ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

বাণিজ্য মেলা নিয়ে ফেনীর ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ



বাণিজ্য মেলা নিয়ে ফেনীর ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে ফেনীতে অমর একুশে বইমেলা না হলেও শহরের ওয়াপদা মাঠে প্রতি বছরের মত বাণিজ্য মেলার সকল আয়োজন সম্পন্ন। মেলার পরিচালক ইসলাম খান পিন্টু জানান, উদ্বোধনের তারিখ চুড়ান্ত না হলেও সহসা তারিখ নির্ধারণ হবে। চলবে ত্রিশ দিন। তবে অতীতে মেলা একমাসের অনুমতি নিয়ে শুরু হলেও চলত আরও বেশি দিন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কখনোই মৌসুমী মেলাগুলোকে ভালোভাবে নিতে পারেন নি। তাদের দাবি, মেলা চলাকালীন আার্থিকভাবে বড় রকম ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। তাই মেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেন ক্ষতি..? এমন প্রশ্নের জবাবে বড় বাজারের মদিনা স্টোরের মালিক নুরুল আফসার বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে বড় রকম দেনা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন উৎপাত যোগ হয়েছে বাণিজ্য মেলা। মেলাগুলোতে অন্যতম আকর্ষণ থাকে কসমেটিকস। ক্রেতা সেখানেই ভিড় করে। সেখানে সবাই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী এবং নকল ও নিম্নমানের প্রসাধনী কম দামে বিক্রয় করে। কিন্তু কখনো অভিযান পরিচালনার খবর পাই না। তাছাড়া মেলা শেষে ক্রেতা যখন একই মোড়কের পণ্য কিনতে এসে উচ্চমূল্য দেখে, তখন কৈফিয়ত দিয়ে হয়রান হতে হয়।

মেলাতে আকর্ষণের অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস সামগ্রী, ব্যাগ ও নিত্য ব্যবহার্য কাঁচের পণ্য।

আসাদ উল্যাহ নামে একজন বেসরকারি কলেজ শিক্ষক বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণরোধে সরকারের সিদ্ধান্তে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু মেলাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় করে নারী ও শিশু-কিশোর।

জেবি সড়কে এলাহী কর্ণারের মালিক মনসুর উদ্দিন খান অভিযোগ করেন, মেলায় সবচেয়ে নিম্নমানের ব্যাগ সরবরাহ হয়ে থাকে। কারণ এসব ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কোনো ঠিকানা নেই, তাই জবাবদিহিতা নেই। কম দাম পেলেই ক্রেতা কিনতে শুরু করে। যারা এ শহরে নিয়ম-নীতি মেনে ব্যবসা করছে তাদের ক্ষতি করোনার ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

ফেনী এ্যালুমিনিয়ামের সত্ত্বাধিকারী সোহেল বলেন, মেলার দোকান বরাদ্দ নেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাননা। মেলার ব্যবসায়ীরা অধিকাংশই অন্য জেলার। তারা ফেনী থেকে টাকা কামিয়ে চলে যায়, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে হয় আমাদের। আমরা বহুবার মেলা আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানালেও কোন লাভ হচ্ছে না। ফেনীর ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এ সমস্ত মেলা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি ও ক্ষোভ প্রসঙ্গে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, করোনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব তলানীতে। মেলাগুলোতে ওয়ান টাইম প্রকৃতির পণ্যের পসরা বসে। ক্রেতা এসব নকল ও নিম্নমানের পণ্যে আকৃষ্ট থাকে। ফলে শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়ে ক্রেতাশূণ্য। তিনি অভিযোগ করেন, এ মেলায় স্থানীয় বা বাইরের কোন উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন না। তাদের পণ্যও এখানে প্রদর্শন করা হয় না।

