সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘আমরা গর্বিত, আমরা ফেনীর সন্তান’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ প্রকল্পটি ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। অতীতের অভিজ্ঞতায় সাধারণ ঠিকাদারদের মাধ্যমে নির্মিত অনেক বাঁধ বন্যার সময় টেকসই না হওয়ায় ভেঙে গেছে। তাই প্রকল্পের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সংগঠনের উপদেষ্টা আনোয়ারুল আহসান জসিমের সভাপতিত্বে এবং আরেক উপদেষ্টা মোর্শেদ হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন— জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আ. ন. ম. আবদুর রহিম, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন মোর্শেদ, খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের সদস্য প্রকৌশলী শাহ শিহাব উদ্দিন, ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান, দীপ্ত টিভির প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল-মামুন, চ্যানেল ওয়ানের প্রতিনিধি নাজির আহমেদ রতন এবং দৈনিক কালবেলার পরশুরাম প্রতিনিধি আবু ইউসুফ মিন্টুসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীঘেঁষা ফেনীর উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বারবার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা আরও বলেন, সম্প্রতি একনেক সভায় অনুমোদিত প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের কাজের মান নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। মানববন্ধন থেকে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু এবং সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।