ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি পরশুরামে মৃদুল রাণীর



 রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি পরশুরামে মৃদুল রাণীর

‎প্রতি বছর বর্ণাঢ্য আয়োজন উৎসবে পালন করা হয় মহান স্বাধীনতা দিবস। এ সবুজ ভূখন্ডকে একটো স্বাধীন রাখতে পরিণত করতে যারা অবদান রেখেছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি সমাজ ও রাষ্ট্র। তাদেরই একজন পরশুরামের মৃদুল রানী রায়। ভারত সীমান্তবর্তী বাউরপাথর গ্রামের দাড়িকানাথ চৌধুরীর মেয়ে মৃদুল রাণী তখন কিশোরী।

‎১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট। বিলোনিয়ার আমজাদনগরে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত একটি ঘাঁটি। বাবার সহায়তায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করে দিতেন মৃদুল রাণী। সকাল বেলা বাড়ি থেকে আমজাদ নগরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর পুঁতে রাখা একটি মাইনের উপরে পা পড়লে সাথে সাথে তার ডান পায়ের দুই তৃতীয়াংশ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে মৃদুল রাণীর জীবনের সাথে যুক্ত হয়ে যায় পঙ্গু প্রত্যয়টি। ভারতের বিলোনিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর আশ্রয় নেন শরণার্থী শিবিরে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর শেষ হয়েছে। যুদ্ধাহত মৃদুল রাণীর ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ বহু মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি পাননি মৃদুল। মৃদুল রানের স্বামী আনন্দ রায় শারীরিকভাবে অসুস্থ। বাড়ির পাশে একটি ছোট চা দোকান দিয়ে কিছু আয় করার চেষ্টা করেন। সেই টাকায় যোগান পরিবারের ভরণপোষণ। দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অপর ছেলে অনিক রায় (২৪) বাবাকে তার কাছে সাহায্য করেন।

‎মৃদুল রানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পা হারানোর পর কেউ বিয়ে করতে চায়নি। ৪১ বছর পর বিয়ে হয়। অনেকের কাছে সহযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য গিয়েছি, কেউই সহযোগিতা করেনি। কত মানুষ কত কথা বলেছে, কেউ কথা রাখেনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটির এখন শুধু একটাই অপেক্ষায়- ‘ওপারের ডাক কবে আসবে!’ কিন্তু মরার আগে সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মৃদুল রানী।

ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু নাছের চৌধুরী বলেন, তার আহত হওয়ার সময়ের চিকিৎসাপত্র বা কাগজপত্র যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে হয়তো কিছু করা সম্ভব হবে।

 

 

 

 

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি পরশুরামে মৃদুল রাণীর

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

‎প্রতি বছর বর্ণাঢ্য আয়োজন উৎসবে পালন করা হয় মহান স্বাধীনতা দিবস। এ সবুজ ভূখন্ডকে একটো স্বাধীন রাখতে পরিণত করতে যারা অবদান রেখেছেন তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেনি সমাজ ও রাষ্ট্র। তাদেরই একজন পরশুরামের মৃদুল রানী রায়। ভারত সীমান্তবর্তী বাউরপাথর গ্রামের দাড়িকানাথ চৌধুরীর মেয়ে মৃদুল রাণী তখন কিশোরী।

‎১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট। বিলোনিয়ার আমজাদনগরে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের শক্ত একটি ঘাঁটি। বাবার সহায়তায় সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করে দিতেন মৃদুল রাণী। সকাল বেলা বাড়ি থেকে আমজাদ নগরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর পুঁতে রাখা একটি মাইনের উপরে পা পড়লে সাথে সাথে তার ডান পায়ের দুই তৃতীয়াংশ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে মৃদুল রাণীর জীবনের সাথে যুক্ত হয়ে যায় পঙ্গু প্রত্যয়টি। ভারতের বিলোনিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর আশ্রয় নেন শরণার্থী শিবিরে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর শেষ হয়েছে। যুদ্ধাহত মৃদুল রাণীর ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ বহু মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি পাননি মৃদুল। মৃদুল রানের স্বামী আনন্দ রায় শারীরিকভাবে অসুস্থ। বাড়ির পাশে একটি ছোট চা দোকান দিয়ে কিছু আয় করার চেষ্টা করেন। সেই টাকায় যোগান পরিবারের ভরণপোষণ। দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছেন। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অপর ছেলে অনিক রায় (২৪) বাবাকে তার কাছে সাহায্য করেন।

‎মৃদুল রানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পা হারানোর পর কেউ বিয়ে করতে চায়নি। ৪১ বছর পর বিয়ে হয়। অনেকের কাছে সহযোগিতা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য গিয়েছি, কেউই সহযোগিতা করেনি। কত মানুষ কত কথা বলেছে, কেউ কথা রাখেনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটির এখন শুধু একটাই অপেক্ষায়- ‘ওপারের ডাক কবে আসবে!’ কিন্তু মরার আগে সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান মৃদুল রানী।

ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু নাছের চৌধুরী বলেন, তার আহত হওয়ার সময়ের চিকিৎসাপত্র বা কাগজপত্র যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে হয়তো কিছু করা সম্ভব হবে।

 

 

 

 


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি পরশুরামে মৃদুল রাণীর
0:00 0:00
1.0x