চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফে যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে দুই ভাইকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে। ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনায় সুজন মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছোট ভাই শরিফ মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জ এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহত দুই ভাই কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা দুজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক।
আহত শরিফ মিয়ার দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাদের টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাদের কুপিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ছিনতাইকারীরা আমাকে একদিকে এবং আমার ভাই সুজনকে অন্যদিকে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রাতভর খোঁজ করেও সুজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে মুহুরীগঞ্জ এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সুজনের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠেন সুজন ও শরিফ। বগিতে জায়গা না থাকায় তারা ট্রেনের ছাদে ওঠেন। রাতে ট্রেনটি মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ঝাপটে ধরেন বলে দাবি করেন শরিফ।
রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদুর রহমান বলেন, নিহত সুজনের মাথায় বড় ধরনের জখমের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি ছিনতাই, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে।