ফেনী    সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

গৃহবধূকে জিম্মি করে লুটের ঘটনায় জড়িত চক্র শনাক্ত

ভ্যানচালকের পরিকল্পনায় মহিপালের সেই বাসায় দুর্ধর্ষ লুট



ভ্যানচালকের পরিকল্পনায় মহিপালের সেই বাসায় দুর্ধর্ষ লুট

ফেনীর মহিপালে প্রবাসীর বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সোহেল নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সোহেল লুট করা রেহান ম্যানশনের পাশের একটি ভবনের ভাড়াটিয়া। লুটের এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করেছে রেহান ম্যানশনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সজীবের স্ত্রী ফাতেমা। সজীব গ্রেপ্তার হওয়া ভ্যানচালক সোহেলের ছোট ভাই। এছাড়া লুটের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকেও শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সোহেল নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সাথে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত লুটে জড়িত ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর সোহেল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। তবে সে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়নি। পরে সোহেলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ডে তার কাছ থেকে পুলিশ এ ঘটনার ব্যাপারে অনেক তথ্য পেয়েছে। তার সঙ্গে লুটে জড়িত ওই দুই ব্যক্তির যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় চুরিতে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্তকারী একটি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে সাদা শার্ট গায়ে মাথায় সাদা টুপি পরিহিত ব্যক্তির বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। সে একজন মাছ ব্যবসায়ী। খুলনা থেকে চিংড়ি মাছ এনে সে ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজারে ভ্যানগাড়ি চালকদের কাছে বিক্রি করত। মোহাম্মদ আলী বাজারে ওই ব্যক্তির একটি দোকান রয়েছে। গ্রেপ্তার সোহেল তার কাছ থেকে চিংড়ি মাছ কিনে ফেনীতে ভ্যানগাড়ি করে বিক্রি করতেন। ওই সুবাদে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা প্রায় চার মাস ধরে রেহান ম্যানশনের ওই প্রবাসীর বাসায় চুরির পরিকল্পনা করছিল। গত ১৯ এপ্রিলও ওই বাসায় চুরির চেষ্টা চালায় তারা। তবে তা সফল হয়নি। ওই সময়ও তারা দুইজন এসেছিল।

লুটে জড়িত টি-শার্ট ও মাথায় নীল রঙের ক্যাপ পরিহিত অপর ব্যক্তির বাড়ি লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। শনাক্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ লক্ষীপুরে অভিযান চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলি আহাদ জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে, গত ১৯ আগস্ট সকালে শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামানের বাসায় দুর্ধর্ষ লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার জানান, বাসায় ঢুকে ওই দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে মুখ চেপে বাথরুমে আটকে রাখে। এ ঘটনার পরদিন দেশে আসার পর ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামান। তিনি বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

ওইদিনের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে টি-শার্ট ও নীল ক্যাপ পরিহিত একজন এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সাদা টুপি ও শার্ট পরিহিত আরেকজন রেহান ম্যানশনের সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন। ফুটেজের সময় অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে তারা দ্বিতীয় তলায় উঠে বাসার কলিংবেল চাপ দেন। শাহানা আক্তার দরজা খুললে টুপি পরিহিত ব্যক্তি তাকে মুখ চেপে ধরে ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে যান।

ফুটেজে তাদের দুজনকে বাসায় প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। পরে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তারা বাসার দরজা খুলে বের হয়ে যান। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডে তাদের ওই ভবন থেকে বের হতে দেখা যায়।

রয়েছে ভাড়াটিয়া
পরিবারের যোগসাজশ

তদন্তকারী সূত্র বলছে, লুটের ঘটনায় রেহান ম্যানশনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পরিবারের যোগসাজশ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) রেহান ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির তৃতীয় তলায় অভিযুক্ত ফাতেমার বাসায় তালা ঝুলছে।


