চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাওনা ৫ লাখ ১২ হাজার টাকা ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাছরিন সুলতানা লাভলী নামে এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মিরসরাই প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নাছরিন সুলতানা লাভলী উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের প্রবাসী আলা উদ্দিনের স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের সিরাজ উদ দৌলার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪২)-এর কাছে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে নাছরিন সুলতানা লাভলী বলেন, ২০২২ সালে তার স্বামী আলা উদ্দিনের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে তিন মাসের জন্য ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা নেন জাহাঙ্গীর আলম। পরে তিনি ১ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৫ লাখ ১২ হাজার টাকা আর পরিশোধ করেননি।
তিনি আরও বলেন, পাওনা টাকা ফেরতের জন্য জাহাঙ্গীর আলম ২০২৪ সালের ১২ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের ৪ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তবে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তাকে জানানোর পর থেকে তিনি ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা জজ অর্থ ঋণ আদালতে চেক সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে বলে জানান নাছরিন সুলতানা লাভলী। তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকে জাহাঙ্গীর আলম বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি কখনো আইনজীবী, কখনো সাংবাদিক, কখনো এনজিওকর্মী আবার কখনো ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাছরিন সুলতানা লাভলী আরও অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এসব মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে বাঁচতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারে আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
এদিকে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।