সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের নতুন সওদাগরহাট এলাকায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় দশ ভরি স্বর্ণালংকার, আড়াই লাখ টাকা, মোটরসাইকেল ও মূল্যবান কাগজপত্রসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মালামাল উদ্ধারে কিংবা চোর শনাক্তে কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগী কোহিনুর আক্তার চুরির ঘটনায় এ ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

গত বুধবার দিবাগত (২৮ আগস্ট) রাতে হাজী মৌলভী সেকান্তর হোসেনের বাড়ীর আব্দুল কুদ্দুসের বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী কোহিনুর আক্তার বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও চোর শনাক্ত না হওয়া ও মালামাল উদ্ধারে অগ্রগতি না থাকায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সোনাগাজীতে একের পর এক চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের ধরতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগী কোহিনুর আক্তার জানান, পরিবারের সবাই বাপের বাড়ি বেড়াতে গেলে চোরেরা সুযোগ বুঝে মূল গেইটের তালা কেটে ও ছাদের দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তিনটি কক্ষে আলমিরা ভেঙে প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের দশ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা), দলিলপত্র, শিক্ষাগত সার্টিফিকেট ও আরও প্রায় ২ লাখ টাকার মালপত্র নিয়ে যায়।

আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ নোবেল বলেন, চোরেরা প্রথমে রান্নাঘরের বেড়া কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ছাদ দিয়ে নেমে তিন রুমের তালা ও আলমারি ভেঙে সবকিছু নিয়ে যায়। এতে আমাদের প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা মামলা করতে চাইলেও ওসি সাহেব তদন্ত শেষে শনিবার রাতে থানায় দেখা করতে বলেছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক পলাশ চন্দ্র রায় জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনও কোন অগ্রগতি নেই। আমরা তদন্ত করছি।

এ প্রসঙ্গে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বায়েজীদ আকনকে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া মেলেনি। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত কিংবা চোরদের কোন সন্ধান পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও কিছু পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীদের থানায় আসতে বলা হয়েছে, এলে মামলা নেওয়া হবে।