ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্ত ৫৯৪, বাড়ছে উদ্বেগ



ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্ত ৫৯৪, বাড়ছে উদ্বেগ

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৯৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার (৯ নভেম্বর) সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৩ জন, দাগনভূঞায় ৫ জন ও ছাগলনাইয়ায় ১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

একই কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দাগনভূঞায় সর্বাধিক ২৯৭ জন, ফেনী সদর উপজেলায় ২১৭ জন, সোনাগাজীতে ১৯ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪০ জন, পরশুরামে ১৯ জন এবং ফুলগাজীতে ২ জনসহ জেলায় মোট ৫৯৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সদর উপজেলার ৮ জন, দাগনভূঞার ৮ জন ও ছাগলনাইয়ার ২ জন রোগীসহ মোট ১৮ জন।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, চলতি নভেম্বর মাসেই এখন পর্যন্ত নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯৬ জন। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় শনাক্ত হয়েছিল ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী। শুধু অক্টোবর মাসেই শনাক্ত হয় ২৯৭ জন। জুলাই মাসে শনাক্ত হয় ২৫ জন, আগস্টে ৪৯ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১২১ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৩৭১৯ টি কিট মজুত রয়েছে।

এদিকে আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গু শনাক্তে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। তারা বলছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শহরের মশাপ্রবণ এলাকা গুলোর পরিচ্ছন্নতা তৎপরতার সঙ্গে বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে শহরের নালা, খাল এবং জলাশয়ে জমে থাকা পানি দ্রুত ও নিয়মিতভাবে নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মশার প্রজনন রোধ করা যায়। পাশাপাশি মশা নিধনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করার দাবিও জানান তারা।

দাগনভূঞা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দিন দিন আমাদের উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আশেপাশের এলাকায় প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।

ফেনী সদরের বাসিন্দা আজহার বিন মুর্তজা নামে এক বাসিন্দা বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে মাঝে মাঝে এক-দুইজন আক্রান্তের খবর শোনা যেত, কিন্তু এখন প্রায় প্রতিটি এলাকায় কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছে। মশা নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯৬ জনে পৌঁছেছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। যথাযথ সেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পেতে নিজ নিজ বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা যায়।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্ত ৫৯৪, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৯৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার (৯ নভেম্বর) সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ৩ জন, দাগনভূঞায় ৫ জন ও ছাগলনাইয়ায় ১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

একই কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দাগনভূঞায় সর্বাধিক ২৯৭ জন, ফেনী সদর উপজেলায় ২১৭ জন, সোনাগাজীতে ১৯ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪০ জন, পরশুরামে ১৯ জন এবং ফুলগাজীতে ২ জনসহ জেলায় মোট ৫৯৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সদর উপজেলার ৮ জন, দাগনভূঞার ৮ জন ও ছাগলনাইয়ার ২ জন রোগীসহ মোট ১৮ জন।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা যায়, চলতি নভেম্বর মাসেই এখন পর্যন্ত নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯৬ জন। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় শনাক্ত হয়েছিল ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী। শুধু অক্টোবর মাসেই শনাক্ত হয় ২৯৭ জন। জুলাই মাসে শনাক্ত হয় ২৫ জন, আগস্টে ৪৯ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১২১ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৩৭১৯ টি কিট মজুত রয়েছে।

এদিকে আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গু শনাক্তে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। তারা বলছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে শহরের মশাপ্রবণ এলাকা গুলোর পরিচ্ছন্নতা তৎপরতার সঙ্গে বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে শহরের নালা, খাল এবং জলাশয়ে জমে থাকা পানি দ্রুত ও নিয়মিতভাবে নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মশার প্রজনন রোধ করা যায়। পাশাপাশি মশা নিধনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করার দাবিও জানান তারা।

দাগনভূঞা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দিন দিন আমাদের উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আশেপাশের এলাকায় প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।

ফেনী সদরের বাসিন্দা আজহার বিন মুর্তজা নামে এক বাসিন্দা বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে মাঝে মাঝে এক-দুইজন আক্রান্তের খবর শোনা যেত, কিন্তু এখন প্রায় প্রতিটি এলাকায় কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছে। মশা নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯৬ জনে পৌঁছেছে। তবে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। যথাযথ সেবা নিশ্চিতে আমরা কাজ করছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে পরিত্রাণ পেতে নিজ নিজ বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা যায়।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্ত ৫৯৪, বাড়ছে উদ্বেগ
0:00 0:00
1.0x