জানা গেছে, রেহান ম্যানশন নির্মাণের শুরু থেকে তৃতীয় তলায় চার বছর ধরে ভাড়া থাকে সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। সজীব গ্রেপ্তারকৃত সোহেলের আপন ভাই। সে ফেনীর মহিপালে ফলমণ্ডিতে শ্রমিকের কাজ করে। তাদের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে। তারা ছোটবেলা থেকেই ফেনীতে বসবাস করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ফাতেমা তাদের বাসায় নিয়মিত আসা যাওয়া করত। সেই সুবাদে ফাতেমার সঙ্গে ওই পরিবারটির সঙ্গে সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই ফাতেমা পরিবারটির অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার কোথায় রাখা আছে জানত। তারাই এ ঘটনার নেপথ্যের পেছনে জড়িত।

তদন্তকারী সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ফাতেমার সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তি দেখা করতে ভবনের তৃতীয় তলায় গেছে। তারা লুট করতে প্রবাসীর বাসায় ঢুকলে ফাতেমাকে ছাদে গিয়ে চারপাশে নজর রাখতে দেখা গেছে। ওইদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে সামনের টিনশেড কলোনি থেকে ফাতেমার মা তার সঙ্গে দেখা করতে ওই বাসায় আসে। তখন ওই দুই ব্যক্তি প্রবাসীর বাসায় লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। ফাতেমার মা বাসায় প্রবেশের ৫মিনিট পরে সিসিটিভি ফুটেজে ওই দুই ব্যক্তিকে বাসা থেকে বের হয়ে তাদের আদর্শ হাউজিংয়ের রাস্তা দিয়ে পাঁচগাছিয়ার দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তখনও ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার বাথরুমে আটকে ছিলেন। তিনি এসময় বাঁচার জন্য ‘ও ফাতেমা, ও সজীব’ বলে চিৎকার করছিলেন। ফাতেমা তা শুনতে পেয়েও বের হয়নি। পরে লুটের পর ওই দুই ব্যক্তি নিরাপদে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সকাল ৯টা ৯মিনিটের দিকে ফাতেমা ওই বাসায় গিয়ে গৃহবধূ শাহানা আক্তারকে উদ্ধার করে এবং তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নার অভিনয় শুরু করে। পরে ফোনকলে বিষয়টি প্রবাসী নুরেরজ্জামানকে জানায়।এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাতেমার স্বামী সবীজকে আটক করলেও তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

সম্পর্কের সুযোগ নিয়েছে-
বলছে ভুক্তভোগী পরিবার

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামান জানান, ভ্যানচালক সোহেল এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। সে আমাদের ভবনের পাশের জার্মানী ভবনে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে। সে আমার তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সজীবের বড় ভাই। এ ঘটনায় জড়িত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হলে পুলিশের কাছে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে আদালতে সে স্বীকারোক্তি দেয়নি। এর আগেও সোহেল মহিপালে নানা অপকর্মে জড়িত ছিল বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনার দশদিন পেরিয়ে গেছে। ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

তিনি আরও জানান, সোহেলর ছোট ভাই সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমাদের বাসার তৃতীয় তলায় গত ৪ বছর ধরে ভাড়া থাকে। তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। আমি প্রবাসে থাকায় সজীব বাসার বিভিন্ন কাজকর্ম দেখাশুনা করতেন। তার স্ত্রী ফাতেমা নিয়মিত আমার বাসায় আসা-যাওয়া করত। আমাদের পরিবার ও আর্থিক বিষয়াদি সম্পর্কেও তারা জানত। পরিবারটিকে বিভিন্ন সময় আমরা সাহায্য-সহযোগিতা করে এসেছি। তারা নিয়মিত ভাড়া না দিলেও মানবিকতার খাতিরে বিষয়টি বিবেচনা করা হত। সজীবের বড় ভাই সোহেলের পরিকল্পনায় ও ফাতেমার সহযোগিতায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তারা আমাদের এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েছে।

দৈনিক ফেনী

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


ভ্যানচালকের পরিকল্পনায় মহিপালের সেই বাসায় দুর্ধর্ষ লুট

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীর মহিপালে প্রবাসীর বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সোহেল নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সোহেল লুট করা রেহান ম্যানশনের পাশের একটি ভবনের ভাড়াটিয়া। লুটের এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করেছে রেহান ম্যানশনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সজীবের স্ত্রী ফাতেমা। সজীব গ্রেপ্তার হওয়া ভ্যানচালক সোহেলের ছোট ভাই। এছাড়া লুটের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকেও শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সোহেল নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সাথে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত লুটে জড়িত ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর সোহেল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। তবে সে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়নি। পরে সোহেলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ডে তার কাছ থেকে পুলিশ এ ঘটনার ব্যাপারে অনেক তথ্য পেয়েছে। তার সঙ্গে লুটে জড়িত ওই দুই ব্যক্তির যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় চুরিতে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্তকারী একটি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জড়িত ওই দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে সাদা শার্ট গায়ে মাথায় সাদা টুপি পরিহিত ব্যক্তির বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। সে একজন মাছ ব্যবসায়ী। খুলনা থেকে চিংড়ি মাছ এনে সে ফেনীর মোহাম্মদ আলী বাজারে ভ্যানগাড়ি চালকদের কাছে বিক্রি করত। মোহাম্মদ আলী বাজারে ওই ব্যক্তির একটি দোকান রয়েছে। গ্রেপ্তার সোহেল তার কাছ থেকে চিংড়ি মাছ কিনে ফেনীতে ভ্যানগাড়ি করে বিক্রি করতেন। ওই সুবাদে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা প্রায় চার মাস ধরে রেহান ম্যানশনের ওই প্রবাসীর বাসায় চুরির পরিকল্পনা করছিল। গত ১৯ এপ্রিলও ওই বাসায় চুরির চেষ্টা চালায় তারা। তবে তা সফল হয়নি। ওই সময়ও তারা দুইজন এসেছিল।

লুটে জড়িত টি-শার্ট ও মাথায় নীল রঙের ক্যাপ পরিহিত অপর ব্যক্তির বাড়ি লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জে। শনাক্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ লক্ষীপুরে অভিযান চালায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলি আহাদ জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে, গত ১৯ আগস্ট সকালে শহরের মহিপাল মুসলিম ভূঁইয়া বাড়ির রেহান ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামানের বাসায় দুর্ধর্ষ লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার জানান, বাসায় ঢুকে ওই দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে মুখ চেপে বাথরুমে আটকে রাখে। এ ঘটনার পরদিন দেশে আসার পর ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামান। তিনি বাসা থেকে নগদ ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

ওইদিনের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে টি-শার্ট ও নীল ক্যাপ পরিহিত একজন এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সাদা টুপি ও শার্ট পরিহিত আরেকজন রেহান ম্যানশনের সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন। ফুটেজের সময় অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে তারা দ্বিতীয় তলায় উঠে বাসার কলিংবেল চাপ দেন। শাহানা আক্তার দরজা খুললে টুপি পরিহিত ব্যক্তি তাকে মুখ চেপে ধরে ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে যান।

ফুটেজে তাদের দুজনকে বাসায় প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। পরে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তারা বাসার দরজা খুলে বের হয়ে যান। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডে তাদের ওই ভবন থেকে বের হতে দেখা যায়।

রয়েছে ভাড়াটিয়া
পরিবারের যোগসাজশ

তদন্তকারী সূত্র বলছে, লুটের ঘটনায় রেহান ম্যানশনের তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া পরিবারের যোগসাজশ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) রেহান ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির তৃতীয় তলায় অভিযুক্ত ফাতেমার বাসায় তালা ঝুলছে।


জানা গেছে, রেহান ম্যানশন নির্মাণের শুরু থেকে তৃতীয় তলায় চার বছর ধরে ভাড়া থাকে সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার। সজীব গ্রেপ্তারকৃত সোহেলের আপন ভাই। সে ফেনীর মহিপালে ফলমণ্ডিতে শ্রমিকের কাজ করে। তাদের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে। তারা ছোটবেলা থেকেই ফেনীতে বসবাস করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ফাতেমা তাদের বাসায় নিয়মিত আসা যাওয়া করত। সেই সুবাদে ফাতেমার সঙ্গে ওই পরিবারটির সঙ্গে সু-সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই ফাতেমা পরিবারটির অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার কোথায় রাখা আছে জানত। তারাই এ ঘটনার নেপথ্যের পেছনে জড়িত।

তদন্তকারী সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ফাতেমার সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তি দেখা করতে ভবনের তৃতীয় তলায় গেছে। তারা লুট করতে প্রবাসীর বাসায় ঢুকলে ফাতেমাকে ছাদে গিয়ে চারপাশে নজর রাখতে দেখা গেছে। ওইদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে সামনের টিনশেড কলোনি থেকে ফাতেমার মা তার সঙ্গে দেখা করতে ওই বাসায় আসে। তখন ওই দুই ব্যক্তি প্রবাসীর বাসায় লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। ফাতেমার মা বাসায় প্রবেশের ৫মিনিট পরে সিসিটিভি ফুটেজে ওই দুই ব্যক্তিকে বাসা থেকে বের হয়ে তাদের আদর্শ হাউজিংয়ের রাস্তা দিয়ে পাঁচগাছিয়ার দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তখনও ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহানা আক্তার বাথরুমে আটকে ছিলেন। তিনি এসময় বাঁচার জন্য ‘ও ফাতেমা, ও সজীব’ বলে চিৎকার করছিলেন। ফাতেমা তা শুনতে পেয়েও বের হয়নি। পরে লুটের পর ওই দুই ব্যক্তি নিরাপদে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সকাল ৯টা ৯মিনিটের দিকে ফাতেমা ওই বাসায় গিয়ে গৃহবধূ শাহানা আক্তারকে উদ্ধার করে এবং তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নার অভিনয় শুরু করে। পরে ফোনকলে বিষয়টি প্রবাসী নুরেরজ্জামানকে জানায়।এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাতেমার স্বামী সবীজকে আটক করলেও তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

সম্পর্কের সুযোগ নিয়েছে-
বলছে ভুক্তভোগী পরিবার

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. নুরেরজ্জামান জানান, ভ্যানচালক সোহেল এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। সে আমাদের ভবনের পাশের জার্মানী ভবনে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে। সে আমার তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া সজীবের বড় ভাই। এ ঘটনায় জড়িত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হলে পুলিশের কাছে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে আদালতে সে স্বীকারোক্তি দেয়নি। এর আগেও সোহেল মহিপালে নানা অপকর্মে জড়িত ছিল বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনার দশদিন পেরিয়ে গেছে। ঘটনার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

তিনি আরও জানান, সোহেলর ছোট ভাই সজীব ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমাদের বাসার তৃতীয় তলায় গত ৪ বছর ধরে ভাড়া থাকে। তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। আমি প্রবাসে থাকায় সজীব বাসার বিভিন্ন কাজকর্ম দেখাশুনা করতেন। তার স্ত্রী ফাতেমা নিয়মিত আমার বাসায় আসা-যাওয়া করত। আমাদের পরিবার ও আর্থিক বিষয়াদি সম্পর্কেও তারা জানত। পরিবারটিকে বিভিন্ন সময় আমরা সাহায্য-সহযোগিতা করে এসেছি। তারা নিয়মিত ভাড়া না দিলেও মানবিকতার খাতিরে বিষয়টি বিবেচনা করা হত। সজীবের বড় ভাই সোহেলের পরিকল্পনায় ও ফাতেমার সহযোগিতায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে তারা আমাদের এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েছে।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ভ্যানচালকের পরিকল্পনায় মহিপালের সেই বাসায় দুর্ধর্ষ লুট
0:00 0:00
1.0x