সম্প্রতি সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল সাঈদ ও কার্য সহকারী আবু নাছের ঘুষ নিতে গিয়ে দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় উপজেলায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার এমন কাণ্ডের নেপথ্যে কী? এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্য কারা জড়িত বা এই টাকার ভাগ কারা কারা পাচ্ছেন এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। এসব প্রশ্নের উত্তরে দৈনিক ফেনীর অনুসন্ধানে উঠে আসে নানা তথ্য।

অনুসন্ধানকালে প্রকল্প সভাপতি ও দুদকে অভিযোগকারী ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা হলে দৈনিক ফেনীকে তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) বরাদ্দের টাকার ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘পিসি’ বা কমিশন দিতে হয়। এ ছাড়া মাস্টাররোল খরচ, কাজ পরিদর্শন খরচ, অফিস সহকারীদের খরচসহ বিবিধ খাতে গুণতে হয় আরও ২ শতাংশ। অনেক সময় মসজিদ, মন্দির, মাদরাসার বরাদ্দেও ছাড় দিতেন না তিনি। ফলে উন্নয়ন কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

তারা আরও জানান, পিসির টাকার হিসেবে এই ঘুষ নিতেন পিআইও মো. আল সাঈদ। ঘুষ দাবি করার সময় বলা হতো ইউএনও, পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, দুদক, সাংবাদিকের নামও। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় বিল ছাড়ের জন্য বাধ্য হয়ে এই অনৈতিক লেনদেন করতে হত। সেজন্য শতভাগ কাজ করার সুযোগ নেই। ফলে প্রতিবাদ করলে কাজের অনিয়ম ধরে বিলের টাকা আটকে দেয়। এসব লেনদেনে সরাসরি যুক্ত রয়েছে পিআইও’র দপ্তরের অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার অপারেটর) ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে কার্য সহকারী আবু নাছের। আরও রয়েছেন সরকারি নিয়োগ বা বৈধ চুক্তিপত্র ছাড়াই কাজ করা পিআইও’র সহকারী আরাফাত।

উপজেলার একটি ইউনিয়নের জামায়াত আমির সোহাগ (ছদ্মনাম) বলেন, আমরা ছোটখাটো কাজ করি। এরপরও বরাদ্দের ১০ শতাংশ টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স এবং অফিস খরচের নামে বিলের আগেই দিতে হয়। এটি ভ্যাট-ট্যাক্সের নামে নিলেও মূলত এটি অবৈধ পিসির টাকা। তবে আমরা অবশিষ্ট টাকা দিয়ে অন্যদের চেয়ে ভালো কাজ করি সেজন্য জেলা থেকে ঊর্ধতন কর্মকর্তারা এলে আমাদের কাজগুলোই পরিদর্শন করানো হয়। পিআইও অফিসে ঘুষ বাণিজ্য প্রকাশ্যেই হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানে প্রতিটি প্রকল্প থেকে অফিস খরচের নামে পিআইও মো. আল সাঈদ ও অফিস সহকারী ইমরান ঘুষ নেয়। এসব দুর্নীতি বন্ধে আমরা ইউএনওকে জানিয়েছিলাম। এমনও বলেছি পিসি নিলেও যেন কম করে নেন, কিন্তু তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

আরেক ঠিকাদার শাহ আজিজ বলেন, আমি বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছি। প্রত্যেকটিতে নির্দিষ্ট পিসিসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দের ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত টাকা দিতে হয়েছে। এখানে আলাদা করে মাস্টাররোল খরচ, কাজ পরিদর্শন খরচ, অফিস সহকারীদের খরচসহ বিবিধ দিতে হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করে অন্যান্য সবার চেয়ে কম পিসি দিয়েছি। আমার সামনেই অন্যান্যদের থেকে পিসি হিসেবে ১৩ শতাংশ নিয়েছে। বিবিধ খরচসহ তাদের কাছ থেকে ১৭ শতাংশ টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ে নেয়। আমরা যারা কাজ করি তারা সকলে জানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সবকিছুতে শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত। কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলে না।