মেলার জন্য এখনও লিখিত অনুমোদন প্রদান করা হয় নি বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান। দৈনিক ফেনীকে তিনি জানান, পুলিশ প্রতিবেদন হাতে এসেছে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে মেলার অনুমতি দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মেলা শুধু পণ্যের বেচাবিক্রি তা না, এটি একটি বিনোদনের মাধ্যম। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান হতে হস্তশিল্পসহ অনেক পণ্যের সমারোহ হবে। দেশের অনেকগুলো জেলাতেই এ মেলা চলছে।

ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়ে মেলার পরিচালক বলেন, এখানে যারা স্টল নেয় তারা ভাসমান এবং নিম্ন আয়ের মানুষ।
এক মাসের কথা বলা হলেও অনুমতির বাইরে আরও বেশিদিন মেলা চালু রাখা বিষয়ে তিনি বলেন, মেলা জমতে দশ হতে বারো দিন সময় পার হয়। মেলায় যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়, অবশিষ্ট দিনে পুঁজি উঠে আসে না। এ বছর করোনার কারণে মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেক ব্যবসায়ীর কাছে পুঁজি নেই। আমরা তাদের পুঁজি দিচ্ছি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেলা শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

মেলায় ৮০টি স্টল রয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা মেলা থেকে ব্যবসা করে ভাড়া পরিশোধ করেন।

অন্যদিকে বাণিজ্য মেলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মেলা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একুশে বই মেলা হচ্ছে না, কিন্তু ব্যবসার জন্য বাণিজ্য মেলা উন্মুক্ত হচ্ছে।

তাদেরই একজন ফেইসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাতে লিখেন, মানহীন রংচটা পণ্যে সয়লাব এই মেলার কারণে একদিকে যেমন ঠকছে ক্রেতারা, অন্যদিকে মাসের পর মাস চলা এই মেলায় চরম আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয় ফেনীর শত শত ব্যবসায়ীদের। করোনার এই প্রতিকূলতার মূহুর্তে ফেনীর ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে অন্তত এ বছর মেলা যেন বন্ধ রাখা হয় দাবি জানান তিনি।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


বাণিজ্য মেলা নিয়ে ফেনীর ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

featured Image

করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে ফেনীতে অমর একুশে বইমেলা না হলেও শহরের ওয়াপদা মাঠে প্রতি বছরের মত বাণিজ্য মেলার সকল আয়োজন সম্পন্ন। মেলার পরিচালক ইসলাম খান পিন্টু জানান, উদ্বোধনের তারিখ চুড়ান্ত না হলেও সহসা তারিখ নির্ধারণ হবে। চলবে ত্রিশ দিন। তবে অতীতে মেলা একমাসের অনুমতি নিয়ে শুরু হলেও চলত আরও বেশি দিন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কখনোই মৌসুমী মেলাগুলোকে ভালোভাবে নিতে পারেন নি। তাদের দাবি, মেলা চলাকালীন আার্থিকভাবে বড় রকম ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। তাই মেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কেন ক্ষতি..? এমন প্রশ্নের জবাবে বড় বাজারের মদিনা স্টোরের মালিক নুরুল আফসার বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে বড় রকম দেনা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন উৎপাত যোগ হয়েছে বাণিজ্য মেলা। মেলাগুলোতে অন্যতম আকর্ষণ থাকে কসমেটিকস। ক্রেতা সেখানেই ভিড় করে। সেখানে সবাই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী এবং নকল ও নিম্নমানের প্রসাধনী কম দামে বিক্রয় করে। কিন্তু কখনো অভিযান পরিচালনার খবর পাই না। তাছাড়া মেলা শেষে ক্রেতা যখন একই মোড়কের পণ্য কিনতে এসে উচ্চমূল্য দেখে, তখন কৈফিয়ত দিয়ে হয়রান হতে হয়।

মেলাতে আকর্ষণের অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস সামগ্রী, ব্যাগ ও নিত্য ব্যবহার্য কাঁচের পণ্য।

আসাদ উল্যাহ নামে একজন বেসরকারি কলেজ শিক্ষক বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণরোধে সরকারের সিদ্ধান্তে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। কিন্তু মেলাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় করে নারী ও শিশু-কিশোর।

জেবি সড়কে এলাহী কর্ণারের মালিক মনসুর উদ্দিন খান অভিযোগ করেন, মেলায় সবচেয়ে নিম্নমানের ব্যাগ সরবরাহ হয়ে থাকে। কারণ এসব ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের কোনো ঠিকানা নেই, তাই জবাবদিহিতা নেই। কম দাম পেলেই ক্রেতা কিনতে শুরু করে। যারা এ শহরে নিয়ম-নীতি মেনে ব্যবসা করছে তাদের ক্ষতি করোনার ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

ফেনী এ্যালুমিনিয়ামের সত্ত্বাধিকারী সোহেল বলেন, মেলার দোকান বরাদ্দ নেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাননা। মেলার ব্যবসায়ীরা অধিকাংশই অন্য জেলার। তারা ফেনী থেকে টাকা কামিয়ে চলে যায়, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে হয় আমাদের। আমরা বহুবার মেলা আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানালেও কোন লাভ হচ্ছে না। ফেনীর ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এ সমস্ত মেলা বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি ও ক্ষোভ প্রসঙ্গে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, করোনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব তলানীতে। মেলাগুলোতে ওয়ান টাইম প্রকৃতির পণ্যের পসরা বসে। ক্রেতা এসব নকল ও নিম্নমানের পণ্যে আকৃষ্ট থাকে। ফলে শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়ে ক্রেতাশূণ্য। তিনি অভিযোগ করেন, এ মেলায় স্থানীয় বা বাইরের কোন উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন না। তাদের পণ্যও এখানে প্রদর্শন করা হয় না।

মেলার জন্য এখনও লিখিত অনুমোদন প্রদান করা হয় নি বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজজামান। দৈনিক ফেনীকে তিনি জানান, পুলিশ প্রতিবেদন হাতে এসেছে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে মেলার অনুমতি দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, মেলা শুধু পণ্যের বেচাবিক্রি তা না, এটি একটি বিনোদনের মাধ্যম। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান হতে হস্তশিল্পসহ অনেক পণ্যের সমারোহ হবে। দেশের অনেকগুলো জেলাতেই এ মেলা চলছে।

ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়ে মেলার পরিচালক বলেন, এখানে যারা স্টল নেয় তারা ভাসমান এবং নিম্ন আয়ের মানুষ।
এক মাসের কথা বলা হলেও অনুমতির বাইরে আরও বেশিদিন মেলা চালু রাখা বিষয়ে তিনি বলেন, মেলা জমতে দশ হতে বারো দিন সময় পার হয়। মেলায় যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়, অবশিষ্ট দিনে পুঁজি উঠে আসে না। এ বছর করোনার কারণে মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেক ব্যবসায়ীর কাছে পুঁজি নেই। আমরা তাদের পুঁজি দিচ্ছি। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেলা শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

মেলায় ৮০টি স্টল রয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা মেলা থেকে ব্যবসা করে ভাড়া পরিশোধ করেন।

অন্যদিকে বাণিজ্য মেলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মেলা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একুশে বই মেলা হচ্ছে না, কিন্তু ব্যবসার জন্য বাণিজ্য মেলা উন্মুক্ত হচ্ছে।

তাদেরই একজন ফেইসবুকে প্রতিক্রিয়া জানাতে লিখেন, মানহীন রংচটা পণ্যে সয়লাব এই মেলার কারণে একদিকে যেমন ঠকছে ক্রেতারা, অন্যদিকে মাসের পর মাস চলা এই মেলায় চরম আর্থিক ক্ষতি গুনতে হয় ফেনীর শত শত ব্যবসায়ীদের। করোনার এই প্রতিকূলতার মূহুর্তে ফেনীর ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে অন্তত এ বছর মেলা যেন বন্ধ রাখা হয় দাবি জানান তিনি।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
বাণিজ্য মেলা নিয়ে ফেনীর ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
0:00 0:00
1.0x