ফেনী    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ

এবার ‘ছোঁয়াচে’ ভাইরাসে সংক্রিমত হচ্ছে ফেনীর শিশুরা



এবার ‘ছোঁয়াচে’ ভাইরাসে সংক্রিমত হচ্ছে ফেনীর শিশুরা
ছবি: এআই দ্বারা তৈরি/ দৈনিক ফেনী

হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলাকালীন এবার ফেনীতে শিশুদের মধ্যে হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ (এইচএফএমডি) রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জেলা শহরের জনবহুল এলাকাগুলোতে এই ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলো গুটিবসন্ত বা চিকেনপক্সের মতো মনে হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটিকে ‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ’ হিসেবে শনাক্ত করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আফজাল মিস্ত্রি বাড়িতে বেশ কয়েকটি পরিবারে রোগটি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়সই পাঁচ বছরের নিচে। একই বাড়ির আবুল বাশার ও আবু জাফরের দুই শিশু সন্তান মারওয়া (১০ মাস) ও আরোহী জান্নাত (১৩ মাস), মিজানুর রহমানের ছেলে মাহাদী (১২ মাস), শাহাদাত হোসেনের মেয়ে আফরা (১০ মাস), আব্দুল মোতালিবের মেয়ে মাইমুনা (১০ মাস) এবং মোসাম্মৎ তাইয়্যেবা (১৮ মাস) সহ বেশ কয়েকজন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

আক্রান্ত শিশু তাইয়্যেবার মা নিশি জানান, প্রথমে প্রতিবেশী এক শিশুর শরীরে এই লক্ষণ দেখা যায়। পরে সেখান থেকেই তার সন্তানসহ আশেপাশের অন্য শিশুদের মাঝে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

আক্রান্ত শিশু আফরার বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথম রাতে মেয়ে হঠাৎ কান্না শুরু করলে পরীক্ষা করে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে লালচে গুটি দেখতে পাই। পরবর্তীতে দ্রুত শিশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন এটি হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করেন।

একই বাড়ির অন্য আক্রান্ত শিশু আরোহী জান্নাতের বাবা আবু জাফর জানান, মেয়ে হঠাৎ করেই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং একনাগাড়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। প্রথমে শুধু মুখে ছোট ছোট ক্ষত দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা দ্রুত পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুল আবসার মামুন দৈনিক ফেনীকে জানান, এটি একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আক্রান্ত শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। এ সময় শিশুদের হাত, পা ও মুখে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং তীব্র চুলকানি ও জ্বর হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সাথে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। এ ধরনের রোগের কোনো তথ্য পেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের র‌্যাশযুক্ত অসুখগুলোর মধ্যে এই রোগটি অন্যতম একটি রোগ। কক্সেকি নামের এক ধরনের ভাইরাসের কারণে মূলত এ রোগ হয়। এ ছাড়া অন্যান্য ধরনের এন্টারোভাইরাস থেকেও হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ হতে পারে। এতে আক্রান্ত শিশুর নাকের পানি, লালা, ফোসকা ফাটা পানি, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে, এমনকি আক্রান্ত শিশুর পায়খানার মাধ্যমেও অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসলেও এই রোগে সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভাইরাসটি শিশুর শরীরে প্রবেশের চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এটি গুরুতর রোগ না এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজেই ভাল হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে। এ রোরে লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দৈনিক ফেনী

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এবার ‘ছোঁয়াচে’ ভাইরাসে সংক্রিমত হচ্ছে ফেনীর শিশুরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলাকালীন এবার ফেনীতে শিশুদের মধ্যে হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ (এইচএফএমডি) রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জেলা শহরের জনবহুল এলাকাগুলোতে এই ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণগুলো গুটিবসন্ত বা চিকেনপক্সের মতো মনে হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটিকে ‘হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ’ হিসেবে শনাক্ত করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আফজাল মিস্ত্রি বাড়িতে বেশ কয়েকটি পরিবারে রোগটি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়সই পাঁচ বছরের নিচে। একই বাড়ির আবুল বাশার ও আবু জাফরের দুই শিশু সন্তান মারওয়া (১০ মাস) ও আরোহী জান্নাত (১৩ মাস), মিজানুর রহমানের ছেলে মাহাদী (১২ মাস), শাহাদাত হোসেনের মেয়ে আফরা (১০ মাস), আব্দুল মোতালিবের মেয়ে মাইমুনা (১০ মাস) এবং মোসাম্মৎ তাইয়্যেবা (১৮ মাস) সহ বেশ কয়েকজন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

আক্রান্ত শিশু তাইয়্যেবার মা নিশি জানান, প্রথমে প্রতিবেশী এক শিশুর শরীরে এই লক্ষণ দেখা যায়। পরে সেখান থেকেই তার সন্তানসহ আশেপাশের অন্য শিশুদের মাঝে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।

আক্রান্ত শিশু আফরার বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথম রাতে মেয়ে হঠাৎ কান্না শুরু করলে পরীক্ষা করে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে লালচে গুটি দেখতে পাই। পরবর্তীতে দ্রুত শিশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন এটি হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করেন।

একই বাড়ির অন্য আক্রান্ত শিশু আরোহী জান্নাতের বাবা আবু জাফর জানান, মেয়ে হঠাৎ করেই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং একনাগাড়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। প্রথমে শুধু মুখে ছোট ছোট ক্ষত দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা দ্রুত পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুল আবসার মামুন দৈনিক ফেনীকে জানান, এটি একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আক্রান্ত শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। এ সময় শিশুদের হাত, পা ও মুখে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং তীব্র চুলকানি ও জ্বর হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সাথে ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো তথ্য আসেনি। এ ধরনের রোগের কোনো তথ্য পেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের র‌্যাশযুক্ত অসুখগুলোর মধ্যে এই রোগটি অন্যতম একটি রোগ। কক্সেকি নামের এক ধরনের ভাইরাসের কারণে মূলত এ রোগ হয়। এ ছাড়া অন্যান্য ধরনের এন্টারোভাইরাস থেকেও হ্যান্ড-ফুট-মাউথ ডিজিজ হতে পারে। এতে আক্রান্ত শিশুর নাকের পানি, লালা, ফোসকা ফাটা পানি, হাঁচি-কাশির মাধ্যমে, এমনকি আক্রান্ত শিশুর পায়খানার মাধ্যমেও অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে আসলেও এই রোগে সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভাইরাসটি শিশুর শরীরে প্রবেশের চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এটি গুরুতর রোগ না এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজেই ভাল হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে। এ রোরে লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
এবার ‘ছোঁয়াচে’ ভাইরাসে সংক্রিমত হচ্ছে ফেনীর শিশুরা
0:00 0:00
1.0x