আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত করে গৌরবময় ও ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন ফেনী ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ। জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইন মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা ‘এশিয়া কাপ ২০২৬’-এ এশিয়ার ৮০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় দলকে পেছনে ফেলে সেরা ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে ফেনী ইউনিভার্সিটির দল। বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তারা জাপানে ওরাল সাবমিশনের (মৌখিক যুক্তিতর্ক) সুযোগ পায়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ‘সেকেন্ড র্যাঙ্কড মেমোরিয়াল’—অর্থাৎ দ্বিতীয় সেরা মেমোরিয়াল অর্জনে গৌরব অর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কৃতি শিক্ষার্থী মিরাজ হোসেন ও মো. কামরুজ্জামান জেহাদ।
জানা গেছে, মেমোরিয়াল ও কাউন্টার মেমোরিয়াল মূল্যায়নের ভিত্তিতে এশিয়ার শীর্ষ ১৬টি দলের অন্যতম হিসেবে টোকিওতে আমন্ত্রিত হয়ে তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রতিযোগিতার মূল পর্বে (Oral Rounds) অংশ নেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও বিচারকদের সরাসরি উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আয়োজনে ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত চমৎকার আইনি যুক্তিতর্ক বিচারকদের কাছে ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে গভীর সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফেনী ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দীন আহমেদ।
তিনি বলেন, “এশিয়া মহাদেশের ৮০টিরও বেশি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় দলকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহাসিক অর্জন সমগ্র দেশ ও ফেনী ইউনিভার্সিটির জন্য এক অসামান্য গৌরব। এই বিজয় প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধা ও আইনি দক্ষতায় যেকোনো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সমকক্ষ। আমি কৃতি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”
ফেনী ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর(অ্যাক্টিং) ড. মাসুদুল হক চৌধুরী অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “টোকিওর আন্তর্জাতিক মঞ্চে এশিয়া কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে মেমোরিয়ালে বাংলাদেশের নাম দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে আসা ফেনী ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। মিরাজ ও জেহাদের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”
দলটির কোচ ও আইন বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তাসনিম জাহান বলেন, “আন্তর্জাতিক বিচারকদের সমক্ষে আইনি মেধার সাক্ষ্য দিয়ে এশিয়া মহাদেশের দলগুলোর মধ্যে মেমোরিয়ালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা। তাদের এই কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্য আমাদের বিভাগ তথা পুরো দেশের আইনি শিক্ষায় এক নতুন প্রেরণা জোগাবে।”