প্রকল্পের আরেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন বেলু বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি কাজ শেষ করে বিল তুলতে গেলে পিআইও দপ্তরের অফিস সহকারী ইমরান হোসেন বরাদ্দের ১৭ শতাংশ টাকা ঘুষ দাবি করে। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানাই এবং শতভাগ কাজ বুঝে নিতে বলি। এরপরও বিল ছাড়ের জন্য টাকা দিতে হয়েছে। আমি যদি উল্লেখ করে বলি, বিগত সময়ে যত কাজ করেছি তখন তো এত পিসির টাকা চাননি। কেউ নিলেও সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ দিয়েছি। আমি বরাদ্দ অনুযায়ী কাজও করেছি প্রায় শতভাগ। এখন এ চক্র জোর করে টাকা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পরেও অনেক কর্মকর্তা এখনো দুর্নীতি করে যাচ্ছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত নজদারি এবং তদারকি করা প্রয়োজন।

উপজেলা পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শুধু পিআইও অফিসে ঘুষ লেনদেন চলে এমন নয়-বরং উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস, ভূমি অফিস, এলজিইডি অফিসসহ অন্যান্য দপ্তরগুলোতেও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও প্রকল্প সভাপতি বলেন, আমি একটি আশ্রয়কেন্দ্রের সড়কের ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজ পেয়েছিলাম। এই কাজ শেষে দাবিকৃত ৪ লাখ টাকা না পেয়ে আমার বিল আটকে রাখেন পিআইও মো. আল সাঈদ। পরে আমি বিল না পেয়ে মাসখানেক ঘোরার পর বাধ্য হয়ে ঘুষের টাকা প্রদানের পর বিল ছাড় দেওয়া হয়। শুধু টাকা নয় কাজের আবেদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন পর্যন্ত অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন স্তরে নগদ ১ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। বিশেষ করে সোনাগাজী পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী ইমরান এই টাকার জন্য ফাইল আটকে রাখেন। যেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেন না, সেখানে আমাদের মত নগন্য ব্যক্তি অভিযোগ করলেই বিপাকে পড়তে হব। তাছাড়া প্রতিবাদে চিহ্নিত হলে ভবিষ্যতে আর কাজও দিবে না। এরপরও বেশ কয়েকবার আমি প্রতিবাদ করেছি।

সম্প্রতি উপজেলায় টিআর, কাবিটা, কাবিখা, কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পেই পূর্ণাঙ্গ কাজ করা হয়নি। আংশিকভাবে কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে উপজেলার চরচান্দিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে।

উপজেলা পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এইচবিপি, গ্রামীণ ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) কর্মসূচিসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে বার্ষিক প্রায় ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ পায় এই অফিস। এসবের মধ্যে মোট প্রকল্পের ৬০ শতাংশ বিএনপি, ৩০ শতাংশ জামায়াতে ইসলামী এবং সুশীল সমাজসহ বিবিধ ১০ শতাংশ ইউএনও ও পিআইও নিজে বণ্টন করেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও দলীয় শতকরা হিসাবে একই নিয়ম মানা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদ মোট প্রকল্পের ৮০ শতাংশ তালিকা প্রেরণ করেন এবং বাকি ২০ শতাংশ ইউএনও ও পিআইও’র মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

দুদকের অভিযানে গ্রেপ্তারের পর পিআইও মো. আল সাঈদ দাবি করেন, ঘুষের টাকা আমি কেবল নেই না। উপজেলার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অনেকে এর ভাগ পেয়ে থাকেন। এ ঘটনায় দুদকের এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকালে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা এবং অন্য কোন তথ্য পাওয়া গেলে তাও আইনের আওতায় আনা হবে।

দুর্নীতির এসব অভিযোগের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পিআইও অফিসে বরাদ্দসহ প্রকল্পের তালিকা ও এ সংক্রান্ত তথ্য চাইলে অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার) ইমরান হোসেন জানান, তার কাছে কোনো তথ্য গোছানো নেই। এছাড়া তথ্য থাকলেও ইউএনও’র অনুমতি লাগবে।

পরে মুঠোফোনে দৈনিক ফেনীর প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে ইউএনও রিগ্যান চাকমা বলেন, তথ্য রয়েছে এবং দেওয়া যাবে। কিন্তু পুনরায় তথ্য নিতে গেলে ইমরান হোসেন ইউএনও থেকে অনুমতি নিয়ে আসছি বলে সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে তথ্য না দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর এ বিষয়ে ইউএনও জানান, ইমরান অনুমতি নিতে এসেছিলেন; তবে কর্মচারী হঠাৎ অফিস ত্যাগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উপজেলা পরিষদের কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল সাঈদের দাম্ভিকতা এত বেশি যে আমাদের সালাম পর্যন্ত নেন না। কারো সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলেন না তারা। আমরা উপজেলায় কর্মরত সকলে তাদের ওপর একপ্রকার বিরক্ত। সকলের মনে কষ্ট থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।

