ফেনী    সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী
সর্বশেষ
‘অনুমতি’ নিয়ে ছাত্রদলের দাবি নাকচ করলেন অধ্যক্ষ

‘অনুমতি’ নিয়ে ছাত্রদলের দাবি নাকচ করলেন অধ্যক্ষ

ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে কলেজ ছাত্রদলের বর্ধিত সভা আয়োজন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সভার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত মিলনায়তনে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক সভা আয়োজনের অনুমতি ও কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কলেজ ছাত্রদলের দাবি, শিক্ষক মিলনায়তনে সভা করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছে তারা। তবে কলেজ অধ্যক্ষ ছাত্রদলের দাবি নাকচ করে বলছেন, এ ধরনের কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি।গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে কলেজ ছাত্রদলের বর্ধিত সভার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের শিক্ষক মিলনায়তনের টেবিল ঘিরে বসে সভায় অংশ নিতে দেখা যায়। পেছনে টানানো ব্যানারে ‘ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদল’ ও ‘বর্ধিত সভা’ লেখা ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সভার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।এ নিয়ে কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা মন্তব্য করছেন। তারা বলছেন, শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত মিলনায়তনে একটি ছাত্রসংগঠনের সভা আয়োজন কলেজ প্রশাসনের ব্যর্থতা।শাওন নামে কলেজের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে মন্তব্য করে লিখেন, ফেনী কলেজে শিক্ষকদের লজ্জার ইতিহাস রচিত হলো। কলেজ অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক পরিষদ এবং শিক্ষকদের চেয়ারে কলেজ ছাত্রদল। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকা অবস্থায় কখনো কেউ দেখেছে ছাত্রলীগ শিক্ষক পরিষদে দলীয় প্রোগ্রাম করতে? কলেজ প্রশাসন দেউলিয়া আর মেরুদণ্ডহীন।সোহরাব হোসেন শাকিল নামে একজন ফেসবুকে মন্তব্য করে লিখেছেন, শিক্ষক পরিষদে ছাত্র সংগঠনের মিটিং এটাতো কখনো ছাত্রলীগও করছে কিনা সন্দেহ। ছাত্র রাজনীতির জন্য ছাত্র সংসদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৫ই আগস্টের পর ২ বছর ইন্টিরিম সরকার এর মধ্যে আমরা বা অন্যান্য ছাত্র সংগঠন চাইলেও মিটিং করতে পারতো যেকোন জায়গায়। আমরা বা অন্য কোনো সংগঠনতো তা করে নাই। কিন্তুু শিক্ষক পরিষদে ছাত্র সংগঠনের বর্ধিত সভা কোনো ভাবেই কাম্য নয়।লায়ন মাইনুদ্দিন ভূঁইয়া নাকে আরেকজন লিখেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি ফেনী কলেজে পদচারণা। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নিজের শিক্ষক কিংবা কলেজের শিক্ষক কখনো কারো চেয়ারে বসা দূরের কথা, অশোভন আচরণও করিনি। আজকের ছবিটা দেখে অন্যদের মত আমিও অবাক হলাম!এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ফরিদ আলম ভূঁঞা দৈনিক ফেনীকে বলেন, আমি বিষয়টি অবগত ছিলাম না। সভাটি যখন হয়, তখন আমি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ছিলাম। পরে কলেজে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ফেসবুকে বিষয়টি দেখেছি।তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকদের কোনো প্রোগ্রাম থাকলে বিএনসিসি, রোভার স্কাউটের শিক্ষার্থীদের বসিয়ে প্রোগ্রাম করি। অন্য শিক্ষার্থীদের এখানে বসার সুযোগ নেই, এটি শিক্ষকদের বসার রুম।শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আরও বলেন, এ বিষয়ে ছাত্রদলের কোনো নেতা বা শিক্ষার্থী আমার সাথে কথা বলেনি। এখানে কোনো শিক্ষার্থীদের বসার অনুমতি আমরা প্রদান করি না। আমি এ বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলব।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন বলেন, এটি কলেজ প্রশাসনকে প্রশ্ন করতে হবে। কলেজ প্রশাসন অনুমতি না দিলে কীভাবে করছে, তারা ব্যাখ্যা দিতে পারবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলকে এখনো কিছু জানায়নি। তবে সেখানে অন্যরাও কর্মসূচি করে বলে জানতে পেরেছি। এজন্য বিষয়টি ঘোলাটে মনে হচ্ছে। মামুন জানান, এ বিষয়ে তিনি কোন অভিযোগ পাননি। সেজন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি তিনি।‘অনুমতি নিয়ে’ যত কথাশিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে সভা আয়োজন নিয়ে কলেজ ছাত্রদল দাবি করছে, শিক্ষক মিলনায়তনে সভা করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে কলেজ অধ্যক্ষ ছাত্রদলের দাবি নাকচ করে বলছেন, তিনি এ ধরনের কোন অনুমতি দেননি।অধ্যক্ষের এমন অনুমতি দেওয়ার সুযোগ আছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক ফরিদ আলম ভূঁঞা বলেন, তিনি (অধ্যক্ষ) অনুমতি দিয়েছেন কি না জানি না, তবে দেওয়ার কথা না। যতটুকু জানি, তাদের অডিটোরিয়ামে কিংবা ক্লাসরুমে সভা করার জন্য বলা হয়েছিল।কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হাসান রনি বলেন, অধ্যক্ষের মৌখিক অনুমতির নিয়েই আমরা সেখানে বর্ধিত সভার আয়োজন করেছি। কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কমনরুম নেই। ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো কক্ষও চায়নি। কলেজের ক্ষতি হয়, এমন কিছু না করে অনুমতি নিয়েই আমরা সভা করেছি। তিনি আরও বলেন, সভায় আমরা শিক্ষক পরিষদের জন্য বরাদ্দ করা চেয়ার ব্যবহার করিনি। শিক্ষকদের বসার জায়গার বিপরীত পাশে বসে সভা করেছি।রনির দাবি, এখানে নিয়মিত অন্যান্য ছাত্র সংগঠন, বিভিন্ন ক্লাব সভার আয়োজন করে থাকে। সেই জায়গায় আমরা সভার আয়োজনের আগে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তার অনুমতি পেয়ে সেখানে সভা করা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এনামুল হক খোন্দকার জানান, তিনি শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে সভা করার অনুমতি দেননি বরং ছাত্রদল নেতাদের অডিটোরিয়ামে সভা করার কথা বলেছিলেন।তিনি বলেন, শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে সভা করার বিষয়টি সঠিক হয়নি। তারা এসে আমাকে বলেছে, তখন আমি বলেছি এখানে শিক্ষকদের বসার রুম। আমি সম্মতি দেয়নি। তাদের অডিটোরিয়ামে সভা করতে বলেছি, শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে নয়।এ ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, এখন আর কী করার আছে। ব্যবস্থা নেওয়ার মত কিছু নেই।
১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৪ এএম

