ফেনীর ফতেহপুর ফ্লাইওভার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির ধাক্কায় মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়ামিন ফেনী পৌরসভার চাঁড়িপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি এস অ্যান্ড বি ফুড ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মহিপাল চৌধুরী বাড়ির বাসায় আসার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়ামিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যুর হওয়ার খবর প্রচার করা হয়। পুলিশ বলছে, পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ের কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে তাকে প্রথমে আনার পর তার স্বজনরা ছিনতাইকারীর হাতে মৃত্যুর দাবি করেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী একটি সূত্র জানায়। যদিও পরবর্তীতে নিহতের স্বজনরা এমন দাবির কথা প্রথমে অস্বীকার এবং পরে ভুল তথ্য জেনেছিলেন বলে জানায়।
নিহতের ভাই অনিক বলেন, ইয়ামিন আহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে যাই। সেখানে ভাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানতে পারি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি গাড়ি ইয়ামিনকে জোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
একপর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. ফয়জুল কবির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ইয়ামিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে শেষ সময়ে আমি ইয়ামিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন ইয়ামিন দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার কথা জানান। পরে সীতাকুণ্ড এলাকায় পৌঁছালে ইয়ামিনের দেহ শীতল হয়ে আসতে থাকে। এ অবস্থায় আবার দ্রুত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে কর্মরত ডোম আব্দুর রহিম সুরতহাল শেষে বলেন, ইয়ামিনের শরীরে কোনো ছুরিকাঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে শরীরে দুর্ঘটনায় থেঁতলানোর চিহ্ন এবং একটি পা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুল ইসলাম বলেন, যুবকের মৃত্যুর পর পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি এবং ছিনতাইয়ের বিষয়েও পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি।
ওসি বলেন, নিহত যুবক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার মালিকের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় ইয়ামিনের সঙ্গে আরও দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ছিলেন। একপর্যায়ে ওই দুজন তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ টান দিলে তিনি সিএনজি থেকে লাফ দেন। এ সময় মহাসড়কে চলাচলকারী একটি কাভার্ডভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ছিনতাই বা এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। তবুও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।