সোনাগাজীতে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে প্রায় চার বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা-মায়ের দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য রয়েছে। তাদের শ্বশুরবাড়িও একই এলাকায়। ঘটনার আগে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে ছিল। পরে শিশুটি নিখোঁজ হলে প্রথমে দাদা থানায় জিডি করেন এবং এরপর শিশুটির মা পৃথকভাবে জিডি করেন। শিশুটির মা পুলিশের কাছে দাদা বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলছে পুলিশ।
মৃত ওই শিশুর নাম সিদ্রাতুল মুনতাহা আয়াত (৪)। সে উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের ঈদগাহ এলাকার মোজাফফর মিয়ার বাড়ির শেখ সাহাব সজীব ও জান্নাতুল ফেরদৌস মনি দম্পতির মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর থেকে আয়াতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনরা বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় শিশুটির সন্ধান না পেয়ে প্রথমে তার দাদা সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে শিশুটির মায়ের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে থানায় আরেকটি জিডি করা হয়।
এরপর শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা পুকুরসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও পরদিন ভোরে ওই পুকুরেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই ঘটনায় দাদা ও মায়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি জিডি করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনায় হচ্ছে। তবে তার মৃত্যুর পেছনের কারণ এখনো অজানা রয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিম। শিশুটির মায়ের দেওয়া তথ্যে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে না।
ওসি আবুল হাসিম আরও বলেন, ‘শিশুটির বাবা-মায়ের দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের শ্বশুরবাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় শিশুটির মা দাদা বাড়িতে কিছু একটা ঘটছে বলে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। ঘটনার আগে শিশুটি মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে ছিল। এ ঘটনায় সর্বপ্রথম দাদাই নিখোঁজ ডায়েরি করেন এবং পরে শিশুর মা ডায়েরি করেন। তদন্তে নিখোঁজের সময়, পৃথক জিডি এবং মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি পৃথক দুটি জিডি এবং যে পুকুরে আগের দিন শিশুটিকে খোঁজা হয়েছিল, পরদিন সেখান থেকেই মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।