‘অনুমতি’ নিয়ে ছাত্রদলের দাবি নাকচ করলেন অধ্যক্ষ

‘অনুমতি’ নিয়ে ছাত্রদলের দাবি নাকচ করলেন অধ্যক্ষ

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার সকাল ১০টায়

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার সকাল ১০টায়

পরশুরামের  নাসিম কলেজে 'সমন্বয়ক' পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ

পরশুরামের নাসিম কলেজে 'সমন্বয়ক' পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ

বদলি নেই দুই দশকেও, দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষক বলয়ে বাড়ছে ‘কোন্দল’

বদলি নেই দুই দশকেও, দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষক বলয়ে বাড়ছে ‘কোন্দল’

দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারে ট্রাকের ধাক্কা, আটকাতে গিয়ে চাকায় পিষ্ট চালক

দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারে ট্রাকের ধাক্কা, আটকাতে গিয়ে চাকায় পিষ্ট চালক

ফেনী সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ

ফেনী সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ

ফেনী সীমান্তে ৫৭ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ

ফেনী সীমান্তে ৫৭ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ

ফেনী সীমান্তে ৯০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ

ফেনী সীমান্তে ৯০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ

গুম, মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ‘ল লেকচার’

গুম, মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ‘ল লেকচার’

বোনের বিয়ের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভাইয়ের

বোনের বিয়ের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভাইয়ের



সেদিন বিজয়োল্লাসে ‘প্রকম্পিত’ হয় ফেনী

রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হল আজ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটে। এই দিনটি পরবর্তীকালে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিতি পায়। দিবসটি পালনে রাজধানীসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হবে দিবসটি।সেদিন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘যেন দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে’-এমন স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল জনপদ। ফেনীর পথে-ঘাটে নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোরসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বিজয়োল্লাসে মেতেছিলেন। দুপুর ২টা থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে নেমে আসে ছাত্র-জনতার ঢল। এসময় তরুণ-তরুণীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের হাতে শোভা পায় জাতীয় পতাকা। শহরের ট্রাঙ্ক রোড থেকে শুরু করে প্রতিটি অলিতে গলিতে সেদিন ছিল বিজয়ের উন্মাদনা। কে পালিয়েছে, কে পালিয়েছে, শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা। অনেকেই স্লোগান দেন জিতিলো রে, জিতিলো, ছাত্র সমাজ জিতিলো, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে, ফেনী জেলা স্বাধীন হল-এমন স্লোগানে, মিছিলে শহরের রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে বিজয়োল্লাস করছিল ছাত্র-জনতা। ‘অনেক দিন দম বন্ধ ছিল, আজ যেন আবার মুক্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছি’-উল্লাস করতে করতে অনেকেই এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছিলেন দৈনিক ফেনীর কাছে।শহরের প্রতিটি প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে ছিল হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি। এর আগের দিন ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইওভারের নিচে জড়ো হতে থাকেন হাজারো ছাত্র-জনতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচির সমর্থনে রাজপথে নেমেছিলেন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিবাদী স্লোগানে উত্তপ্ত ছিল মহিপাল ও আশপাশের এলাকা। অনেকের কাঁধে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। বৈষম্য, দমন-পীড়ন ও নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যাশাই ছিল তাদের কণ্ঠে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে ‘বিজয়’ উদযাপনে ফেনীর ট্রাঙ্ক রোডে নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের ঢল। ছবি : দৈনিক ফেনীসেদিন দুপুর পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে। একপর্যায়ে মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফ্লাইওভারের নিচেই আন্দোলনকারীরা জোহরের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে পুরো পরিস্থিতি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মহিপালের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর শুরু হয় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। যে রাজপথ কিছুক্ষণ আগেও ছিল প্রতিবাদের স্লোগানে মুখর, সেটিই অল্প সময়ের ব্যবধানে রক্তে রঞ্জিত হয়ে ওঠে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে ‘বিজয়’ উদযাপনে ফেনীর ট্রাঙ্ক রোডে নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোরসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের ঢল। ছবি : দৈনিক ফেনীসেদিনের সেই গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইশতিয়াক আহম্মেদ শ্রাবণ, সরওয়ার জাহান মাসুদ, ওয়াকিল আহম্মেদ শিহাব, সাইদুল ইসলাম শাহী, জাকির হোসেন শাকিব ও মোহাম্মদ সবুজ। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কলেজশিক্ষার্থী মাহবুবুল হক মাসুমকে। মাথায় গুলিবিদ্ধ মাসুমকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মৃত্যুর সঙ্গে তিন দিন লড়াই করে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। সেই দিনের ঘটনায় আহত হন শিক্ষার্থী, পথচারী, গণমাধ্যমকর্মীসহ দেড় শতাধিক মানুষ। অনেকেই রাজনৈতিক ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাও নিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে উল্লাস করছে ছাত্র-জনতা। ছবি : দৈনিক ফেনী৫ আগস্ট জেলাজুড়ে বিজয় উদযাপনের একই চিত্র দেখা গেছে ফেনীর শহর থেকে গ্রামে। শেখ হাসিনার পদত্যাগে উল্লাস করতে রাস্তায় নেমেছিলেন লাখো মানুষ। সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে শহরের জহিরিয়া মসজিদের সামনে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা পড়েন মুসল্লিরা। এরপর থেকে শহরজুড়ে জনতার বিজয় ধ্বনি ওঠে। বিজয় মিছিল থেকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহর। জুলাইয়ের শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। একই আন্দোলনে শামিল হয় ফেনীর সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। দুই বছর পরও শহীদ পরিবারগুলোর অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়ার গতি তাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীর। অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসামি এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে বলে দাবি তাদের। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের মূল আকাক্সক্ষা-আইনের শাসন, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, খোঁজও নিয়েছে; কিন্তু সন্তান হারানোর শোক লাঘবের একমাত্র পথ হলো দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শহরের মাষ্টারপাড়ায় সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী বাগানবাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি : দৈনিক ফেনীমহিপালের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ফেনী মডেল থানায় মোট ২২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি হত্যা এবং ১৫টি হত্যাচেষ্টা ও হামলার মামলা। এসব মামলার মধ্যে ১৪টি মামলার অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। বাকি মামলাগুলোর তদন্তও দ্রুত গতিতে চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।সেদিন একপর্যায়ে বিজয়োল্লাস ক্ষোভে রূপ নেয়। শহরের একাধিক স্থাপনায় অগ্নিযোগ ভাংচুরের পর বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন দেয় নিজাম হাজারীর বহুল আলোচিত সেই প্রাসাদোপম বাগানবাড়িতে। এরপর একে একে ফেনী পৌরসভা, জেলার একাধিক থানাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। 

সেদিন বিজয়োল্লাসে ‘প্রকম্পিত’ হয় ফেনী
১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন