ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেছেন, আমাদের কাছে সব ধর্মের মানুষ সমান। সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। আমরা কোনো প্রকার বৈষম্যে বিশ্বাস করি না। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনীতে শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি ‘জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষ্যে জয়কালী মন্দির প্রাঙ্গণে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা এলাকার মসজিদ ও মন্দিরে সমানভাবে উন্নয়নমূলক তহবিল বণ্টন করেছি। রাষ্ট্র এভাবে পরিচালিত হলে সমাজে ধর্ম ও মানুষে কোনো হানাহানি থাকবে না।
উৎসবমুখর পরিবেশ ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে ফেনীতে শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি ‘জন্মাষ্টমী’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সমাবেশ, ভক্তিমূলক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে জেলার বিভিন্ন হিন্দুধর্মীয় সংগঠন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আল আমিন সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, সাধারণ সম্পাদক লিটন সাহা ও জয়কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তপন দাস।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তি চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুরঞ্জিত নাগের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে জয়কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি ফেনী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে শুক্রবার সকালে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে পৃথক শোভাযাত্রা এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানেও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।