ফেনী    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
দৈনিক ফেনী

প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান

ফোনের ডার্ক মোড কি আসলেই উপকারী?

আচ্ছা, আপনিও কি ফোন হাতে নিয়েই সবার আগে ডার্ক মোড অন করে দেন? ভাবেন, এতে চোখের ওপর চাপ কমবে আর ফোনের চার্জও বাঁচবে? আপনার মতো কোটি কোটি ব্যবহারকারী ঠিক এটাই ভাবেন। কিন্তু এই ধারণাটা কি পুরোপুরি সত্যি? চলুন, আজ ডার্ক মোডের পেছনের গল্পটা একটু অন্যভাবে জেনে নেওয়া যাক। স্ক্রিনের সাদা আলোর ঝলকানি এড়াতে অনেকেই কালো থিম বেছে নেন। বিশেষ করে ওএলইডি ডিসপ্লের ক্ষেত্রে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, কালো মানেই পিক্সেল বন্ধ, অর্থাৎ ব্যাটারি সাশ্রয়। এই বিশ্বাস থেকেই ডার্ক মোড তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, বেশিরভাগ অ্যাপ এবং অপারেটিং সিস্টেম নিখুঁত কালো রঙের বদলে ব্যবহার করে গাঢ় ধূসর শেড। এই ধূসর পিক্সেলগুলো কিন্তু পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকে না, ফলে শক্তি খরচ একেবারে বন্ধ হয় না। তাই সব ফোনে ডার্ক মোড মানেই যে অনেকখানি ব্যাটারি বেঁচে যাবে, এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়। এবার আসা যাক পড়ার অভিজ্ঞতার কথায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমরা সাদা কাগজের ওপর কালো হরফে পড়তে অভ্যস্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিন্যাসটিই আমাদের চোখের জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক। ডার্ক মোডে এর ঠিক উল্টোটা হয়, অর্থাৎ কালো পটভূমিতে সাদা বা হালকা রঙের লেখা ফুটে ওঠে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে পড়ার সময় অনেকেরই মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং চোখে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সব অ্যাপে বা সব ডিভাইসে ডার্ক মোডের অভিজ্ঞতাও একরকম হয় না। অনেক অ্যাপ নির্মাতারা প্রথমে শুধু লাইট মোডের কথা ভেবেই ডিজাইন করেন। পরে ডার্ক মোড যুক্ত করায় রঙের ভারসাম্য বা আইকনের স্পষ্টতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যবহারকারী হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে। একটা সময় ডার্ক মোড ছিল স্মার্টফোন দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড। কিন্তু এখন ব্যবহারকারীরা এর সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে পারছেন। এটি যেমন সব পরিস্থিতিতে ব্যাটারি বাঁচায় না, তেমনই সবার চোখের জন্য স্বস্তিদায়কও নয়। তাহলে শেষ কথা কী? উত্তরটা খুব সহজ: আপনার স্বাচ্ছন্দ্যই আসল। যদি ডার্ক মোড আপনার চোখে আরাম না দেয় বা কোনো অ্যাপ ব্যবহার করতে অসুবিধে হয়, তবে নির্দ্বিধায় লাইট মোডে ফিরে যান। মনে রাখবেন, প্রযুক্তি আপনার সুবিধার জন্য, কোনো ট্রেন্ডের দাসত্ব করার জন্য নয়।

ফোনের ডার্ক মোড কি আসলেই উপকারী?