ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

কানে শুনে কোরআনে হাফেজ হলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হামিদুল্লাহ



কানে শুনে কোরআনে হাফেজ হলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হামিদুল্লাহ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও শুনে শুনে মাত্র দুই বছরে পবিত্র কুরআন শরীফের ৩০ পারা মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ফেনীর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ হামিদুল্লাহ (১৫)। অন্য দশজন স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর মতো চোখে না দেখেও নিজের প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো কুরআন শরীফ মুখস্থ করেছেন এই ক্ষুদে হাফেজ।

হাফেজ হামিদুল্লাহ্ ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের মাওলানা নুরনবী শরীফের সন্তান। তিনি গত দুই বছর ফেনী শহরতলীর কালিপাল এলাকায় অবস্থিত তাহসীনুল কুরআন হিফজ মাদরাসায় অধ্যয়ন করছেন। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাত্র দুই বছরে হেফজ সম্পন্ন করেন তিনি।

জানা যায়, হামিদুল্লাহ্ জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকে শিক্ষক পিতা মাওলানা নুরনবী শরীফের সাথে সাথে থেকে আরবী শিক্ষার হাতেখড়ি হয় তারা। বাবার সাথে থেকে কুরআন শরীফ পড়ার যাবতীয় দীক্ষা নেন তিনি। পরে সন্তানকে কুরআনে হাফেজ বানানোর ইচ্ছায় তাহসীনুল কুরআন হিফজ মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। এখানে মাত্র দুই বছরে কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হন হামিদুল্লাহ্

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ছল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ হামিদুল্লাহর সর্বশেষ সবক অনুষ্ঠান। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীর শেষ মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাহসীনুল কুরআন হিফজ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এসময় দৃষ্টিপ্রতিষ্ঠানের সুললিত কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে উপস্থিত হন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা আল হিদায়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতী মোহাম্মদ আলী, ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো.আবদুল্লাহ। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আবদুল ফাত্তাহ।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ হামিদুল্লাহ বলেন, ছোট বেলা থেকে বাবার সাথে থেকে আরবী শব্দ উচ্চারণ ও কুরআন পড়তে শিখেছি। পরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় দুই বছরে কুরআন মুখস্থ করতে পেরেছি৷ আল্লাহর কাছে শুকরিয়া তিনি আমাকে কুরআন মুখস্থ রাখার জ্ঞান দান করেছেন। আমি আমার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে একজন যোগ্য হাফেজ ও আলেম হতে চান তিনি

হাফেজ হামিদুল্লাহর পিতা মাওলানা নুরনবী বলেন, এ সন্তান আমার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত। আমি চেষ্টা করেছি তাকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করার জন্য। শিক্ষক সহপাঠীদের আন্তরিক সহযোগিতায় সে আজ কুরআনে হাফেজ হয়েছে। আমি তার এ সাফল্যে গর্ববোধ করছি।

তাহসিনুল কুরআন হিফয মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা গর্ব অনুভব করছি। সে খুবই বিনয়ী ও মনোযোগী ছাত্র। এজন্য এত তাড়াতাড়ি সে পুরো কুরআন আয়ত্ত করতে পেরেছে। আমরা তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মুফতী মোহাম্মদ আলী বলেন, হাফেজ হামিদুল্লাহ্ মাত্র দুই বছরে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছে এটি আনন্দের ও গর্বের একটি বিষয়। দৃষ্টিশক্তি না থাকার পরও সে আল্লাহর কালাম তার সিনায় আবদ্ধ করেছে এটি অনেকের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার জন্য দোয়া করি সে যেন আরও বড় আলেম হয়ে এ জাতির জন্য কিছু করতে পারে সে তৌফিক আল্লাহ তাকে দান করুক।

ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমা হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে চিনিয়েছে কুরআনের হাফেজরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য পুরষ্কার জিতার রেকর্ড একমাত্র কুরআনের হাফেজদের রয়েছে। সরকারের উচিত এসকল হাফেজদের সম্মানিত করা। তিনি আরও বলেন, হাফেজ হামিদুল্লাহ আমাদের জন্য অহংকার ও গর্বের। আগামী দিনগুলোতে সে যেন আরও ভালো কোন জায়গা পৌঁছাতে পারে সেজন্য আমাদের সহযোগিতা থাকবে সবসময়।

আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন ফেনী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফেজ আবদুল ফাত্তাহ বলেন, আগে অন্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজদের পূনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হত। বিগত সরকারের আমলে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা চাই অন্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম পুনরায় চালু হাফেজ হামিদুল্লাহর মতো জাতির সুসন্তানদের পূনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


কানে শুনে কোরআনে হাফেজ হলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হামিদুল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

featured Image

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও শুনে শুনে মাত্র দুই বছরে পবিত্র কুরআন শরীফের ৩০ পারা মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ফেনীর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ হামিদুল্লাহ (১৫)। অন্য দশজন স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর মতো চোখে না দেখেও নিজের প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পুরো কুরআন শরীফ মুখস্থ করেছেন এই ক্ষুদে হাফেজ।

হাফেজ হামিদুল্লাহ্ ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের মাওলানা নুরনবী শরীফের সন্তান। তিনি গত দুই বছর ফেনী শহরতলীর কালিপাল এলাকায় অবস্থিত তাহসীনুল কুরআন হিফজ মাদরাসায় অধ্যয়ন করছেন। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাত্র দুই বছরে হেফজ সম্পন্ন করেন তিনি।

জানা যায়, হামিদুল্লাহ্ জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকে শিক্ষক পিতা মাওলানা নুরনবী শরীফের সাথে সাথে থেকে আরবী শিক্ষার হাতেখড়ি হয় তারা। বাবার সাথে থেকে কুরআন শরীফ পড়ার যাবতীয় দীক্ষা নেন তিনি। পরে সন্তানকে কুরআনে হাফেজ বানানোর ইচ্ছায় তাহসীনুল কুরআন হিফজ মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন তিনি। এখানে মাত্র দুই বছরে কুরআন মুখস্থ করতে সক্ষম হন হামিদুল্লাহ্

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ছল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ হামিদুল্লাহর সর্বশেষ সবক অনুষ্ঠান। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীর শেষ মুহুর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাহসীনুল কুরআন হিফজ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এসময় দৃষ্টিপ্রতিষ্ঠানের সুললিত কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে উপস্থিত হন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা আল হিদায়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতী মোহাম্মদ আলী, ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো.আবদুল্লাহ। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আবদুল ফাত্তাহ।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ হামিদুল্লাহ বলেন, ছোট বেলা থেকে বাবার সাথে থেকে আরবী শব্দ উচ্চারণ ও কুরআন পড়তে শিখেছি। পরে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় দুই বছরে কুরআন মুখস্থ করতে পেরেছি৷ আল্লাহর কাছে শুকরিয়া তিনি আমাকে কুরআন মুখস্থ রাখার জ্ঞান দান করেছেন। আমি আমার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে একজন যোগ্য হাফেজ ও আলেম হতে চান তিনি

হাফেজ হামিদুল্লাহর পিতা মাওলানা নুরনবী বলেন, এ সন্তান আমার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত। আমি চেষ্টা করেছি তাকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করার জন্য। শিক্ষক সহপাঠীদের আন্তরিক সহযোগিতায় সে আজ কুরআনে হাফেজ হয়েছে। আমি তার এ সাফল্যে গর্ববোধ করছি।

তাহসিনুল কুরআন হিফয মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা গর্ব অনুভব করছি। সে খুবই বিনয়ী ও মনোযোগী ছাত্র। এজন্য এত তাড়াতাড়ি সে পুরো কুরআন আয়ত্ত করতে পেরেছে। আমরা তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মুফতী মোহাম্মদ আলী বলেন, হাফেজ হামিদুল্লাহ্ মাত্র দুই বছরে পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছে এটি আনন্দের ও গর্বের একটি বিষয়। দৃষ্টিশক্তি না থাকার পরও সে আল্লাহর কালাম তার সিনায় আবদ্ধ করেছে এটি অনেকের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার জন্য দোয়া করি সে যেন আরও বড় আলেম হয়ে এ জাতির জন্য কিছু করতে পারে সে তৌফিক আল্লাহ তাকে দান করুক।

ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের পেশ ইমা হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে চিনিয়েছে কুরআনের হাফেজরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য পুরষ্কার জিতার রেকর্ড একমাত্র কুরআনের হাফেজদের রয়েছে। সরকারের উচিত এসকল হাফেজদের সম্মানিত করা। তিনি আরও বলেন, হাফেজ হামিদুল্লাহ আমাদের জন্য অহংকার ও গর্বের। আগামী দিনগুলোতে সে যেন আরও ভালো কোন জায়গা পৌঁছাতে পারে সেজন্য আমাদের সহযোগিতা থাকবে সবসময়।

আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন ফেনী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফেজ আবদুল ফাত্তাহ বলেন, আগে অন্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজদের পূনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হত। বিগত সরকারের আমলে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা চাই অন্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম পুনরায় চালু হাফেজ হামিদুল্লাহর মতো জাতির সুসন্তানদের পূনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
কানে শুনে কোরআনে হাফেজ হলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হামিদুল্লাহ
0:00 0:00
1.0x