ফেনী    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ক্ষমতায় দল,ফেনী বিএনপির চ্যালেঞ্জ কমিটি গঠন ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন


তারেক চৌধুরী
তারেক চৌধুরী
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ক্ষমতায় দল,ফেনী বিএনপির চ্যালেঞ্জ কমিটি গঠন ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন

৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা পেরিয়ে বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। দীর্ঘ এই সময়ে ফেনীর রাজনীতিতেও দলটির কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বহু নেতা। আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাহসিকতায় যারা দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের হাতেই রচিত হয়েছে ফেনী বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে নেতৃত্ব, এসেছে নতুন প্রজন্ম। দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ক্ষমতায় আসার পর ফেনী বিএনপির সামনে এখন বড় দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘদিনের আহ্বায়ক কমিটির পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি হয়নি।

দলের দীর্ঘ পথচলায় ফেনীতে বিএনপির রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্মরণ নিয়েও রয়েছে আক্ষেপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে দলের জন্য যেসব নেতারা জেলায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাদের সম্মানে কখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আয়োজন করা হয়নি। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে দলের আগামীর পথচলা আরও উজ্জ্বল হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা এসব নেতার অনেকে আজ প্রয়াত। আবার প্রয়াত নেতাদের পরিবারের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নেই। ফলে তাদের স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে দলের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্যে তাদের পরিবারকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথাও এসেছে।

দলের তৃণমূলের দাবি ও প্রত্যাশা প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল দৈনিক ফেনীকে বলেন, ফেনীর জনপদে বিএনপির রাজনীতিতে অনেকে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অনেকে আজ প্রয়াত, সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাদের অবদানে ফেনী বিএনপি আজ এতদূর এসেছে। আমাদের দল মাত্র ক্ষমতায় এসেছে, আগামীতে এসব নেতাদের পরিবারকে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। সেক্ষেত্রে সবসময় সবাইকে চাইলেও পদ-পদবি দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। তবে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত, শহিদ, গুম, খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ রয়েছে।

দলের আগামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, সম্মেলন করতে না পারায় ফেনী বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে বিএনপিকে দাঁড়াতে দেইনি। তবে সামনে জাতীয় কাউন্সিলের আগে কমিটিগুলো সম্পূর্ণ করা হবে।

দলের আগামীর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলাল বলেন, ২০ বছর ধরে বিএনপি স্থানীয় কোনো নির্বাচন করতে পারেনি। এতে আমাদের নেতাকর্মীরাও প্রার্থী হতে পারেনি। সেক্ষেত্রে এবার যোগ্য প্রার্থী দেওয়া হবে। দল বিদ্রোহীর বিষয় নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে ত্যাগীদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল। এছাড়াও সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্যদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক বলেন, অতীতে যারা ফেনী বিএনপির রাজনীতিতে অবদান রেখেছেন তাদের আমরা সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। তবে বিশেষ সম্মাননা জানানোর জন্য অন্যান্য দলের মত বিএনপির নির্দিষ্ট কোনো তহবিল নেই। সেজন্যই অতীতে অবদান রাখা নেতা বা প্রয়াত নেতাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানোর সুযোগ হয় না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দলের কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা থাকবে। যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তারা সবসময়ই উড়ে এসে জুড়ে বসে। যখনই যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা সে দলের ওপর ভর করে। স্বার্থপর ও দালাল প্রকৃতির কিছু লোক এমন কাজ করেন। শুধু বিএনপি নয়, সব সংগঠনেই এমন কিছু লোক থাকে। তবে আমরা স্বার্থপর ও দালালদের দূরে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

ফেনীতে বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় নেতৃত্বের এই ধারাবাহিকতায় উঠে আসে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, সাহাব উদ্দিন, আবু বক্কর চেয়ারম্যান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া এমপি, আবদুল কাদের, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন মজুমদার, হাফেজ আহাম্মদ, অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, শহীদ উদ্দিন ফেরদৌস, মোস্তাফিজুর রহমান, মোশাররফ হোসেন এমপি, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, সাঈদ ইস্কান্দার, নুরুল আফছার ও জিয়াউদ্দিন মিষ্টারসহ অনেক নেতার নাম। বিভিন্ন সময়ে তাদের নেতৃত্বে ও অংশগ্রহণে ফেনীতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে বিএনপি গঠন করেন। ১ সেপ্টেম্বর দলটি ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। দিনটি উপলক্ষ্যে ফেনীতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার শহরের মিড টাউন কনভেশন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ফেনীতে বিএনপির উত্থান যেভাবে

জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯৭৮ সালে পরশুরামের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে ফেনীতে শুরু হয় বিএনপির দলীয় কার্যক্রম। যেখানে তৎকালীন বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন, আবু বক্কর চেয়ারম্যান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া এমপি, আবদুল কাদেরসহ অনেক নেতাকর্মী যুক্ত ছিলেন। তাদের হাত ধরে ফেনীতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।

১৯৮১-৮৩ সালে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন মজুমদারকে সভাপতি ও হাফেজ আহাম্মদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালের দিকে ফেনী জেলা বিএনপির তৃতীয়বারের মতো কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে সভাপতি ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন ফেরদৌস ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মোশাররফ হোসেন এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। এরপর ২০০৭ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে সাঈদ ইস্কান্দারকে আহ্বায়ক করা হয়। ওই কমিটির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আফছার।

পরবর্তী ২০১১ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান সাঈদ ইস্কান্দার এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিয়াউদ্দিন মিষ্টারকে। এ কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে শেখ ফরিদ বাহারকে আহ্বায়ক ও আলাল উদ্দিন আলালকে সদস্য সচিব করা হয়। এরপর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। দীর্ঘ সময় আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পূর্ণতা না পাওয়ার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনায় রয়েছে।

দৈনিক ফেনী

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ক্ষমতায় দল,ফেনী বিএনপির চ্যালেঞ্জ কমিটি গঠন ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা পেরিয়ে বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। দীর্ঘ এই সময়ে ফেনীর রাজনীতিতেও দলটির কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বহু নেতা। আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাহসিকতায় যারা দলকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাদের হাতেই রচিত হয়েছে ফেনী বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে নেতৃত্ব, এসেছে নতুন প্রজন্ম। দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ক্ষমতায় আসার পর ফেনী বিএনপির সামনে এখন বড় দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘদিনের আহ্বায়ক কমিটির পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি হয়নি।

দলের দীর্ঘ পথচলায় ফেনীতে বিএনপির রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্মরণ নিয়েও রয়েছে আক্ষেপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে দলের জন্য যেসব নেতারা জেলায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাদের সম্মানে কখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আয়োজন করা হয়নি। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে দলের আগামীর পথচলা আরও উজ্জ্বল হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা এসব নেতার অনেকে আজ প্রয়াত। আবার প্রয়াত নেতাদের পরিবারের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নেই। ফলে তাদের স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে দলের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্যে তাদের পরিবারকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথাও এসেছে।

দলের তৃণমূলের দাবি ও প্রত্যাশা প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল দৈনিক ফেনীকে বলেন, ফেনীর জনপদে বিএনপির রাজনীতিতে অনেকে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অনেকে আজ প্রয়াত, সকলের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। তাদের অবদানে ফেনী বিএনপি আজ এতদূর এসেছে। আমাদের দল মাত্র ক্ষমতায় এসেছে, আগামীতে এসব নেতাদের পরিবারকে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। সেক্ষেত্রে সবসময় সবাইকে চাইলেও পদ-পদবি দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। তবে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত, শহিদ, গুম, খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের কর্মসংস্থানের বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ রয়েছে।

দলের আগামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, সম্মেলন করতে না পারায় ফেনী বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে বিএনপিকে দাঁড়াতে দেইনি। তবে সামনে জাতীয় কাউন্সিলের আগে কমিটিগুলো সম্পূর্ণ করা হবে।

