ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

ফেনীতে নিরাপদ খাদ্য তদারকিতে অপ্রতুল জনবল



ফেনীতে নিরাপদ খাদ্য তদারকিতে অপ্রতুল জনবল

পবিত্র রমজান মাসে জনবল ও যানবাহন সংকটে বাজার তদারকি করতে হিমশিম খাচ্ছে ফেনী জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়। জেলার ছয়টি উপজেলায় মাত্র তিনজনকে নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এতে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া খাবারের নমুনা পরীক্ষা করতে একটি ল্যাব থাকলেও জনবল না থাকায় কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে জেলা কর্মকর্তা, নমুনা সংগ্রহকারী ও অফিস সহায়ক—এই তিনটি পদে তিনজন কর্মরত আছেন। অতিরিক্ত কোনো জনবল না থাকায় বিস্তৃত এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা জানান, ফেনী পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের সহযোগিতায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে জনবলসংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।

সচেতন মহলের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে খোলা খাবার এবং ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনে ভেজাল ও খোলা খাবার বিক্রির ঘটনাও দেখা যায়। এতে কোমলমতি শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ভেজাল খাবার খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

একজন ক্রেতা বলেন, বাজারের ভালো দোকান থেকেও খাদ্যপণ্য কিনলে মনে সন্দেহ থাকে—খাবারটি নিরাপদ কি না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রং ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এসব ভেজাল উপাদান দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। উচ্চবিত্তরা আমদানিকৃত ও মানসম্মত পণ্যের দিকে ঝুঁকলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য তা সহজলভ্য নয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মহি উদ্দিন খোন্দকার বলেন, “রমজানে ফুটপাতে ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পোড়া তেলে ভাজা খাবার ও ক্ষতিকর রং ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। দৃশ্যমান তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ফেনী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বলেন, জনবল সংকট থাকলেও আমাদের কার্যক্রম বন্ধ নেই। সীমিত জনবল নিয়ে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। রমজান মাসে প্রতিদিন বাজার তদারকি করতে মাঠে নেমেছে দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ পর্যন্ত ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া খাবারের মান পরীক্ষার জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনায় কিছু বিচ্যুতি পাওয়ায় তা সংশোধনে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মুশফিকুর রহমান পিপুল জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম এ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি। তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করলে খাবারে ভেজাল রোধ করা সম্ভব হত। বাজারে জিলাপীসহ বিভিন্ন খাবারে ভেজাল রয়েছে।

 

 

 

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


ফেনীতে নিরাপদ খাদ্য তদারকিতে অপ্রতুল জনবল

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র রমজান মাসে জনবল ও যানবাহন সংকটে বাজার তদারকি করতে হিমশিম খাচ্ছে ফেনী জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়। জেলার ছয়টি উপজেলায় মাত্র তিনজনকে নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এতে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া খাবারের নমুনা পরীক্ষা করতে একটি ল্যাব থাকলেও জনবল না থাকায় কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে জেলা কর্মকর্তা, নমুনা সংগ্রহকারী ও অফিস সহায়ক—এই তিনটি পদে তিনজন কর্মরত আছেন। অতিরিক্ত কোনো জনবল না থাকায় বিস্তৃত এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা জানান, ফেনী পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের সহযোগিতায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে জনবলসংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।

সচেতন মহলের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে খোলা খাবার এবং ইফতার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনে ভেজাল ও খোলা খাবার বিক্রির ঘটনাও দেখা যায়। এতে কোমলমতি শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ভেজাল খাবার খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

একজন ক্রেতা বলেন, বাজারের ভালো দোকান থেকেও খাদ্যপণ্য কিনলে মনে সন্দেহ থাকে—খাবারটি নিরাপদ কি না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রং ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এসব ভেজাল উপাদান দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। উচ্চবিত্তরা আমদানিকৃত ও মানসম্মত পণ্যের দিকে ঝুঁকলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য তা সহজলভ্য নয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মহি উদ্দিন খোন্দকার বলেন, “রমজানে ফুটপাতে ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পোড়া তেলে ভাজা খাবার ও ক্ষতিকর রং ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। দৃশ্যমান তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে ফেনী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বলেন, জনবল সংকট থাকলেও আমাদের কার্যক্রম বন্ধ নেই। সীমিত জনবল নিয়ে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। রমজান মাসে প্রতিদিন বাজার তদারকি করতে মাঠে নেমেছে দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ পর্যন্ত ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া খাবারের মান পরীক্ষার জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনায় কিছু বিচ্যুতি পাওয়ায় তা সংশোধনে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মুশফিকুর রহমান পিপুল জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম এ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি। তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করলে খাবারে ভেজাল রোধ করা সম্ভব হত। বাজারে জিলাপীসহ বিভিন্ন খাবারে ভেজাল রয়েছে।

 

 

 


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ফেনীতে নিরাপদ খাদ্য তদারকিতে অপ্রতুল জনবল
0:00 0:00
1.0x