দশ মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল প্রকৌশলীর


ফেনী শহরতলীর রাণীরহাটে মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে রুবেল দে (৩৫) নামে প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সোয়া ১টার দিকে বাজারের অদূরে শফিকুর রহমান ম্যানশনের সামনের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ সাগর জানান, ফেনী থেকে ছাগলানইয়ামুখি একটি মাইক্রোবাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেল চালক মাইক্রোবাসের সামনে অংশের সাথে সজোরে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে যান। এতে তার মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে মানুষজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যান। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তাপাশে ড্রেনে পড়ে আটকে যায়। গাড়ীতে থাকা চালক ও যাত্রীরা তাৎক্ষনিক পালিয়ে যায়।

নিহত রুবেলের স্ত্রী সনজিতা রায় চৌধুরী ছাগলনাইয়া উপজেলা আইসিটি রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন এর সহকারী প্রোগ্রামার। ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ হতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ফেনীর বাঁশপাড়ায় বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তারা। সনজিতা রায়ের সহকর্মী নিয়াজুল হায়দার এসব তথ্য জানান।

স্থানীয়রা জানান, রাণীরহাটে দুর্ঘটনায় মারা যাবার মিনিট দশেক আগেও আরেকবার দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছিল তারা। এসময় সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী দুইজন মালিপুর স্কুলের সামনে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। এতে তার স্ত্রী কোমরে ব্যাথা পেলে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তাকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেন তিনি। পরে নিজে আবার মোটরসাইকেল নিয়েই রওনা হন। এর কিছুদুর যেতে না যেতেই মাইক্রোবাসের সাথে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তিনি।

নিহত রুবেল দে'র আত্মীয় বাপ্পি দত্ত জানান, রুবেল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার জামালপুর গ্রামের শংকর দে এর ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শহরের মাষ্টারপাড়ায় থাকতেন। তাদের ২০১৮ সালে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ফেনী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর হায়দার জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেন জানান তিনি।

এ ঘটনায় শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন নিহতের আত্মীয় স্বজনসহ সহকর্মীরা। 

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, খুব খারাপ লাগছে। এভাবে মৃত্যু কারো কাম্য নয়। মহান সৃষ্টিকর্তা তার পরিবারকে এ শোক সহ্য করার শক্তি দিক।

মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন

    কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় নি

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।