রামপুরে গৃহবধূ মাহমুদা হত্যা মামলা প্রধান আসামী শাহীন এখনও পলাতক


ঘটনার ফেনী শহরের রামপুরে গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার শিরিন হত্যা মামলার প্রধান আসামী স্বামী শাহজালাল শাহীন (৩০) এখনও আটক হয়নি। ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।

তবে শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সুদ্বীপ রায় জানিয়েছেন, তাকে গ্রেফতার করতে ঢাকা ও দাগনভূঞার বিভিন্ন স্থানে পাঁচবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সে পরিস্থিতি বুঝে পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে। এখনও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায় নি।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ঘটনার পর প্রায় ২০ দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দাগনভূঞা উপজেলার গজারিয়া রোডের খালেক ম্যানসন থেকে মামলার অপর দুই আসামী মাহমুদার ভাসুর বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার ওরফে সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার বাদী মাহমুদার বাবা অহিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় প্রধান আসামী শাহীন আটক এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলে আমরা শান্তি পাবো।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মশিউর রহমান জানান, এ মামলার ৫ আসামীর মধ্যে মাহমুদার স্বামী শাহজালাল শাহীন ও ননদ খাদেজা মায়া ছাড়া বাকীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শাহীন ও তার বোন খোজেদা আত্মগোপনে রয়েছেন। তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। এ কারণে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। এ দুজনকে গ্রেফতার করতে পারলে ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে। গ্রেফতারকৃত তিনজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। তিনজনই একইরকম তথ্য দিয়েছে।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিকালে ফেনী শহরের রামপুর তনু পাটোয়ারী বাড়ীতে শ^শুরালয়ে মাহমুদা আক্তার শিরিনের (২৩) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। মাহমুদার স্বজনদের দাবি, স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। সে দাগনভূঞার রাজাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামচন্দ্রপুরের ছলু ভূঁঞা বাড়ির অহিদুর রহমান ও আলেয়া বেগমের মেজ মেয়ে। একইদিন রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় অহিদুর রহমান বাদি হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হল স্বামী শাহজালাল শাহীন (৩০), ভাসুর বেলাল হোসেন (৪০), ননদ বিবি খাদেজা মায়া (৩৫), শাশুড়ী ছালেহা বেগম (৫৫), জা সুমি আক্তার (২০)। এর মধ্যে শাশুড়ী ছালেহা বেগমকে ঘটনার দিনই গ্রেফতার করা হয়।

মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন

    কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় নি

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।