ফেনী    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

ফেনী শহরে আবদ্ধ জলাশয় ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা

এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি



এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি

ফেনীতে দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একইসঙ্গে ফেনী পৌরসভা এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে শহরের রামপুরে একটি আবদ্ধ জলাশয়ের পাশের কয়েকটি ভবনের বাসিন্দারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। অপরিচ্ছন্ন পুকুর, জমে থাকা পানি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় মানুষ।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের মাস্টার বাড়ির সামনে অবস্থিত একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। পুকুরটিতে আগাছা জন্মে মশার বংশ বিস্তারে উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরের বদ্ধ পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।

পুকুরটির পাশে রয়েছে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিনের বাড়ি ‘ইসলাম মঞ্জিল’, রফিক ম্যানশন, মাওলানা ম্যানশন ও হাজী ওহাব ভবনসহ বেশ কয়েকটি বাসাবাড়ি। জানা গেছে, পুকুরটির আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের ইতোমধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, তিনি ও তার বোন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের পাশ^বর্তী মাওলানা ম্যানশনের ভাড়াটিয়া ও আবদুল্লাহ স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী আরিফুর রহমান জানান, তিনি ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। রফিক ম্যানশনের ভাড়াটিয়া মোকসেদুর রহমান জানান, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ফেনী আলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ফেনী সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ রেদোয়ান জানান, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রামপুর এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুকুরের পানি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কোটি টাকা ব্যয়ের সিসি ঢালাই ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকমতো নিষ্কাশিত হয় না। ফলে রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। রামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই পানি জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে অনেক সময় বৃষ্টি না হলেও সড়কে পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সড়কে পানি জমে থাকায় মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা বাড়ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে।

একই সড়কে হাজী কেরামত জামে মসজিদের পাশের পুকুরের অবস্থাও নাজুক। পুকুরটিতে আগাছা জন্মে থাকায় এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, কিছুদিন আগেও তারা নামাজের জন্য এ পুকুরের পানিতে ওজু করতেন। বর্তমানে পুকুরটি আগাছা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া পুকুরটির পাশের একটি ড্রেন ভেঙে পুকুরের মধ্যে পড়ে গেছে। এতে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পুকুরটিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, এলাকার কেরামত আলী জামে মসজিদের পাশে ড্রেন ও রাস্তাটি তৎকালীন কাউন্সিলর ওমর ফারুকে সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের বন্যার পরে ড্রেনটি ভেঙ্গে পুকুরে পড়ে যায়। এটি মেরামতের জন্য পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বাসাবাড়ির ময়লা পানি গিয়ে জমছে পুকুরে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও গোহাডুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন খোন্দকার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া রামপুর হাজী সামছুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আশেকে এলাহী ও সহকারি শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা না করা হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়বে।

বিজয় সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, পৌরসভা এলাকায় ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা না করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে।

আতিকুর রহমান স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও ওষুধ ছিটানোর বা সচেতনতামূলক কাজ চোখে পড়ছে কম।

মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনী পৌর প্রশাসক মো. দিদারুল আলম জানান, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইদিন করে মোট ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি চলছে। মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই, সে লক্ষ্যে নিয়মিত মাইকিংও করা হচ্ছে।

ফেনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিন বলেন, প্রতিমাসে দুইবার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হয়। এছাড়া ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকে। যার ফলে মশা বিস্তার করতে পারে। এ ব্যাপারে পৌরসভা বিশেষ নজর রাখবে। পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত ফেনী পৌরসভা গড়তে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করেন তিনি।

আগস্টে শনাক্তের
হার প্রায় দ্বিগুণ


জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসের তুলনায় চলতি আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এদিকে, মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ফেনীতে মোট ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ আগস্টের ২৭ তারিখের মধ্যেই সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় বাধ্য হয়ে একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা।

ডেঙ্গু চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।

দৈনিক ফেনী

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীতে দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একইসঙ্গে ফেনী পৌরসভা এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে শহরের রামপুরে একটি আবদ্ধ জলাশয়ের পাশের কয়েকটি ভবনের বাসিন্দারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। অপরিচ্ছন্ন পুকুর, জমে থাকা পানি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় মানুষ।

গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের মাস্টার বাড়ির সামনে অবস্থিত একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। পুকুরটিতে আগাছা জন্মে মশার বংশ বিস্তারে উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরের বদ্ধ পানিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।

পুকুরটির পাশে রয়েছে রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিনের বাড়ি ‘ইসলাম মঞ্জিল’, রফিক ম্যানশন, মাওলানা ম্যানশন ও হাজী ওহাব ভবনসহ বেশ কয়েকটি বাসাবাড়ি। জানা গেছে, পুকুরটির আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের ইতোমধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, তিনি ও তার বোন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের পাশ^বর্তী মাওলানা ম্যানশনের ভাড়াটিয়া ও আবদুল্লাহ স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী আরিফুর রহমান জানান, তিনি ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। রফিক ম্যানশনের ভাড়াটিয়া মোকসেদুর রহমান জানান, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ফেনী আলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ফেনী সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ রেদোয়ান জানান, তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

রামপুর এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পুকুরের পানি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কোটি টাকা ব্যয়ের সিসি ঢালাই ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকমতো নিষ্কাশিত হয় না। ফলে রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। রামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই পানি জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে অনেক সময় বৃষ্টি না হলেও সড়কে পানি জমে থাকে। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সড়কে পানি জমে থাকায় মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা বাড়ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে।

একই সড়কে হাজী কেরামত জামে মসজিদের পাশের পুকুরের অবস্থাও নাজুক। পুকুরটিতে আগাছা জন্মে থাকায় এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, কিছুদিন আগেও তারা নামাজের জন্য এ পুকুরের পানিতে ওজু করতেন। বর্তমানে পুকুরটি আগাছা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এ ছাড়া পুকুরটির পাশের একটি ড্রেন ভেঙে পুকুরের মধ্যে পড়ে গেছে। এতে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকা পুকুরটিতে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, এলাকার কেরামত আলী জামে মসজিদের পাশে ড্রেন ও রাস্তাটি তৎকালীন কাউন্সিলর ওমর ফারুকে সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের বন্যার পরে ড্রেনটি ভেঙ্গে পুকুরে পড়ে যায়। এটি মেরামতের জন্য পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বাসাবাড়ির ময়লা পানি গিয়ে জমছে পুকুরে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ও গোহাডুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন খোন্দকার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া রামপুর হাজী সামছুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আশেকে এলাহী ও সহকারি শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম তুহিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা না করা হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়বে।

বিজয় সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, পৌরসভা এলাকায় ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা না করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে।

আতিকুর রহমান স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভা থেকে আমরা প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও ওষুধ ছিটানোর বা সচেতনতামূলক কাজ চোখে পড়ছে কম।

মশক নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ফেনী পৌর প্রশাসক মো. দিদারুল আলম জানান, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইদিন করে মোট ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি চলছে। মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই, সে লক্ষ্যে নিয়মিত মাইকিংও করা হচ্ছে।

ফেনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুদ্দিন বলেন, প্রতিমাসে দুইবার মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করা হয়। এছাড়া ফেনী পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনা অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকে। যার ফলে মশা বিস্তার করতে পারে। এ ব্যাপারে পৌরসভা বিশেষ নজর রাখবে। পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত ফেনী পৌরসভা গড়তে সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করেন তিনি।

আগস্টে শনাক্তের
হার প্রায় দ্বিগুণ


জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসের তুলনায় চলতি আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এদিকে, মশক নিধনে পর্যাপ্ত কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়লেও স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ফেনীতে মোট ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। অথচ আগস্টের ২৭ তারিখের মধ্যেই সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ জনে। আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বাড়ায় বাধ্য হয়ে একই ওয়ার্ডে গাদাগাদি করে সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর এই অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা।

ডেঙ্গু চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে ফেনী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আরও সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, তাই পরীক্ষা বা চিকিৎসায় কোনো সংকট হবে না।



দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি
0:00 0:00
1.0x