ফেনী    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি



শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি
ছবি: দৈনিক ফেনী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এম এ জাহেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীর করা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। এ ঘটনায় তাকে অন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৩ আগস্ট) ফুলগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী লিখিতভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ ফাতিমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ১৬ জুলাই তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা উঠে আসায় ২১ জুলাই প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাস্টার আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, পাঁচ ছাত্রীর করা অভিযোগ তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এম এ জাহেদ চৌধুরী এর আগে দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জিএমহাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেসব অভিযোগ ওই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসেনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক পদায়ন থাকলেও একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান এবং অপর একজন প্রশিক্ষণে থাকায় মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক এম এ জাহেদ চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্তে আমি যথাযথভাবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছি।

ফুলগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ২ আগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে আমজাদহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দেবীপুর ফেরদৌস আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৩১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল ৫ আগস্টের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তবে তিনি মূল কর্মস্থল থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন।

দৈনিক ফেনী

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এম এ জাহেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীর করা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। এ ঘটনায় তাকে অন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৩ আগস্ট) ফুলগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী লিখিতভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ ফাতিমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ১৬ জুলাই তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা উঠে আসায় ২১ জুলাই প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাস্টার আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, পাঁচ ছাত্রীর করা অভিযোগ তদন্তে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এম এ জাহেদ চৌধুরী এর আগে দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জিএমহাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেসব অভিযোগ ওই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসেনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে তিনি জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক পদায়ন থাকলেও একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান এবং অপর একজন প্রশিক্ষণে থাকায় মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক এম এ জাহেদ চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্তে আমি যথাযথভাবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছি।

ফুলগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ২ আগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে আমজাদহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দেবীপুর ফেরদৌস আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ৩১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল ৫ আগস্টের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তবে তিনি মূল কর্মস্থল থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ ছাত্রীর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তি
0:00 0:00
1.0x