ফেনীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ইউএনও কার্যালয়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আইয়ুব আলী, সদস্য সচিব কাজী কামরুল, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর নবী মেম্বার, লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রিপন মেম্বার, ছনুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, ফাজিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক ও মোটবী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মসূচিতে ফেনী সদর উপজেলায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে অনিয়ম ও পক্ষপাতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তারা বিতর্কিত নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, ফেনী সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুমারিকালীন তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাওয়া বৈধ আবেদনকারীদের শিক্ষা সনদ, অন্যান্য দলিলপত্র যাচাই-বাছাই, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত, রিজার্ভ ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বালিগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাজী কামরুল বলেন, সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই অচেনা। আমাদের অনেক শিক্ষিত ছেলে পরীক্ষা দিলেও নাম আসেনি। নিয়োগকৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের পোলিং এজেন্ট ছিল এমন লোকজনও আছে। এমন দলীয় লোক নিয়োগ না দিয়ে আমরা চাচ্ছি দলের বাইরে শিক্ষিত ছেলেদের নিয়োগ দিতে। এই পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। আমরা উপজেলায় গিয়ে ইউএনও'কে পাইনি। আমাদের কর্মসূচির কথা জেনে তিনি আগেই অফিস থেকে চলে গেছেন। আজকের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল, তবে প্রতিকার না পেলে পরবর্তী আরও কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। আগামী রোববার আমাদের প্রতিনিধি দল ইউএনও'র সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দেবেন।
লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম বলেন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে নানা অনিয়ম করায় আমরা সদর উপজেলা ১২টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকরা মিলে এ কর্মসূচি দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বঞ্চিত বেশ কিছু পরীক্ষার্থীও ছিলেন। বিতর্কিত এই নিয়োগের ফলাফল বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ দিতে হবে।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশাসনের লোকজন আবার আওয়ামী লীগের লোকদের প্রতিষ্ঠিত করছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়মের বিষয়ে আমরা স্থানীয় এমপিকে অবহিত করেছি। পরবর্তী এমপি বলেছেন, ডিসি-ইউএনও কথা শুনছেন না।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তো আমাদের দমিয়ে রাখা যায় না। সেই হিসেবে কিছু কিছু ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাসহ বঞ্চিতরা উপজেলায় গিয়ে মিছিল করেছেন। শিগগিরই বিষয়টি সমাধান বা সুরাহা না হলে একবার যেহেতু বিক্ষোভ মিছিল হয়ে গেছে সেক্ষেত্রে পরবর্তীতেও আরও কর্মসূচির দিকে যাবে। এগুলো দাবিয়ে রাখা যায় না।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, জাতীয় পর্যায়ের 'ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা' অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে সকল কাজ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সবসময় সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে সভাও করেছেন। যারা আবেদন করেছেন, তাদের মধ্য থেকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দলীয় লোকজন, বিশেষ ব্যক্তির তালিকা অনুযায়ী নিয়োগ বা অনিয়মসহ যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়। নিয়োগ কমিটি মেধার ভিত্তিতে ও জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া মাত্র ৪৫ দিনের এমন একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও যদি এত অভিযোগ থাকে তাহলে তো সমস্যা। সবকিছু মিলিয়ে এমন কাণ্ড আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।
মিছিলের খবর পেয়ে অফিস থেকে চলে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, আমি তখন অফিসে ছিলাম না। পূর্ব নির্ধারিত সভায় যোগ দিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলাম। মিছিলকারীদের পক্ষ থেকেও এসব অভিযোগ নিয়ে আমাকে ফোনকল বা লিখিতভাবে জানানো হয়নি। পরবর্তী ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বলে শুনেছি। তাদের মধ্যে ২-৩ জন সন্ধ্যায় আমার অফিসে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। তারা এটি ঠিক করেননি বলেও মন্তব্য করেছেন।