প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মুহুরী নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে পথসভাস্থল ও উদ্বোধনী মঞ্চ। সম্ভাব্য আকাশপথে সফরের কথা বিবেচনায় প্রস্তুত করা হচ্ছে হেলিপ্যাড। পাশাপাশি সড়ক মেরামত, রং ও সৌন্দর্যবর্ধন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরকে সামনে রেখে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে পরশুরাম-সুবা বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে তৈরি করা হচ্ছে পথসভাস্থল। ইতোমধ্যে মাটি ফেলে সভাস্থল, মঞ্চ ও উদ্বোধনী ফলক স্থাপনের জায়গা উঁচু করা হয়েছে। বর্তমানে চলছে মাটি সমতল করার কাজ। মঞ্চ নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সেখানে পৌঁছেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ জানান, মঞ্চ নির্মাণের জন্য মাটি সমতল করার কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় সামগ্রীও এসে পৌঁছেছে। মাটি সমতল করার কাজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মঞ্চ নির্মাণ শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নির্মাণাধীন পথসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে।
এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেন।
সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক, সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ ও সদস্য সচিব মাহাবুবুল হক মজুমদারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে উপস্থিত হবেন। এ সময় তিনি সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মুহুরী ও কহুয়া নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে নাকি আকাশপথে পরশুরামে আসবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আকাশপথে এলে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। এ জন্য পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে হেলিপ্যাড। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে মাঠ ও আশপাশের এলাকাতেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ফেনী-পরশুরাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে মেরামত, রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এসব কাজ তদারকি করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সওজের ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ফেনী-পরশুরাম সড়কের বর্ধিতকরণ কাজে আগে থেকেই তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচলে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রং করার কাজ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পথসভাস্থলে আগত মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এসব কাজ দেখভাল করবে। পথসভাস্থলে চারটি পোর্টেবল টয়লেট ও একটি ভিআইপি টয়লেট স্থাপন করা হবে। প্রবেশপথে বসানো হবে এক হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক। পথসভায় আসা মানুষ এসব ট্যাংক থেকে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ফুলগাজী উপজেলাতেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই দিনে সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং খালেদা জিয়ার মহিলা কলেজ সরকারি করার কর্মসূচিকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর বাস্তবায়নে সরকারের সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নিরাপত্তা, যোগাযোগ, অবকাঠামো, পানি ও স্যানিটেশনসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পরশুরাম ও ফুলগাজীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সভাস্থল ও সম্ভাব্য অবতরণস্থল ঘিরে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করছেন।