ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সরকারি চেক জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে এ তথ্য দৈনিক ফেনীকে নিশ্চিত করেছেন ফুলগাজীর ইউএনও হিসেবে দায়িত্বরত অতনু বড়ুয়া। তিনি জানান, ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা পরিষদের তিন কর্মচারীকে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যেদিন থেকে কারাগারে যাবেন, সেদিন থেকেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নির্ধারিত হারে খোরপোশ ও অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা পাবেন।
এর আগে মামলাটি পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় গ্রেপ্তারের চারদিন পর গত রোববার (১২ জুন) আদালত থেকে জামিন পান চেক জালিয়াতিতে জড়িত পরিষদের তিন কর্মচারী- সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নুর ইসলাম।
গত ৭ জুলাই উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় ও থানায় তাদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেন পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল হালিম চৌধুরী। তবে মামলাটি পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় ফুলগাজী আমলী আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।
এ ব্যাপারে ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, এটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই এ ধরনের মামলার তদন্ত ও বিচারিক এখতিয়ার কেবল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আদালতও এ বিষয়ে অবজারভেশন দিয়ে মামলার ডকেট দুদকে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে দুদক আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।