ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ফেনীর আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) ফেনীতে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর কসকা এলাকায় এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার রৌশন ফকিরের মাজার এলাকায় ছাগলনাইয়া-বক্সমাহমুদ আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা দুটি ঘটেছে।
নিহতরা হলেন-ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন খোকন (৫৫) ও সদর উপজেলার দক্ষিণ ছনুয়া এলাকার মৃত মকবুল আহম্মদের ছেলে কবির হোসেন (৭২)।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কবির হোসেন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারে যাচ্ছিলেন। কসকা এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় কবির হোসেনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞাত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মহাসড়কে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একইদিন সকালে ছাগলনাইয়া উপজেলার মির্জার বাজার এলাকায় কৃষি জমি থেকে হঠাৎ সড়কে উঠে আসা একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষে একটি সিএনজি অটোরিকশা দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় সাহাব উদ্দিন খোকনসহ অটোরিকশাটির তিন যাত্রী আহত হন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক সাহাব উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য তিনজন হলেন-নিহত সাহাব উদ্দিনের ছেলে ইফাজ উদ্দিন (২২) ও ছাগলনাইয়ার শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের আবদুল হক (৬৩) এবং মহামায়া ইউনিয়নের পূর্ব দেবপুর গ্রামের লিজা আক্তার (৩৫)
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আশ্রাফ উদ্দিন বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন ছাগলনাইয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ মোস্তফা। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাক্টর চালক চৌদ্দগ্রাম এলাকার মো. হৃদয়কে (২১) প্রধান আসামি করে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় ফুলগাজীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হন। ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ কাউছার (৩২), ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠাননগরের কাজীবাড়ির ইতালিপ্রবাসী কাজী আজাদ হোসেনের স্ত্রী ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০) ও তার মা ফুলগাজী উপজেলার নূরের সফা মজুমদার সোহেলের স্ত্রী জাকিয়া আক্তার (৩৮)। এ ঘটনায় নিহত কাউছারের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পিকআপ চালকের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা করেছেন।
এর পরদিন ২৮ জুন ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজীর কুতুবপুর রাস্তার চারা বটগাছ এলাকায় দুইটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন।
এর আগে গত ২৪ জুন ফেনীতে দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রাকের হেলপার ও এক পথচারী প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি আহত হন। ওইদিন সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্টারলাইন পাম্প সংলগ্ন খোরশেদ আলম সওদাগর বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের ভূজপুরের সিকদার খিল গ্রামের ট্রাকচালক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আহসানুল ইসলাম (১৫)। তিনি ট্রাকের হেলপার ছিলেন। অন্যজন ফেনী সদর উপজেলার মধ্যম কাচাঁড় এলাকার ছন্দু মিয়ার ছেলে মীর হোসেন (৪৫)। এ ঘটনায় ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই এলাকার ভ্যানচালক মো. মোস্তফার ছেলে মো. সুমন (৪৫) আহত হয়েছেন।