ফেনী    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

আগস্টে বছরের সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৪৫ জন

ফেনীতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের শীর্ষে সদর



ফেনীতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের শীর্ষে সদর
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে আগস্টে মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগ শনাক্ত করা হয়েছে আগস্ট মাসে। এ মাসে জেলায় মোট ১৪৫জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত জুলাই মাসে শনাক্ত করা হয়েছে ৭২ জন। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফেনী শহরে এডিস মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। বাসা-বাড়ির আশেপাশে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে সেখানে পানি না জমে থাকে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জেলায় ১ হাজার ৮৩৮ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে বারজন, দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ছাগলনাইয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন ও ফুলগাজী স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরের আট মাসে ফেনী সদরে ১৫৩ জন, দাগনভূঞায় ৩৫ জন, সোনাগাজীতে ২৩ জন, ছাগলনাইয়ায় ১৬ জন, পরশুরামে ১০ জন ও ফুলগাজীতে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮০৮টি কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৮৭২টি, দাগনভূঞায় ১৮১টি, সোনাগাজীতে ৬৪টি, ছাগলনাইয়ায় ১২৬টি, পরশুরামে ৪৫২টি এবং ফুলগাজীতে ১১৩টি কিট রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফেনী পৌরসভার প্রস্তুতি নিয়ে পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা দৈনিক ফেনীকে জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনগুলো পরিষ্কারসহ প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয়। সবমিলিয়ে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই বেশি জোর দিচ্ছি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এদিকে, মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় বাধ্য হয়ে একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা।

ডেঙ্গু চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।

দৈনিক ফেনী

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফেনীতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের শীর্ষে সদর

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফেনীতে আগস্টে মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগ শনাক্ত করা হয়েছে আগস্ট মাসে। এ মাসে জেলায় মোট ১৪৫জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত জুলাই মাসে শনাক্ত করা হয়েছে ৭২ জন। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফেনী শহরে এডিস মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। বাসা-বাড়ির আশেপাশে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে সেখানে পানি না জমে থাকে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জেলায় ১ হাজার ৮৩৮ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে। এসব কিট দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় আরও ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে বারজন, দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ছাগলনাইয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন ও ফুলগাজী স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরের আট মাসে ফেনী সদরে ১৫৩ জন, দাগনভূঞায় ৩৫ জন, সোনাগাজীতে ২৩ জন, ছাগলনাইয়ায় ১৬ জন, পরশুরামে ১০ জন ও ফুলগাজীতে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮০৮টি কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৮৭২টি, দাগনভূঞায় ১৮১টি, সোনাগাজীতে ৬৪টি, ছাগলনাইয়ায় ১২৬টি, পরশুরামে ৪৫২টি এবং ফুলগাজীতে ১১৩টি কিট রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফেনী পৌরসভার প্রস্তুতি নিয়ে পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা দৈনিক ফেনীকে জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনগুলো পরিষ্কারসহ প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয়। সবমিলিয়ে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানেই বেশি জোর দিচ্ছি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এদিকে, মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় বাধ্য হয়ে একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা।

ডেঙ্গু চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ফেনীতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের শীর্ষে সদর
0:00 0:00
1.0x