ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

‘ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে মডেল হবে ফেনী পুলিশ’



 ‘ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে মডেল হবে ফেনী পুলিশ’

ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছর পুলিশকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের কিছু ভুল-ভ্রুটি ছিল। এজন্যই পুলিশ এত বিতর্কিত। এ বিতর্কিত অবস্থা থেকে বের হয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী সবাইকে নিয়ে জনবান্ধব পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করার চেষ্টা করব। ফেনীবাসীর মতো করে জেলা পুলিশকে সাজানো হবে।  মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে পুলিশ লাইন ড্রিল শেডে ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে ফেনীবাসীকে নির্ভেজাল সেবা দিতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে সেজন্য সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব। কাজের মাধ্যমে ফেনীকে রোল মডেল করতে চাই।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা না গেলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। আমার কাজে যদি কোন ভুল-ত্রুটি থাকে তাতেও লেখনীর মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের আটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সেই অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এখন আমাদের মূল কাজ হবে। ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ফেনীতে সকল পুলিশ কর্মস্থলে রয়েছে। নিয়মিত দায়িত্বপালন করছে। ৫ আগস্ট আটটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। আমরা ৮০ শতাংশ কাজ শুরু করেছি। আশা করি অন্যান্য কাজও শিগগিরই শুরু করতে পারব।

শহরে যানজট নিরসনে সবার সহযোগিতা কামনা করে পুলিশ সুপার বলেন, যানজট নিরসন পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও আলোচনা করে সবার সহযোগিতা নিয়ে শহরের দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সহনীয় পর্যায়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হবে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সমস্যা সব জায়গায় বিরাজমান। এদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেন। জেলায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে যত প্রকারের ভূমিকা নেওয়া সম্ভব তা আমি নেব।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) দীন মোহাম্মদ (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত), মো. শাহাদাৎ হোসেন (ক্রাইম এন্ড অবস্), পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ফেনীতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


‘স্পিড মানি’ চাইলে কঠোর ব্যবস্থা
নাগরিক সেবা পেতে ‘পুলিশি হয়রানির’ প্রতিকার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, নাগরিক সেবায় কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘স্পিডমানি’ চাওয়ার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ছাত্র জনতার প্রত্যাশা পূরণে ফেনী জেলা পুলিশকে সততা ও পেশাদারিত্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার। এছাড়া সামাজিক অপরাধ নির্মুলে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।



মহিপালে গণহত্যা : তদন্ত হচ্ছে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নিয়ে

গত ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যার ঘটনায় ‘পুলিশের ভূমিকা’ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, মহিপালের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও যদি কোন অভিযোগ থাকে, তা আমাকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৬ বছর পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের এক থানা থেকে অন্য থানায় রদবদল করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়েও কাজ চলছে। ৪ আগস্টের ঘটনায় জড়িত কেউ যদি মামলা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, ছাত্র জনতার প্রত্যাশা পূরণে পেশাদারিত্ব ও সততা ধরে রাখায় সচেষ্ট থাকবে ফেনী পুলিশ।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


‘ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে মডেল হবে ফেনী পুলিশ’

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

featured Image

ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৬ বছর পুলিশকে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের কিছু ভুল-ভ্রুটি ছিল। এজন্যই পুলিশ এত বিতর্কিত। এ বিতর্কিত অবস্থা থেকে বের হয়ে দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী সবাইকে নিয়ে জনবান্ধব পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনায় কাজ করার চেষ্টা করব। ফেনীবাসীর মতো করে জেলা পুলিশকে সাজানো হবে।  মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে পুলিশ লাইন ড্রিল শেডে ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, পেশাদারিত্ব ও সততার মাধ্যমে ফেনীবাসীকে নির্ভেজাল সেবা দিতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে সেজন্য সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব। কাজের মাধ্যমে ফেনীকে রোল মডেল করতে চাই।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা না গেলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। আমার কাজে যদি কোন ভুল-ত্রুটি থাকে তাতেও লেখনীর মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের আটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সেই অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা এখন আমাদের মূল কাজ হবে। ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ফেনীতে সকল পুলিশ কর্মস্থলে রয়েছে। নিয়মিত দায়িত্বপালন করছে। ৫ আগস্ট আটটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। আমরা ৮০ শতাংশ কাজ শুরু করেছি। আশা করি অন্যান্য কাজও শিগগিরই শুরু করতে পারব।

শহরে যানজট নিরসনে সবার সহযোগিতা কামনা করে পুলিশ সুপার বলেন, যানজট নিরসন পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও আলোচনা করে সবার সহযোগিতা নিয়ে শহরের দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সহনীয় পর্যায়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হবে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সমস্যা সব জায়গায় বিরাজমান। এদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করেন। জেলায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে যত প্রকারের ভূমিকা নেওয়া সম্ভব তা আমি নেব।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) দীন মোহাম্মদ (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত), মো. শাহাদাৎ হোসেন (ক্রাইম এন্ড অবস্), পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ফেনীতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


‘স্পিড মানি’ চাইলে কঠোর ব্যবস্থা
নাগরিক সেবা পেতে ‘পুলিশি হয়রানির’ প্রতিকার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফেনীর নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, নাগরিক সেবায় কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘স্পিডমানি’ চাওয়ার অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ছাত্র জনতার প্রত্যাশা পূরণে ফেনী জেলা পুলিশকে সততা ও পেশাদারিত্বে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেন পুলিশ সুপার। এছাড়া সামাজিক অপরাধ নির্মুলে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।



মহিপালে গণহত্যা : তদন্ত হচ্ছে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নিয়ে

গত ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যার ঘটনায় ‘পুলিশের ভূমিকা’ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, মহিপালের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও যদি কোন অভিযোগ থাকে, তা আমাকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৬ বছর পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের এক থানা থেকে অন্য থানায় রদবদল করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়েও কাজ চলছে। ৪ আগস্টের ঘটনায় জড়িত কেউ যদি মামলা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, ছাত্র জনতার প্রত্যাশা পূরণে পেশাদারিত্ব ও সততা ধরে রাখায় সচেষ্ট থাকবে ফেনী পুলিশ।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
‘ছাত্র-জনতার প্রত্যাশা পূরণে মডেল হবে ফেনী পুলিশ’
0:00 0:00
1.0x