ফেনী ইকোনমিক জোনে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের পাশে দাঁড়ালেন ফেনী-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। জমির নির্ধারিত দামের সাথে দ্বিমত পোষন করে সন্তোষজনক মূল্য নিশ্চিতে আহবান জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকালে ফেনীতে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন (বেজা) আয়োজিত কর্মশালায় অতিথি ছিলেন সাংসদ।
বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর; উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় অতিথির বক্তব্যে বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ফেনীর সোনাগাজীর চর নারায়ন মৌজায় কিছু জমির শতক মাত্র ৩৫০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দর মালিকের জন্য হৃদয় বিদারক। যে কোনো পন্থায় ভূমির মালিকদের সন্তোষজনক মূল্য পুণঃনির্ধারণ করা হোক।
অতিথির বক্তব্যে এমপি নিজাম হাজারী বলেন, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের মিরসরাই ইকোনমিক জোনে একই পরিমাণ জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬ হাজার টাকা। সকল মানুষ যেন উন্নয়নের পাশাপাশি সন্তুষ্ট থাকে তা বিবেচনায় থাকা দরকার।

বক্তব্যে বেজা চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমপি বলেন, ইকোনমিক জোনের কারনে ফেনীর যেসব পরিবার ভূমি হারাচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান করতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিন।
এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তরে কাজ করছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য ফেনীবাসীর পক্ষে কৃতজ্ঞতা জানাই।
ফেনীর বড় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে শিল্প-কারখানা গড়তে আবেদন করুন, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ফেনীকে সম্পৃক্ত করুন।
এমপি নিজাম হাজারীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পবন চৌধুরী বলেন, অধিগ্রহণকৃত সকল জমির শতক প্রতি একই মূল্য নির্ধারিত হয়নি। চর নারায়নে অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে কিছু অংশের দাম দাপ্তরিক নিয়মেই ৩৫০টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ভূমির দর নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করেই তা করা হয়েছে। তাই বেজা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তবে সাংসদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে পুণঃনির্ধারন করে অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।
চর নারায়নে ভূমির নিম্নদর প্রসঙ্গে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুজন চৌধুরী বলেন, এখানো মোট ১ হাজার ২৫৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দাম নির্ধারণে পূর্ববর্তী দলিলে উল্লেখিত মূল্য বিবেচনায় নেয়া হয়। তাছাড়া জমির বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। তিনি জানান, এখানে সকল জমির ধরণ এক নয়। কিছু পরিমান জমি ভাটায় জেগে উঠলেও জোয়ারে তলিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ফেনী ইকোনমিক জোনের জন্য এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৫৪৭ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান সুজন চৌধুরী। এরমধ্যে ৫ হাজার ৩৪ দশমিক ৭২ একর অধিগ্রহণকৃত। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৬৭ দশমিক ১০ একর জমি বেজাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকী ভূমিও দ্রুততর সময়ে বুঝিয়ে দেয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে পবন চৌধুরী জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের ফেনী অংশে পাওয়ার গ্রীড, শেখ হাসিনা সরোবর ছাড়াও বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লট হবে। আগামী মার্চ মাস নাগাদ দুটো ইন্ডাস্ট্রি উৎপাদনে যাবে।
এর আগে কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফেনী জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজজামান। এতে বক্তব্য রাখেন বেজা’র প্রকল্প পরিচালক এবং অতিরিক্ত সচিব মোঃ আলী আহসান। বেজা’র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হাসান আরিফ বেজা'র উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ও পরিকল্পনা উপস্থাপনা করেন। শেষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন বেজা'র নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান।
কর্মশালায় সঞ্চালনা করেন দাগনভূঞা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাসুমা জান্নাত এবং রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এম আবদুল্লাহ আল মামুন।