পরশুরামে তাজুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে রেলওয়ের মালিকানাধীন জলাশয় ভরাট করে দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় পরশুরাম থানায় এফআইআর গ্রহণের আবেদন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
গত ২৯ জুলাই বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী এ অভিযোগটি ডাকযোগে পরশুরাম থানায় প্রেরণ করেন। এতে পরশুরাম উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে জলাশয় ভরাট করে দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পৌর এলাকার কোলাপাড়া এলাকায় রুহুল আমিন মজুমদারের বাড়ির সামনে রেললাইনের পশ্চিম পাশে কলেজ রোড সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত প্রায় ০.২৩ একর লাইসেন্সকৃত জলাশয় ভূমিতে চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে স্ক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ চালানো হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দাবি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হলেও জলাশয় ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এতে সরকারি জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ভূমির অবৈধ শ্রেণি পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ওই স্থানে দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনার তথ্যও রেলওয়ের নজরে এসেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগটিতে সাক্ষী হিসেবে রেলওয়ের ফিল্ড কাননগো বিপ্লব কুমার রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সরকারি জলাশয় ভরাট বন্ধ, সরকারি ভূমি দখল ও শ্রেণি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এফআইআর গ্রহণের জন্য পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
স্থানীয়দের দাবি, একজন ঠিকাদারের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি জমি ব্যবহারের বৈধতা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, কৃষি ও চাষাবাদের জন্য আমি রেলওয়ে থেকে এই জমি ইজারা নিয়েছি। গত ৪০ বছর ধরে এই জমির খাজনা দিয়ে আসছি, তাই আমি মাটি ভরাট করছি রেলওয়ের এই জমিতে। মাটি ভরাটের বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি নেব কেন, এটাতো আমার নামে ইজারা আছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেছেন কিনা চানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রেলওয়ের জমির ইজারার কোন শর্ত ভঙ্গ করিনি।
এ প্রসঙ্গে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এখনও অভিযোগ পাইনি। রেলওয়ে বিভাগের আলাদা থানা রয়েছে। অভিযোগ পেলে রেলওয়ে থানাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করা হবে। সরকারি সম্পত্তি দখল, জলাশয় ভরাট কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ-যার বিরুদ্ধেই উঠুক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি সম্পদ রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী।