ছাগলনাইয়ায় ফেনী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও প্রশাসনের জব্দ করা বালু ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি মো. আলমগীর হোসেন সিদ্দিকীকে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে শাহজাহানপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আলমগীর সিদ্দিকী ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর লাংগলমোড়ো গ্রামের আমির হোসেন লাকীর ছেলে। তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুলাই ছাগলনাইয়ায় ফেনী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন এবং জব্দ করা বালু ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতা রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপুসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের অভিযোগ, তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় পরে রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার টিপু বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলায় আলমগীর হোসেন সিদ্দিকীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব ঘটনার পর বিগত কয়েক দিন ধরে ছাগলনাইয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির আশঙ্কায় গত ২৯ জুলাই পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করে। তবে শেষ পর্যন্ত সেদিন কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ফেনী জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সিডিএমএস পর্যালোচনায় আলমগীর হোসেন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় আরও একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর অধীনে করা মামলাও রয়েছে।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের বলেন, ঢাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতা টিপুর দায়েরকৃত হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি আলমগীর হোসেন সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, বালু চুরিসহ আরও পাঁচটি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।