ফেনীতে নিরক্ষরতার হার ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং সাক্ষরতার হার ৭৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহ গণনা প্রতিবেদন হতে এমন তথ্য মিলেছে। প্রতিবেদনে পৃথক তিনটি বয়সভিত্তিক সাক্ষরতার হারের তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২০ দশমিক ১৬ শতাশ নিরক্ষর, সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ১৯ দশমিক ২১ শতাংশ নিরক্ষর এবং ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ নিরক্ষর। জেলায় গড় নিরক্ষরতার দাঁড়ায় ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ।
জনশুমারি ও গৃহ গণনা ২০২২ এর প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল ২০২৪ সালে। সাক্ষরতা প্রসঙ্গে উল্লিখিত তথ্য আরও দেখা গেছে, নিরক্ষরতার হার জেলার গ্রামাঞ্চলে ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শহরে তা ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮৩ হাজার ১০১ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪২ জন নারী কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়নি।
একই সূত্রে, জেলার ১৫ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী ৩৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ পুরুষ এবং ২৯.৯১ শতাংশ নারী এসএসসি সমমান ও তদূর্ধ্ব শ্রেণি পাস করেছে। জেলায় মোট জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯৬ জন।
জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারি পরিচালক (অ.দা) ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহ গননা অনুযায়ী জাতীয় সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৮০। ফেনীতে সাক্ষরতার হার ৮০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জেলায় পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮২ দশমিক ৫৭ ও নারী সাক্ষরতার হার ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ। সাক্ষরতায় জেলার শীর্ষে রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা। এ উপজেলায় সাক্ষরতার হার ৮৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। সাক্ষরতার হারে জেলায় পিছিয়ে রয়েছে সোনাগাজী। এ উপজেলায় সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ছাগলনাইয়া সাক্ষরতার হার ৮১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ফুলগাজীতে সাক্ষরতার হার ৮১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, দাগনভূঞায় ৮০ দশমিক ১০ শতাংশ ও পরশুরামে ৭৯ দশমিক ২১।
সোনাগাজীতে জেলার সর্বনিম্ন সাক্ষরতার হার প্রসঙ্গে ফরিদ উদ্দীন আহাম্মদ জানান, নদী উপকুলের অনেক বাসিন্দা তাদের সন্তানদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করলে দারিদ্যের কারণে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। টাকার জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের বিভিন্ন কাজে দিয়ে দেন।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে ফেনীতে আলোচনা
বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ফেনীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নিশাত তাবাসসুম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিফাত আসমা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উল্লাহ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম ফাহাদ, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আদর এবং বিজয় সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম।
বক্তারা বলেন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু নিরক্ষরতা দূর করলেই হবে না, মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়িয়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, এ জন্য শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাক্ষরতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।