ফেনী    সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

ডেঙ্গু পরিস্থিতি

ফেনীতে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের প্রায় অর্ধেকই আগস্টে



ফেনীতে চলতি বছরে ডেঙ্গু  শনাক্তের প্রায় অর্ধেকই আগস্টে

ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্তের চিত্রে আগস্টে এসে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বছরের প্রথম সাত মাসে যেখানে ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে আগস্টের ২৩ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন আরও ৮৯ জন। অর্থাৎ চলতি বছরে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১৯০ জন রোগীর প্রায় অর্ধেকই শনাক্ত হয়েছেন শুধু আগস্টে। এরই মধ্যে চলতি মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা গত জুলাইয়ের ৭২ জনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৭ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ফেনী সদরে সাতজন, দাগনভূঞায় দুজন, সোনাগাজীতে তিনজন ও ছাগলনাইয়ায় একজন রয়েছেন। পরশুরাম ও ফুলগাজীতে এ সময়ে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

চলতি আগস্টে শনাক্ত ৮৯ জনের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৫৮ জন, দাগনভূঞায় ৭ জন, সোনাগাজীতে ১৩ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন ও ফুলগাজীতে ৫ জন রয়েছেন। পরশুরামে চলতি মাসে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে জেলায় ১০১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টের প্রথম ২৩ দিনেই শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জন। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছেন আগস্টের ২৩ দিনেই। আবার চলতি বছরের মোট ১৯০ আক্রান্তের মধ্যে ৮৯ জনই শনাক্ত হয়েছেন আগস্টে, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৪৭ শতাংশ।

গত জুলাই মাসে জেলায় ৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। চলতি আগস্টের ২৩ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ৮৯ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টের ২৩ দিনেই ১৭ জন বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মাস শেষ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফেনী সদর। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। দাগনভূঞায় ৩১ জন, সোনাগাজীতে ২২ জন, ছাগলনাইয়ায় ১১ জন, পরশুরামে ৮ জন এবং ফুলগাজীতে ৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাতেও ফেনী সদর এগিয়ে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকার কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদরে ১৩ জন, সোনাগাজীতে একজন ও ছাগলনাইয়ায় একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রতিবেদনে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৮১টি কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১ হাজার ১২৬টি, দাগনভূঞায় ২৭৫টি, সোনাগাজীতে ৭৩টি, ছাগলনাইয়ায় ১৪৪টি, পরশুরামে ১১৪টি এবং ফুলগাজীতে ১৪৯টি কিট রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফেনী পৌরসভার প্রস্তুতি নিয়ে পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা দৈনিক ফেনীকে জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনগুলো পরিষ্কারসহ প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয়। সবমিলিয়ে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই বেশি জোর দিচ্ছি।

ফেনীর সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, সম্প্রতি এডিস মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরাতে হবে। সকলকে সচেতন হতে হবে। জেলায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়লেও ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে জেলায় ১ হাজার ৮৮১ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।

দৈনিক ফেনী

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


ফেনীতে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের প্রায় অর্ধেকই আগস্টে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্তের চিত্রে আগস্টে এসে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। বছরের প্রথম সাত মাসে যেখানে ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে আগস্টের ২৩ দিনেই শনাক্ত হয়েছেন আরও ৮৯ জন। অর্থাৎ চলতি বছরে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১৯০ জন রোগীর প্রায় অর্ধেকই শনাক্ত হয়েছেন শুধু আগস্টে। এরই মধ্যে চলতি মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা গত জুলাইয়ের ৭২ জনকেও ছাড়িয়ে গেছে।

গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৭ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ফেনী সদরে সাতজন, দাগনভূঞায় দুজন, সোনাগাজীতে তিনজন ও ছাগলনাইয়ায় একজন রয়েছেন। পরশুরাম ও ফুলগাজীতে এ সময়ে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

চলতি আগস্টে শনাক্ত ৮৯ জনের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৫৮ জন, দাগনভূঞায় ৭ জন, সোনাগাজীতে ১৩ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন ও ফুলগাজীতে ৫ জন রয়েছেন। পরশুরামে চলতি মাসে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে জেলায় ১০১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টের প্রথম ২৩ দিনেই শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৯ জন। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছেন আগস্টের ২৩ দিনেই। আবার চলতি বছরের মোট ১৯০ আক্রান্তের মধ্যে ৮৯ জনই শনাক্ত হয়েছেন আগস্টে, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৪৭ শতাংশ।

গত জুলাই মাসে জেলায় ৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। চলতি আগস্টের ২৩ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ৮৯ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টের ২৩ দিনেই ১৭ জন বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মাস শেষ হওয়ার আগেই আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফেনী সদর। এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। দাগনভূঞায় ৩১ জন, সোনাগাজীতে ২২ জন, ছাগলনাইয়ায় ১১ জন, পরশুরামে ৮ জন এবং ফুলগাজীতে ৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাতেও ফেনী সদর এগিয়ে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকার কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদরে ১৩ জন, সোনাগাজীতে একজন ও ছাগলনাইয়ায় একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রতিবেদনে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৮১টি কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১ হাজার ১২৬টি, দাগনভূঞায় ২৭৫টি, সোনাগাজীতে ৭৩টি, ছাগলনাইয়ায় ১৪৪টি, পরশুরামে ১১৪টি এবং ফুলগাজীতে ১৪৯টি কিট রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফেনী পৌরসভার প্রস্তুতি নিয়ে পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা দৈনিক ফেনীকে জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনগুলো পরিষ্কারসহ প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয়। সবমিলিয়ে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই বেশি জোর দিচ্ছি।

ফেনীর সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন বলেন, সম্প্রতি এডিস মশার প্রজনন বেশি হচ্ছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরাতে হবে। সকলকে সচেতন হতে হবে। জেলায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়লেও ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে জেলায় ১ হাজার ৮৮১ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ফেনীতে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্তের প্রায় অর্ধেকই আগস্টে
0:00 0:00
1.0x