ফেনী    রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

পরশুরামে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, দম্পতি গ্রেপ্তার



পরশুরামে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, দম্পতি গ্রেপ্তার
ছবি: দৈনিক ফেনী

পরশুরামে এক নারীর পাওনা টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযোগের ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ইমন নামের এক সিএনজি লাইনম্যানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতাল রোডের সিএনজি লাইনের লাইনম্যান ইমন নুরজাহান নামের এক মধ্যবয়সী নারীকে তাঁর বন্ধু ইসমাইল হোসেন শুভর ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। শুভর বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ গুথুমা এলাকার শান্তি কলোনিতে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে তিনি পরশুরাম সরকারি কলেজের উত্তর পাশে ভাই ভাই কমিউনিটি সেন্টারের কাছে একটি বাসায় স্ত্রী লিমা আক্তারকে নিয়ে ভাড়া থাকেন।

পরে রাত ১১টার দিকে ইমন ওই নারীকে কোলাপাড়া-যুগীগ্রামের একটি পুকুরের পূর্বপাড়ে ভাড়া করা একটি কক্ষে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরদিন সকালে ওই নারী পরশুরাম থানায় যান।

থানায় ওই নারী জানান, লিমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। লিমার মাধ্যমে তিনি ইমনের কাছে এসেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, লিমা আক্তারের কাছে তাঁর ১৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই টাকা উদ্ধার করে দিলে তিনি চলে যাবেন। তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তবে তিনি থানায় কোনো গণধর্ষণের অভিযোগ করেননি।

অভিযোগ পাওয়ার পর ইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লিমা আক্তার ও তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেন শুভকে আটক করা হয়।

ইসমাইল হোসেন শুভ পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সুবাদে ইমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। বুধবার রাতে একটি টমটমে করে ওই নারীকে তাঁর বাসায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে লিমা আক্তারকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি ওই নারীকে ৪ হাজার টাকা দেন। পরে ওই নারী তাঁর গন্তব্যে চলে যান।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, লিমা আক্তারের বাবার বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদীতে। তাঁর মা তাহেরা বেগম ফেনীর মাস্টারপাড়ায় যৌনকর্মী হিসেবে পরিচিত। ওই সূত্রের দাবি, তাঁর মাধ্যমে লিমার কাছে ওই নারীর যোগাযোগ হয় এবং পরে লিমার মাধ্যমে তাঁকে ইমনের কাছে পাঠানো হয়। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যপারে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, খদ্দেরের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় ওই নারী থানায় এসেছেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, পলাতক ইমনকে গ্রেপ্তার করা গেলে এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানা যেতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


পরশুরামে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, দম্পতি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পরশুরামে এক নারীর পাওনা টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযোগের ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ইমন নামের এক সিএনজি লাইনম্যানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতাল রোডের সিএনজি লাইনের লাইনম্যান ইমন নুরজাহান নামের এক মধ্যবয়সী নারীকে তাঁর বন্ধু ইসমাইল হোসেন শুভর ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। শুভর বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ গুথুমা এলাকার শান্তি কলোনিতে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তবে তিনি পরশুরাম সরকারি কলেজের উত্তর পাশে ভাই ভাই কমিউনিটি সেন্টারের কাছে একটি বাসায় স্ত্রী লিমা আক্তারকে নিয়ে ভাড়া থাকেন।

পরে রাত ১১টার দিকে ইমন ওই নারীকে কোলাপাড়া-যুগীগ্রামের একটি পুকুরের পূর্বপাড়ে ভাড়া করা একটি কক্ষে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরদিন সকালে ওই নারী পরশুরাম থানায় যান।

থানায় ওই নারী জানান, লিমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। লিমার মাধ্যমে তিনি ইমনের কাছে এসেছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, লিমা আক্তারের কাছে তাঁর ১৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ওই টাকা উদ্ধার করে দিলে তিনি চলে যাবেন। তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তবে তিনি থানায় কোনো গণধর্ষণের অভিযোগ করেননি।

অভিযোগ পাওয়ার পর ইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই তিনি পালিয়ে যান। পরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লিমা আক্তার ও তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেন শুভকে আটক করা হয়।

ইসমাইল হোসেন শুভ পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সুবাদে ইমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। বুধবার রাতে একটি টমটমে করে ওই নারীকে তাঁর বাসায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে লিমা আক্তারকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি ওই নারীকে ৪ হাজার টাকা দেন। পরে ওই নারী তাঁর গন্তব্যে চলে যান।

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, লিমা আক্তারের বাবার বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদীতে। তাঁর মা তাহেরা বেগম ফেনীর মাস্টারপাড়ায় যৌনকর্মী হিসেবে পরিচিত। ওই সূত্রের দাবি, তাঁর মাধ্যমে লিমার কাছে ওই নারীর যোগাযোগ হয় এবং পরে লিমার মাধ্যমে তাঁকে ইমনের কাছে পাঠানো হয়। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যপারে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, খদ্দেরের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় ওই নারী থানায় এসেছেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, পলাতক ইমনকে গ্রেপ্তার করা গেলে এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানা যেতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
পরশুরামে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, দম্পতি গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x