ঘুষ এবং পিসি’র টাকা ভাগাভাগি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, আমার কিছু জানা নেই। আপনারা খতিয়ে দেখতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। আই অ্যাম ভেরি মাচ ফেড আপ অ্যাট সোনাগাজী (আমি সোনাগাজীর উপর ক্ষুব্ধ)।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আল সাঈদ এবং অফিস কার্য-সহকারী আবু নাছেরকে ঘুষের নগদ ১ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি দল। পরে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

দুদক এবং ভুক্তভোগী সাব-ঠিকাদার হুমায়ুন কবির রানা অভিযোগ করে জানান, পিআইও তার কাছ থেকে আগে ঘুষ হিসেবে বিভিন্ন সময় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন। এবার ৫টি ব্রিজ প্রকল্পের বিল পেতে হলে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করলে ১ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পিআইও এক লাখ টাকা গ্রহণের পর দুদক কর্মকর্তারা অভিযানে গিয়ে তাদের আটক করেন।

দুদকের এই অভিযানের পর সোনাগাজী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চলমান ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নিয়োগবিহীন কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য: অফিস সহকারীদের
হাতেই ঘুষের লেনদেন
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি নিয়োগ বা বৈধ চুক্তিপত্র ছাড়াই ২০ জনের অধিক ব্যক্তি বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছেন। পাশাপাশি বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারী এবং গাড়িচালকরাও রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ-অবৈধ এসব কর্মচারীদের মাধ্যমেই বেশিরভাগ ঘুষের টাকা লেনদেন হয়ে থাকে।

এ বিষয়টি নজরে আসে পিআইও অফিসের কার্য সহকারী আবু নাছের দুদকের অভিযানের সময় ঘুষের টাকাসহ আটক হওয়ার পর। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিআইও দপ্তরের অফিস সহকারী (কাম কম্পিউটার) ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে কার্য সহকারী আবু নাছের এবং নিয়োগপত্রবিহীন কর্মরত পিআইও’র সহকারী আরাফাত ঘুষ লেনদেনে সরাসরি জড়িত।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, ভূমি অফিসসমূহে ৭ জন, পিআইও অফিসে ১ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন কর্মচারী কাজ করছেন। এছাড়া সমাজসেবা অফিসে ২ জন, হিসাবরক্ষণ (একাউন্টস) শাখায় ১ জন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক পাঠদান বন্ধ রেখে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এদের কারোই এসব দপ্তরে কাজ করার সরকারি নিয়োগ বা বৈধ চুক্তিপত্র নেই।

সরকারি নিয়োগ বা বৈধ চুক্তিপত্র নেই স্বীকার করে পিআইও অফিসে কর্মরত আরাফাত বলেন, আমাকে পিআইও স্যার এই অফিসে কাজ করতে বলেছেন। কোনো বৈধ নিয়োগপত্র নেই। আমি কোনো বেতন পাই না, তবে কিছু হাতখরচ পাই। পড়ালেখার পাশাপাশি এই অফিসে নিয়মিত কাজ করছি।

শ্যামল নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ইউএনও’র অফিস সহকারী পারভেজ আমার কাছে এক নম্বর খাস খতিয়ানের ‘ক’ তফসিলের জায়গা আদালতের রায়ের ডিগ্রি মোতাবেক খতিয়ান খোলার জন্য আবেদন করলে এসিল্যান্ডের তদন্ত প্রতিবেদনের পর ইউএনওর মাধ্যমে ডিসি অফিসে ফরওয়ার্ডিংয়ের জন্য ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। আমি এই টাকা না দেওয়ায় ৪ মাস ঘুরতে হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে ৪ হাজার দিয়েছি। আমি একটানা এই অফিসে যাওয়া-আসার সময় আমার মতো অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, ফাইল ফরওয়ার্ডিংয়ে ইউএনও’র কথা বলে ফাইলপ্রতি ১৫ হাজার টাকা সেবাগ্রহীতাদের কাছে দাবি করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহকারী পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফাইলপ্রতি ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।