দলের আগামীর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলাল বলেন, ২০ বছর ধরে বিএনপি স্থানীয় কোনো নির্বাচন করতে পারেনি। এতে আমাদের নেতাকর্মীরাও প্রার্থী হতে পারেনি। সেক্ষেত্রে এবার যোগ্য প্রার্থী দেওয়া হবে। দল বিদ্রোহীর বিষয় নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে ত্যাগীদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল। এছাড়াও সব মিলিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্যদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক বলেন, অতীতে যারা ফেনী বিএনপির রাজনীতিতে অবদান রেখেছেন তাদের আমরা সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করি। তবে বিশেষ সম্মাননা জানানোর জন্য অন্যান্য দলের মত বিএনপির নির্দিষ্ট কোনো তহবিল নেই। সেজন্যই অতীতে অবদান রাখা নেতা বা প্রয়াত নেতাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানোর সুযোগ হয় না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দলের কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা থাকবে। যারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তারা সবসময়ই উড়ে এসে জুড়ে বসে। যখনই যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা সে দলের ওপর ভর করে। স্বার্থপর ও দালাল প্রকৃতির কিছু লোক এমন কাজ করেন। শুধু বিএনপি নয়, সব সংগঠনেই এমন কিছু লোক থাকে। তবে আমরা স্বার্থপর ও দালালদের দূরে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

ফেনীতে বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় নেতৃত্বের এই ধারাবাহিকতায় উঠে আসে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, সাহাব উদ্দিন, আবু বক্কর চেয়ারম্যান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া এমপি, আবদুল কাদের, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন মজুমদার, হাফেজ আহাম্মদ, অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, শহীদ উদ্দিন ফেরদৌস, মোস্তাফিজুর রহমান, মোশাররফ হোসেন এমপি, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, সাঈদ ইস্কান্দার, নুরুল আফছার ও জিয়াউদ্দিন মিষ্টারসহ অনেক নেতার নাম। বিভিন্ন সময়ে তাদের নেতৃত্বে ও অংশগ্রহণে ফেনীতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে বিএনপি গঠন করেন। ১ সেপ্টেম্বর দলটি ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। দিনটি উপলক্ষ্যে ফেনীতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার শহরের মিড টাউন কনভেশন হলে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

ফেনীতে বিএনপির উত্থান যেভাবে

জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯৭৮ সালে পরশুরামের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে ফেনীতে শুরু হয় বিএনপির দলীয় কার্যক্রম। যেখানে তৎকালীন বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিন, আবু বক্কর চেয়ারম্যান, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া এমপি, আবদুল কাদেরসহ অনেক নেতাকর্মী যুক্ত ছিলেন। তাদের হাত ধরে ফেনীতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।

১৯৮১-৮৩ সালে অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন মজুমদারকে সভাপতি ও হাফেজ আহাম্মদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালের দিকে ফেনী জেলা বিএনপির তৃতীয়বারের মতো কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে সভাপতি ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম, সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন ফেরদৌস ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মোশাররফ হোসেন এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। এরপর ২০০৭ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে সাঈদ ইস্কান্দারকে আহ্বায়ক করা হয়। ওই কমিটির ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল আফছার।

পরবর্তী ২০১১ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান সাঈদ ইস্কান্দার এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিয়াউদ্দিন মিষ্টারকে। এ কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে শেখ ফরিদ বাহারকে আহ্বায়ক ও আলাল উদ্দিন আলালকে সদস্য সচিব করা হয়। এরপর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। দীর্ঘ সময় আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পূর্ণতা না পাওয়ার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনায় রয়েছে।


দৈনিক ফেনী

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুল আমীন রিজভী কর্তৃক পপুলার অফসেট প্রেস, মিজান রোড, ফেনী-৩৯০০ থেকে মুদ্রিত এবং ৪৩৪, আমিন টাওয়ার (৬ষ্ঠ তলা), ট্রাংক রোড, ফেনী হতে প্রকাশিত।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক ফেনী
ক্ষমতায় দল,ফেনী বিএনপির চ্যালেঞ্জ কমিটি গঠন ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন
0:00 0:00
1.0x