ফেনী    রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো’



‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো’

“রাফার আব্বু ওঠো… রাফার আব্বু ওঠো! তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো? রাফা, আয়ানা আর আমার কী হইবো?” ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামীর নিথর দেহের অপেক্ষায় এভাবে বুকফাটা আহাজারি করছিলেন রুনা আক্তার।

মর্গের দরজার পাশে বসে বারবার তিনি বলতে থাকেন, “রাফার আব্বু ওঠো… রাফার কী হইবো, আয়ানার কী হইবো, আমার কী হইবো! তুমি না থাকলে তোমার মা আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে… তুমি তো কিছুই বলে গেলে না!” তার এই আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত স্বজন ও দর্শনার্থীরা।

রোববার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অ্যাম্বুলেন্স ও একটি বাসের সংঘর্ষে সড়কে জটলার সৃষ্টি হয়। সেই জটলার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি দ্রুতগামী বাস উঠে পড়লে ঘটনাস্থলে মোরশেদসহ তিনজন নিহত হন।

স্বজনরা জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দিতে এবং মেয়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন মোরশেদ। ছোট মেয়েকে সমুদ্র দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থেকে গেল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন মোরশেদ। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির একটি বাস এসে জটলার ওপর উঠে পড়ে। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্ত্রীর আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে চারপাশে। স্বামীর লাশ মর্গে, আর বাইরে স্ত্রীর বুকভাঙা কান্না; এ দৃশ্য নাড়া দেয় উপস্থিত সবাইকে।

মোরশেদ হোসেন ঢাকার বাংলামোটর এলাকার ফরহাদ অটো মার্কেটের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘মোরশেদ মটরস’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি আরও জানান, মাগরিবের পর ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ রংপুরের হারাগাছ থানায় তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো’

প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

featured Image

“রাফার আব্বু ওঠো… রাফার আব্বু ওঠো! তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো? রাফা, আয়ানা আর আমার কী হইবো?” ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামীর নিথর দেহের অপেক্ষায় এভাবে বুকফাটা আহাজারি করছিলেন রুনা আক্তার।

মর্গের দরজার পাশে বসে বারবার তিনি বলতে থাকেন, “রাফার আব্বু ওঠো… রাফার কী হইবো, আয়ানার কী হইবো, আমার কী হইবো! তুমি না থাকলে তোমার মা আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে… তুমি তো কিছুই বলে গেলে না!” তার এই আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত স্বজন ও দর্শনার্থীরা।

রোববার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অ্যাম্বুলেন্স ও একটি বাসের সংঘর্ষে সড়কে জটলার সৃষ্টি হয়। সেই জটলার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি দ্রুতগামী বাস উঠে পড়লে ঘটনাস্থলে মোরশেদসহ তিনজন নিহত হন।

স্বজনরা জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দিতে এবং মেয়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন মোরশেদ। ছোট মেয়েকে সমুদ্র দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থেকে গেল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন মোরশেদ। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির একটি বাস এসে জটলার ওপর উঠে পড়ে। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্ত্রীর আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে চারপাশে। স্বামীর লাশ মর্গে, আর বাইরে স্ত্রীর বুকভাঙা কান্না; এ দৃশ্য নাড়া দেয় উপস্থিত সবাইকে।

মোরশেদ হোসেন ঢাকার বাংলামোটর এলাকার ফরহাদ অটো মার্কেটের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘মোরশেদ মটরস’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি আরও জানান, মাগরিবের পর ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ রংপুরের হারাগাছ থানায় তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো’
0:00 0:00
1.0x