাড়তি যুক্ত করে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ৫১ লাখ ৪৫৫ টাকা। সর্বশেষ চেক জালিয়াতি করা হয় চলতি বছরের ৩ মার্চ। ওই চেকে গাড়ির জ্বালানি তেলের বিল বাবদ ১৬ হাজার ৭২২ টাকার অর্থ অনুমোদন করা হয়। এই চেকটিতেও বাড়তি ২ লাখ টাকা যোগ করে প্রতারণা করা হয়।জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম ফুলাগাজীতে ১৪ মাস দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০২৫ সালের ৮ মে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ২৩ জুন তাকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলির আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় হিসাব—নিকাশ নিরীক্ষণ করে চেক জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটন করতে পারেন তিনি। চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রেজিস্ট্রার ও ভাউচার মেলানোর পর হিসেবে বিপুল গরমিল টের পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক চেক জালিয়াতি করে অর্থ উত্তোলন করা হলেও এতদিন কেন তা ধরা পড়েনি, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।ফুলগাজীতে থেকে বিদায়ের প্রাক্কালে এমন কাণ্ডে বিপাকে পড়েছেন ফাহরিয়া ইসলাম। এতে জড়িত থাকায় উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও যথাযথ প্রশাসনিক তদারকিতে ব্যর্থতার দায় নিতে হতে পারে বিসিএস ২৫তম প্রশাসন ব্যাচের এই কর্মকর্তাকেও। তবে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি তিনি।টাকা উত্তোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীওসোনালী ব্যাংকের ফুলগাজী শাখার ব্যাংক হিসাব অনুযায়ী, চেক জালিয়াতির পর ব্যাংক থেকে সর্বাধিক টাকা উত্তোলন করেছেন অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ। তিনি জালিয়াতির ২১টি চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করেছেন। এছাড়া অপর অফিস সহায়ক নূর ইসলাম চারবার এবং ক্ষুদিরাম শর্মা নামে পরিষদের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী টাকা তুলতে ব্যাংকে গেছেন।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষুদিরাম শর্মা একটি চেকে মাধ্যমে ২ লাখ ১৬ হাজার ১০০ টাকা উত্তোলন করেন। অথচ সংশ্লিষ্ট চেকের প্রকৃত অনুমোদিত অর্থ ছিল মাত্র ১৬ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ ওই চেকে বাড়তি ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে ব্যাংক স্টেটমেন্টে পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে জানতে ক্ষুদিরাম শর্মার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ফুলগাজী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইউসুফ বলেন, এটি উপজেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের টাকা। এ ধরনের লেনদেনে আইবাস ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। শুধু কর্মচারীদের বেতনের বিল ব্যাংকে দেওয়া হয়। এরপর কীভাবে টাকা উত্তোলন হয়েছে, সেটি উপজেলা পরিষদের বিষয়।পরশুরামের ইউএনওকে ফুলগাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় বর্তমানে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়–য়াকে ফুলগাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দৈনিক ফেনীকে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুহুরী নদীর বাঁধ পরিদর্শন এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো ফুলগাজীতে যেতে পারেননি। তিনি আরও জানান, নতুন ইউএনও দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হবে। জালিয়াতির পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করা হবে: জেলা প্রশাসকফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, চেকের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও জালিয়াতির পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করা হবে। ব্যাংক থেকে অ্যাকাউন্টস অফিসারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের কথা ছিল, কিন্তু তা বাহকের মাধ্যমে উত্তোলন কেন করা হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ বিষয়টি আমাকে দেখে বলতে হবে। প্রাথমিকভাবে যা জেনেছি, চেক লেখা হয়েছে, ব্যাংকে জমা হয়েছে এবং পরে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এটি সম্ভবত আইবাসের মাধ্যমে হয়নি। ব্যাংক স্টেটমেন্টে বাহক হিসেবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সম্পৃক্ততার ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এটি তদন্তাধীন বিষয়। পুলিশ কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করবে।তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক বিষয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি মামলার বিষয় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিধিমালায় যা রয়েছেস্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপজেলা পরিষদ হিসাব বিধিমালায় অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে চেকের ব্যবহার প্রসঙ্গে বিধান রয়েছে, পরিষদ তহবিলের ব্যাংক হিসাবের নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের দায়িত্ব উপজেলা ফিন্যান্স অফিসারের। এক হাজার টাকার অধিক পরিমাণ প্রদেয় অর্থ চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ক্রস চেকের মাধ্যমে প্রদান করা যাবে এবং অনুমোদিত খাতে উক্ত অর্থ যথাযথ পদ্ধতিতে বিধি মোতাবেক ব্যয় হয়েছে কিনা তা চেকে স্বাক্ষরের আগে চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া অর্থ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে ভাউচারে নাম্বার উল্লেখ করে ‘চেকের মাধ্যমে পরিশোধ’ লিখিত ষ্ট্যাম্প লাগানোর বিধান রয়েছে।অথচ ফুলগাজী উপজেলা পরিষদে সেই বিধিমালা মানা হয়নি। পরিষদের চেক যেত কম্পিউটার অপারেটর হাতে। ব্যাংক থেকে চেকের অর্থ উত্তোলন করতেন অভিযুক্ত দুইজন অফিস সহায়ক।মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলগাজী থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম জানান, পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলামের প্রতারণা, জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও পরস্পরের যোগসাজশে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থের প্রকৃত গন্তব্য, অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কোথায় ব্যর্থতা ছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম



সোনাগাজী: ডাঙ্গি খাল খননে কি.মি প্রতি বরাদ্দ সোয়া কোটি টাকা!

সোনাগাজীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (ইজিপিপি) আওতায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা ব্যয়ে ডাঙ্গি খাল খননের দৈর্ঘ্য এবং কার্যক্রম নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। খাল খনন শুরুর আগে গঠন করা হয়নি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। প্রকল্পের আওতায় খালের দৈর্ঘ্য এবং কিলোমিটার প্রতি ব্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে অবিশ্বাস, বিস্ময় এবং অস্বচ্ছতা। গত ৮ এপ্রিল প্রকাশিত বরাদ্দপত্রে এই খালের দৈর্ঘ্য দেখানো হয়েছে ২২ কিলোমিটার। গত ৪ জুন সংশোধিত বরাদ্দপত্রে খালের নাম পরিবর্তন এবং খনন এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলে সংশোধিত প্রকল্পের নাম হয়ে যায় 'সোনাগাজী ডাংগি খাল (নুর আলমের বাড়ির উত্তর পার্শ্ব হতে ফেনী নদী পর্যন্ত)' তবে, এতে দৈর্ঘ্য উল্লেখ করা হয়নি। গত ৮ জুন খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় ফেনী জেলা প্রশাসক ও সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালটির খনন অংশের দৈর্ঘ্য সাড়ে ৮ কিলোমিটার উল্লেখ করেছেন।  অস্পষ্টতা এখানেই শেষ নয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ডাঙ্গি খালের যে অংশে খনন কাজ চলবে তার দৈর্ঘ্য হতে পারে সাড়ে চার কিলোমিটার। অর্থাৎ, এ তথ্যের ভিত্তিতে এই খাল খননে কিলোমিটার প্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সোয়া কোটি টাকার অধিক। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই সূত্র জানায়, নথিতে ডাঙ্গি খাল বা জাইল্লা ডাঙ্গি নামে কোন খাল নেই। ডাঙ্গি বলতে শাখা বোঝায়। বর্তমানে খাল খনন প্রকল্পের আওতায় ৭ নাম্বার স্লুইচ গেইট থেকে ছোট ফেনী নদী পর্যন্ত যে স্থানে কাজ করা হচ্ছে সেটির দৈর্ঘ্য ৪ থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার হতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাগজে-কলমে খালের নাম 'আইআর৭এএন্ড৮বি (ইরিগেশন)। খালটি সাহাপুর আশ্রয়ন প্রকল্প, সোনাগাজী কলেজ এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিস দিয়ে গিয়ে ভূঁঞা বাজার হয়ে ছোট ফেনী নদী পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ, এর সাথে সংযুক্ত আরো ৮-৯টি শাখা রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, সোনাগাজীর অন্যতম বড় ডাঙ্গি খালটি দুইটি চ্যানেলে বিভক্ত। এর একটি চ্যানেল ছোট স্লুইচ গেট, সাহাপুর আশ্রয়ন প্রকল্প, সোনাগাজী কলেজ এবং হাঁস প্রজনন খামারের পাশ দিয়ে গিয়ে ছোট ফেনী নদীতে মিলিত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। অপর চ্যানেলটি সোনাগাজী কলেজ সংলগ্ন তাকিয়া রোডের দক্ষিণ মাথা থেকে লন্ডনি পড়ার পর পূর্ব বড়ধলী ধান গবেষণা কেন্দ্র হয়ে দক্ষিণ দিকে গিয়ে ফেনী নদীতে মিলিত হয়েছে। প্রকল্পটি প্রসঙ্গে উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ডাঙ্গি খালের সাহাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প, সোনাগাজী কলেজ এবং হাঁস প্রজনন খামারের পাশ দিয়ে গিয়ে ছোট ফেনী নদী পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। দেশ ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের জরীপ করেছে। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ২২ কিলোমিটার খননের জন্য প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে গত ৪ জুন সোনাগাজী ডাঙ্গি খাল (নুর আলমের বাড়ির উত্তর পার্শ্ব থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত) নামে সংশোধন করা হয়। সূত্রটি জানায়, নির্দেশনা রয়েছে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খনন কাজ শেষ করতে হবে। তবে এত অল্প সময়ে সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ করা যাবে কিনা তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাল খনন কাজ শুরু আগেই পিআইসি কমিটি গঠনের নিয়ম রয়েছে। অথচ ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও কমিটি অনুমোদনের আগেই উদ্বোধন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনামুল হক বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তৎকালীন পিআইও ২২ কিলোমিটার খালের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সময় স্বল্পতার কারণে সংশোধনী পাঠিয়ে সাড়ে ৮ কিলোমিটারের কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ২২ কিলোমিটারের জন্য অনুমোদিত বরাদ্দের টাকা দিয়েই বর্তমানে সাড়ে ৮ কিলোমিটারের কাজ করা হবে। কাজ শেষে মূল্যায়ণ করে প্রকৃত কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে খালের তালিকা চাওয়া হলে ডাঙ্গি খাল ২২ কিলোমিটার থাকায় দ্রুত সময়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে দেখা যায় স্বল্প সময়ে পুরো খাল খনন করা সম্ভব নয় এবং সকল স্থানে খননের প্রয়োজন নেই। এ কারণে সংশোধন করে সাড়ে ৮ কিলোমিটার খনন কাজ করা হচ্ছে।  খালের তথ্য গোপন এবং অস্বাভাবিক বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাল খনন কাজ শেষ হওয়ার পর হিসাব নিকাশের মাধ্যমে প্রকৃত কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। যতটুকু কাজ হবে, ততটুকুর বিল দেওয়া হবে। বাকি টাকা ফেরত চলে যাবে। খাল খনন কাজ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে ৮ কিলোমিটার খাল খননের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা। খালের নিচ থেকে ১ মিটার গভীর মাটি উত্তোলন এবং গড়ে ৮ মিটার প্রস্থ করে খনন কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। খননকৃত মাটি খালের দুই পাড়ে সংরক্ষণ করা হবে। পরে ওই স্থানে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সোনাগাজীর সিনিয়র সাংবাদিক জসিম উদ্দিন কাঞ্চন বলেন, খালটির যে অংশে বর্তমানে খনন কাজ করা হচ্ছে, সেখানে এক মিটার গভীরতা অনুযায়ী পলিমাটি উত্তোলনের কথা থাকলেও বাস্তবে ওই পরিমাণ পলি নেই।  অন্যদিকে খালের প্রস্থ ৮ মিটার করে খনন করার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে দখল ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে ৮ মিটার প্রস্থে কাজ করার সুযোগ নেই বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন।  অবৈধ দখলদারদের রক্ষায় প্রকল্প পরিবর্তন! ডাঙ্গি খালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট স্লুইচ গেট হতে ছোট ফেনী নদী পর্যন্ত খালের চ্যানেলটি চরগণেশ, তাকিয়া রোডের দক্ষিণ অংশে, হাওয়াই রোড, সোনাগাজী পশ্চিম বাজার অংশসহ বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, রক্ষাপ্রাচীর, ভরাট করে জমি তৈরি করে বেশকিছু অবৈধ দখল রয়েছে। কিছু অংশে পুরো খালটিই দখল হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, শুরুতে মূল খালের প্রস্তাব পাঠিয়ে অনুমোদন করা হলেও পরে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলেসহ নানা প্রতিবন্ধকতা এড়াতে পরবর্তীতে সংশোধন করে খালের ভিন্ন চ্যানেল কাজ শুরু করা হয়েছে। এখান খাল খনন উল্লেখ করা হলেও এটি মূলত খনন নয়, খাল সংস্কার বা পুনঃখনন বলা যেতে পারে।

সোনাগাজী: ডাঙ্গি খাল খননে কি.মি প্রতি বরাদ্দ সোয়া কোটি টাকা!
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন