মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। আজ বুধবার (২৫ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাতটার সময় বুকে ব্যাথা অনুভব করায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ জানিয়েছে, আজ স্থানীয় সময় বিকেলে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। এই অসুস্থতা থেকে আর বেঁচে ফিরতে পারেননি কিংবদন্তি। এ ছাড়া সংবাদমাধ্যম ‘ক্লারিন’ও নিশ্চিত করেছে ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর।
নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের ৮ দিন পরে তাঁকে বুয়েনোস আইরেসের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এক ক্লিনিকে। সেখানে তাঁর অ্যালকোহল আসক্তি দূর করার চিকিৎসা চলছিল।
ম্যারাডোনার আইনজীবি বলেছেন, বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় এই মাসের গোড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। ১১ নভেম্বর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে।
ম্যারাডোনার আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা সেই সময় বলেছিলেন যে, সম্ভবত জীবনের কঠিনতম সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্তের জন্য প্রাণ হারানোরও আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
ম্যারাডোনার ফুটবলজীবন ঘটনাবহুল। পৃথিবীর সর্বকালীন সেরা ফুটবলারদের অন্যতম আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করেছিলেন৷ নিজের গগনচুম্বী কেরিয়ারের যেটা একটা মাইলফলক৷ আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বে। ১৯৯০ সালে ইতালি বিশ্বকাপেও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। কিন্তু, সেরা করতে পারেননি। ১৯৯৭ সালে ফুটবলকে বিদায় জানান মারাদোনা। শুরু করেন কোচিং। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জাতীয় দলেরও কোচ ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর সময়ও তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ক্লাব জিমনাসিয়া ডি লা প্লাটার কোচ।
তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ফুটবলবিশ্ব। একের এক আসছে শোকবার্তা। কিংবদন্তি ফুটবলারকে শ্রদ্ধা জানানোর পালা চলছে। অনেকের মতে, তিনিই বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
তবে বিতর্ক আজীবন সঙ্গী হয়েছে তাঁর। ১৯৯৪ সালে আমেরিকা বিশ্বকাপে ডোপ পরীক্ষীয় ধরা পড়ার পর তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ড্রাগের কারণে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছিল তাকে। ওজনও বেড়ে গিয়েছিল। মদ্যাপানে আসক্তির জন্যও সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি।
মারাদোনা বললেই ফুটবলপ্রমীদের মনে পড়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার দুটো গোলের কথা। প্রথমটি ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে পরিচিত। এবং বিতর্কিত। রিপ্লেতে দেখা গিয়েছিল মারাদোনার হাতে লেগে বল জালে জড়িয়েছিল। সেই গোলকেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ বলেছিলেন মারাদোনা। তবে সেই ম্যাচেই এর পরে তাঁর গোল ছিল চোখজুড়নো। একের পর এক ফুটবলারকে কাটিয়ে গোল করেছিলেন তিনি। যা মুগ্ধতায় ভরিয়েছিল ফুটবলরসিকদের।
আরেক আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি তার অফিসিয়াল ফেইসবুকে পেইজে লিখেন, সকল আর্জেন্টাইন এবং ফুটবলের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের দিন। তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন কিন্তু চলে যান নি, কারণ ডিয়েগো চিরন্তন ।