দাগনভূঞা উপজেলায় পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষকরা। এই চাষের ফলে একদিকে যেমন আয় হচ্ছে, অন্যদিকে পতিত অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে তারা। কৃষি অফিস বলছে, চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ২২ হেক্টর জমি। উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষক সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। প্রত্যেকটি ব্লক ও প্রদর্শনী করে এ ফসলের তদারকি করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ-সারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এনায়েত নগর এলাকায় কৃষক মোঃ নূরুল আলম বিপ্লব ও একই এলাকার মঈনুল ইসলাম মঞ্জুর সূর্যমুখী প্লটে গিয়ে দেখা গেছে, সূর্যমুখী বাগানে অপূর্ব দৃশ্য।

কৃষক নূর আলম বিপ্লব বলেন, আমার ৩৩ শতক জমি অনাবাদি ছিলো। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আবাদ শুরু করি সূর্যমুখী। এই বীজ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে দিয়েছে। কৃষি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্লট দেখে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

কৃষক মঈনুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ৩০ শতক অনাবাদি জমিকে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে সূর্যমুখীর আবাদ করি। ফলনও ভালো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ভেতর এ সূর্যমুখী আবাদ করা হয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পুলক দাস ও আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, প্রনোদণা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে এবং সরেজমিনে মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূর্যমুখীর আবাদ বাড়লে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা অনেক কমে আসবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান জানান, উপজেলায় এ বছর অনেক পতিত জমি আবাদে এনে সূর্যমুখী চাষের আওতায় আনা হয়েছে। সূর্যমুখী বীজ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রতিটি কৃষককে সূর্যমুখী ফুলের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। ওইসব সূর্যমুখীর জমিতে উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তারা পরিদর্শন করে কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় দিনদিন এ উপজেলায় এ সূর্যমূখী চাষে কৃষকের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।