দাগনভূঞা উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (ফখরুদ্দিন ও মঈন উদ্দিনের) সময়কালে দাদনার খালসহ দাগনভূঞা বাজারের সরকারি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর ১৯ বছর পর ওই খালের জমি উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে পৌরসভার নামার বাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীদুল ইসলাম ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহিদুল আলম এবং দাগনভূঞা আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর সাকলাইনের উপস্থিতিতে খালের ওপর থাকা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা পৌরসভার দাদনার খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ সংকটে বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমির চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টি খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সেখানে খাল উদ্ধারে অভিযান চালায় প্রশাসন। গতকাল সকাল থেকে এক্সকাভেটর মেশিনের সাহায্যে খালের উপর থাকা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘এই খালে ছোটবেলা আমরা নৌকা চালানো দেখেছি এবং মাছ ধরতে দেখেছি। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে খালটি অনেকে দখল করে স্থাপন নির্মাণ করা হয়েছে। এখন সরকারিভাবে দখলমুক্ত করা হচ্ছে। এতে কৃষি জমির পানি খাল দিয়ে নামতে পারবে, আমাদের ফসলও ভালো হবে। উপজেলা প্রশাসন খালটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। খালটি দখলমুক্ত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষিতেও বিপ্লব ঘটবে। আমরা স্থানীয়রা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
এ ব্যাপারে দাগনভূঞার সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহীদুল আলম বলেন, খালটির বিভিন্ন অংশে ভূমিখেকোরা দখল করে ভরাট করে ফেলেছিল। আমরা কৃষকসহ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি খালে উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম শুরু করেছি। এই খালটি যদি প্রবাহমান করা যায়, তাহলে খালের সঙ্গে সমৃক্ত অন্তত বহু জমি ফসলি জমিতে পরিণত হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহীদুল ইসলাম বলেন, দাগনভূঞার দাদনার খালটি পুনরুদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি খাল দখল করে কারো স্থাপনা করার সুযোগ নেই। দখল সরাতে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।
