ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

সাউথইস্ট ব্যাংক কর্মকতার জালিয়াতি, উৎকণ্ঠায় গ্রাহক



সাউথইস্ট ব্যাংক কর্মকতার জালিয়াতি, উৎকণ্ঠায় গ্রাহক

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সাউথইস্ট ব্যাংক সিলোনিয়া বাজার শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের এফডিআর ও বিভিন্ন হিসাবে সঞ্চিত অর্থসহ গ্রাহকদের অন্তত ৫ কোটি টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সিলোনিয়া বাজার শাখায় ৮ বছর ধরে কর্মরত মোহাম্মদ জিয়াউল হক কিছুদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গতকাল সোমবার (৫ মে) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত মোহাম্মদ জিয়াউল হক জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম ফতেহনগর এলাকার সালমান হাজী বাড়ির আবদুল হকের ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাংকে জমাকৃত নিজেদের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলোনিয়া বাজার শাখায় আসতে শুরু করেন গ্রাহকরা। পরবর্তী এ ঘটনায় রোববার (৪ মে) ওই শাখা ঘুরে গেছেন সাউথইস্ট ব্যাংকের অডিট বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ভুক্তভোগী জায়লস্কর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী একে আজাদের সঙ্গে। দৈনিক ফেনীকে তিনি বলেন, ব্যাংকে জমাকৃত ৩২ লাখ টাকার হদিস মিলছে না। বিভিন্ন সময় আরটিজিএসের মাধ্যমে লেনদেন করতাম। মাঝে কোনো এক সময়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এ টাকা সরানো হয়েছে বলে ধারণা করছি।

একইভাবে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন এক ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমি আরটিজিএসের মাধ্যমে লেনদেন করিনি। চেকও হারানো যায়নি, তারপরও কীভাবে ব্যাংক হিসাব থেকে এ টাকা লোপাট হয়েছে জানি না। এ খবর শোনার পরপরই বেশিরভাগ প্রবাসীর স্ত্রীরা অর্থের সন্ধানে ব্যাংকে এসেছেন। আমরা দ্রুত টাকা ফেরত চাই। কিন্তু কখন পাবো তাও কর্তৃপক্ষ সরাসরি কিছু বলেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী ইমরান হোসেন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, গত ৩০ এপ্রিল আমার হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা লোপাট করে নিয়ে যান ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিষয়টি জানতে পেরে ১ মে ব্যাংক ম্যানেজার কামরুজ্জামানকে মুঠোফোনে বিস্তারিত জানিয়েছি। অডিট কর্মকর্তারা আসার পরে অভিযুক্ত ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী জয়নাল আবেদীনকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান বলে শুনতে পেয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা প্রসঙ্গে কথা হয় সাউথইস্ট ব্যাংক সিলোনিয়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অডিট কর্মকর্তারা ব্যাংক ঘুরে গেছেন। অডিট কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান চৌধুরী দৈনিক ফেনীকে বলেন, ঘটনাটি অবগত হয়ে ইতোমধ্যে ব্যাংকে অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। গ্রাহকদের অর্থের দায়ভার ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। এ ঘটনায় তাদের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


সাউথইস্ট ব্যাংক কর্মকতার জালিয়াতি, উৎকণ্ঠায় গ্রাহক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৫

featured Image

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সাউথইস্ট ব্যাংক সিলোনিয়া বাজার শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের এফডিআর ও বিভিন্ন হিসাবে সঞ্চিত অর্থসহ গ্রাহকদের অন্তত ৫ কোটি টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সিলোনিয়া বাজার শাখায় ৮ বছর ধরে কর্মরত মোহাম্মদ জিয়াউল হক কিছুদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে এ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গতকাল সোমবার (৫ মে) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত মোহাম্মদ জিয়াউল হক জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম ফতেহনগর এলাকার সালমান হাজী বাড়ির আবদুল হকের ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাংকে জমাকৃত নিজেদের সঞ্চিত অর্থ আত্মসাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে সিলোনিয়া বাজার শাখায় আসতে শুরু করেন গ্রাহকরা। পরবর্তী এ ঘটনায় রোববার (৪ মে) ওই শাখা ঘুরে গেছেন সাউথইস্ট ব্যাংকের অডিট বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ভুক্তভোগী জায়লস্কর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী একে আজাদের সঙ্গে। দৈনিক ফেনীকে তিনি বলেন, ব্যাংকে জমাকৃত ৩২ লাখ টাকার হদিস মিলছে না। বিভিন্ন সময় আরটিজিএসের মাধ্যমে লেনদেন করতাম। মাঝে কোনো এক সময়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এ টাকা সরানো হয়েছে বলে ধারণা করছি।

একইভাবে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করছেন এক ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, আমি আরটিজিএসের মাধ্যমে লেনদেন করিনি। চেকও হারানো যায়নি, তারপরও কীভাবে ব্যাংক হিসাব থেকে এ টাকা লোপাট হয়েছে জানি না। এ খবর শোনার পরপরই বেশিরভাগ প্রবাসীর স্ত্রীরা অর্থের সন্ধানে ব্যাংকে এসেছেন। আমরা দ্রুত টাকা ফেরত চাই। কিন্তু কখন পাবো তাও কর্তৃপক্ষ সরাসরি কিছু বলেনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী ইমরান হোসেন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, গত ৩০ এপ্রিল আমার হিসাব থেকে ৫০ লাখ টাকা লোপাট করে নিয়ে যান ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হক। বিষয়টি জানতে পেরে ১ মে ব্যাংক ম্যানেজার কামরুজ্জামানকে মুঠোফোনে বিস্তারিত জানিয়েছি। অডিট কর্মকর্তারা আসার পরে অভিযুক্ত ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী জয়নাল আবেদীনকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান বলে শুনতে পেয়েছি।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা প্রসঙ্গে কথা হয় সাউথইস্ট ব্যাংক সিলোনিয়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অডিট কর্মকর্তারা ব্যাংক ঘুরে গেছেন। অডিট কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান চৌধুরী দৈনিক ফেনীকে বলেন, ঘটনাটি অবগত হয়ে ইতোমধ্যে ব্যাংকে অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। গ্রাহকদের অর্থের দায়ভার ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। এ ঘটনায় তাদের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
সাউথইস্ট ব্যাংক কর্মকতার জালিয়াতি, উৎকণ্ঠায় গ্রাহক
0:00 0:00
1.0x