ফেনীতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় বাস্তবায়িত সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৭ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার পাঁচ উপজেলায় সাতটি প্রকল্পে মোট ১২ কোটি ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ১৩৫ টাকা। অব্যয়িত অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক দৈনিক ফেনীকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সোনাগাজী উপজেলার ডাংগি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৪৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৬২১ টাকা। এতে অব্যয়িত ৪ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ৩২৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ফেনী সদর উপজেলার দাউদপুর-মধুয়াই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৫ টাকা। অব্যয়িত রয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬১০ টাকা। একই উপজেলার মোহাম্মদ আলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৩১ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭০ টাকা। এ প্রকল্পে অব্যয়িত ৬১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলার গতিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৭৫৪ টাকা। অব্যয়িত ১৬ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদে ভেদা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩১ লাখ ১৯ হাজার ৭৮২ টাকা। অব্যয়িত ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৬১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলার বিরলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৭৪ টাকা। অব্যয়িত ৩৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫২১ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলার সিলোনিয়া বাজার-নোয়াজপুর খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬৯ টাকা। এ প্রকল্পে অব্যয়িত ২৫ লাখ ৬২ হাজার ১২৬ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন হতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সাতটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটিতে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো হলো-ফুলগাজীর গতিয়া খাল, ফেনী সদরের দাউদপুর-মধুয়াই খাল ও মোহাম্মদ আলী খাল এবং দাগনভূঞার বিরলী খাল ও সিলোনিয়া বাজার-নোয়াজপুর খাল। তবে দুইটি প্রকল্পে নির্ধারিত কাজ শতভাগ শেষ হয়নি। এর মধ্যে সোনাগাজীর ডাংগি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ, পরশুরামের বক্সমাহমুদের ভেদা খাল প্রকল্পে ৮৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কাজ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ফেনী জেলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্পের গুণগত মানে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ১ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ৭০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পুনঃখনন করা খাল দুটি স্থানীয়ভাবে পানি নিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
এদিকে শতভাগ কাজ শেষ না হলেও অর্থ ফেরতের কারণ জানতে চাইলে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, অর্থবছর শেষ হওয়ায় প্রকল্পের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে বরাদ্দ পেলে খাল খননের বাকি কাজ করা হবে।
একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনামুল হক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, রাতের বেলায় এ বিষয়ে কথা বলা যাবে না। দিনের বেলা অফিসে আসেন, তখন বক্তব্য দেব।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক দৈনিক ফেনীকে বলেন, খালগুলো চলতি বছরের জুনের মধ্যে খনন করার একটি বাধ্যবাধকতা ছিল। সেই হিসেবে প্রকল্পের কাজ শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদে পুনঃখনন করা খালগুলোর সুফল পাবেন।