সোনাগাজীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় সাহেবেরঘাট সেতু সংলগ্ন বালু মহাল ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারির তিনদিনের মাথায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী বালু পরিবহন চালুর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

গতকাল রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রীর প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিচয় পর্ব শেষে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন কর্মকর্তারা।

এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী মনির আহমেদ উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বালুর সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৬ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজে বিপুল পরিমাণ বালুর প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বালু পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এলাকায় যে বালুর বৈধ উৎস রয়েছে সেখান থেকে গত কয়েকদিন কেউ বালু পরিবহন করতে পারছে না। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখতে বালু পরিবহনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বালু পরিবহনের কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বায়ুদূষণও হচ্ছে। এজন্যই বালু পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আপনাদের কথার সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের মিল নেই। আসলে সমস্যা কোথায়, তা ঠিক বুঝতে পারছি না।

এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী মনির আহমেদ আবারও বলেন, যে উৎস থেকে বালু আনা হচ্ছে সেটি বৈধ। ঠিকাদাররা টাকা দিয়ে বৈধভাবে বালু সংগ্রহ করে সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যবহার করতে পারলে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হবে না। যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটির পাকাকরণের ত্রুটির কারণেই ভেঙে গেছে। এই সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে বালু সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে না।

সভায় সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা প্রকৌশলী মনির আহমেদের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, বালু মূলত চট্টগ্রামের দিক থেকে আসছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে সড়কটি ভেঙে গেছে সেটি ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আপাতত সড়ক বিভাগ কিছু সংস্কার কাজ করবে এবং ঈদের পর কাজটি সম্পন্ন হতে পারে।

পরে বিষয়টি নিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দুই দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসছে। তাই ইউএনও, ওসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বসে বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কারও যেন ক্ষতি না হয়, উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা পায় সেদিক দৃষ্টি দিতে হবে। 

এর আগে, সাহেবেরঘাট সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সেতু সংলগ্ন ছোট ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন, সরবরাহ, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সড়ক বিভাগ ফেনীর মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রকৌশলী মনির আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তির বিষয়ে তিনি অবগত নন। যদি জেলা প্রশাসক এ ধরনের সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন, তাহলে আমার বা ইউএনও’র কিছু বলার নেই। আমি কেবল বৈধ বালুর বিষয়টি উল্লেখ করেছি।

কোন ঠিকাদার বা বিশেষ পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ আমাকে বলেনি। কোনো ঠিকাদারও বলেনি। আমি আমার দপ্তরের চলমান কাজের বিষয়টি অবহিত করতে গিয়ে নিজ থেকেই বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমি আপনাদের বলতে পারি যে, যে সেতুর ক্ষতির কথা বলা হচ্ছে সেটিতে এক সাথে ১০ টনের পিকআপ চলাচল করলেও কিছু হবে না, এটি সেভাবে তৈরি করা। 

এদিকে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সাহেবেরঘাট সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ওলামা বাজার থেকে কোম্পানিগঞ্জ সড়কে নিরাপদ ভাবে চলাচল করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বায়ুদূষণ থেকে রক্ষার স্বার্থে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনস্বার্থ বিরোধী অবস্থানে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।