সাপের ছোবলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ফেনীর পরশুরামের তিন বছরের শিশু শাফায়েত হোসেন রাফাতের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষধর সাপের ছোবলে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে রাফাত।
রাফাত পরশুরাম উপজেলার উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবদুল আজিজ রুবেলের ছেলে। কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় তাদের বাড়ি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির রান্নাঘরে খেলছিল রাফাত। হঠাৎ ‘সাপ! সাপ!’ বলে চিৎকার করে ওঠে সে। ছেলের চিৎকার শুনে মা দৌড়ে গেলেও আশপাশে কোনো সাপ দেখতে পাননি। পরে শিশুটির বাম উরুর একটি অংশ ফুলে কালচে হয়ে যেতে দেখা যায়। এতে সাপের ছোবলের বিষয়টি নিশ্চিত হন স্বজনরা। দ্রুত তাকে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অ্যান্টিভেনমসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফাতের বারবার বমি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাফাতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
এর আগে দুপুর থেকে রাফাতের সংকটাপন্ন অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার, স্বজন ও নেটিজেনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এখন তার অবস্থার উন্নতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা জানান, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও শিশুটির শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ থাকায় তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। এখানে দ্বিতীয়বার অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের জন্য আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা না থাকায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।