ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

ফেনী হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড : স্থানান্তর করেও সামলানো যাচ্ছে না রোগীর চাপ



ফেনী হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড : স্থানান্তর করেও সামলানো যাচ্ছে না রোগীর চাপ

ফেনীতে কমছে না ডায়রিয়ার প্রকোপ। বন্যা পরবর্তী ফেনীর জেলা জুড়ে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত কয়েকদিন ধারণ ক্ষমতার দশগুন বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডকে নতুন ভবনের ছয়তলায় স্থানান্তর করা হয়। ছয়তলা ভবনে উঠানামার জন্য সিঁড়ি ব্যাতিত বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি বিড়ম্বনায়।

তবে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী বলছেন, জায়গা সংকুলানের অভাবে রোগীদের আপাতত ছয়তলায় নেওয়া হয়েছে। সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২১ শয্যার বিপরীতে শিশু রোগীর সংখ্যা ৮৮ জন, বয়স্ক রোগী ৫৬ জনসহ হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগী ৬ শতাধিকের বেশি।

সরেজমিনে শনিবার দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলায় গিয়ে দেখা যায়, চারটি বড় ইউনিটে ও এর আশেপাশে খালি জায়গায় রোগীরা শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, ছয়তলা ভবনে এনে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা নেওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্বের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের রোগীদের স্থানান্তরের দাবি করেন তারা।

পাঠাননগর উত্তর শিলুয়া এলাকার বাসিন্দা কাউছার হামিদ বলেন, গত দুইদিন ডায়রিয়া দেখা দেওয়ায় আজ হাসপাতালে এসেছি। জরুরি বিভাগ থেকে বলা হল হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলা আসতে। আমার মতো তরুণ যুবক ছয়তলা উঠতে অনেক কষ্ট হয়ে গেছে। যারা বয়স্ক বা শিশু রোগী তাদের জন্য এখানে উঠে চিকিৎসা নেওয়া মহাকষ্টের বিষয়।

জাকির হোসেন নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, এতবড় সরকারি হাসপাতাল অথচ এদের কোন সঠিক ব্যবস্থাপনা নাই। হাসপাতালের লিফট অকেজো হয়ে আছে ঠিক করার কোন নাম নেই।

আয়েশা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, গতকাল থেকে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এত উপরে ডায়রিয়া ওয়ার্ড সেখানে উঠতে উঠতে রোগীর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। লিফট থাকলে এ ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হত।

জসিমউদদীন নামে আরেক রোগীর অভিভাবক বলেন, বন্যার পর ডায়রিয়া এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারের উচিত এটি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। বন্যায় যেখানে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে আছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এলে অনেক সহজলভ্য ঔষধও বাইরে কেনা লাগছে।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ সবিতা রায় বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেসকল ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে আমরা রোগীদের তা সরবরাহ করছি। যেগুলো আমাদের সাপ্লাইয়ে নেই কেবল সেসব ঔষধ কিনতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে কলেরা স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, স্যালবিউট্যামল সিরাপ, নাপা সিরাপ,ক্যানুলা, স্যালাইন সেট দেওয়া হচ্ছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, বন্যার পর পর ফেনীর ৬ উপজেলা থেকে আসা ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগী আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এরপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সেবা নিশ্চিত করতে। আমাদের জনবল ও জায়গার অভাব আছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক চিকিৎসক সংকটও রয়েছে। স্বল্প জনবল দিয়ে বৃহৎ পরিসরে সেবা সম্ভব নয়। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছয়তলা ভবনের একমাত্র লিফট নষ্ট হয়ে আছে। এটি পরিবর্তন করে একটি আধুনিক লিফট স্থাপনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউনিসেফের অর্থায়নে ইতোমধ্যে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে ছোট আকারের একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের কাজ চলছে। এটি তৈরি হলে রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা থাকবে না।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


ফেনী হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড : স্থানান্তর করেও সামলানো যাচ্ছে না রোগীর চাপ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

featured Image

ফেনীতে কমছে না ডায়রিয়ার প্রকোপ। বন্যা পরবর্তী ফেনীর জেলা জুড়ে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত কয়েকদিন ধারণ ক্ষমতার দশগুন বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডকে নতুন ভবনের ছয়তলায় স্থানান্তর করা হয়। ছয়তলা ভবনে উঠানামার জন্য সিঁড়ি ব্যাতিত বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি বিড়ম্বনায়।

তবে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজী বলছেন, জায়গা সংকুলানের অভাবে রোগীদের আপাতত ছয়তলায় নেওয়া হয়েছে। সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২১ শয্যার বিপরীতে শিশু রোগীর সংখ্যা ৮৮ জন, বয়স্ক রোগী ৫৬ জনসহ হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগী ৬ শতাধিকের বেশি।

সরেজমিনে শনিবার দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলায় গিয়ে দেখা যায়, চারটি বড় ইউনিটে ও এর আশেপাশে খালি জায়গায় রোগীরা শয্যা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, ছয়তলা ভবনে এনে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা নেওয়া কষ্টসাধ্য বিষয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্বের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের রোগীদের স্থানান্তরের দাবি করেন তারা।

পাঠাননগর উত্তর শিলুয়া এলাকার বাসিন্দা কাউছার হামিদ বলেন, গত দুইদিন ডায়রিয়া দেখা দেওয়ায় আজ হাসপাতালে এসেছি। জরুরি বিভাগ থেকে বলা হল হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলা আসতে। আমার মতো তরুণ যুবক ছয়তলা উঠতে অনেক কষ্ট হয়ে গেছে। যারা বয়স্ক বা শিশু রোগী তাদের জন্য এখানে উঠে চিকিৎসা নেওয়া মহাকষ্টের বিষয়।

জাকির হোসেন নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, এতবড় সরকারি হাসপাতাল অথচ এদের কোন সঠিক ব্যবস্থাপনা নাই। হাসপাতালের লিফট অকেজো হয়ে আছে ঠিক করার কোন নাম নেই।

আয়েশা আক্তার নামের এক রোগী বলেন, গতকাল থেকে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এত উপরে ডায়রিয়া ওয়ার্ড সেখানে উঠতে উঠতে রোগীর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। লিফট থাকলে এ ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হত।

জসিমউদদীন নামে আরেক রোগীর অভিভাবক বলেন, বন্যার পর ডায়রিয়া এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। সরকারের উচিত এটি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া। বন্যায় যেখানে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে আছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এলে অনেক সহজলভ্য ঔষধও বাইরে কেনা লাগছে।

হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ সবিতা রায় বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেসকল ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে আমরা রোগীদের তা সরবরাহ করছি। যেগুলো আমাদের সাপ্লাইয়ে নেই কেবল সেসব ঔষধ কিনতে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে কলেরা স্যালাইন, খাবার স্যালাইন, স্যালবিউট্যামল সিরাপ, নাপা সিরাপ,ক্যানুলা, স্যালাইন সেট দেওয়া হচ্ছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, বন্যার পর পর ফেনীর ৬ উপজেলা থেকে আসা ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগী আক্রান্ত রোগীদের চাপ বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এরপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সেবা নিশ্চিত করতে। আমাদের জনবল ও জায়গার অভাব আছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক চিকিৎসক সংকটও রয়েছে। স্বল্প জনবল দিয়ে বৃহৎ পরিসরে সেবা সম্ভব নয়। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছয়তলা ভবনের একমাত্র লিফট নষ্ট হয়ে আছে। এটি পরিবর্তন করে একটি আধুনিক লিফট স্থাপনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউনিসেফের অর্থায়নে ইতোমধ্যে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সামনে ছোট আকারের একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের কাজ চলছে। এটি তৈরি হলে রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা থাকবে না।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ফেনী হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড : স্থানান্তর করেও সামলানো যাচ্ছে না রোগীর চাপ
0:00 0:00
1.0x