শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে শেষ হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এক মাস সিয়াম পালনের পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন মুসলিমরা। ঈদুল ফিতরের পরও পুরো বছর রমজানের শিক্ষা ধরে রাখতে গুরুত্ব দিন পাঁচটি আমলে—
১. রমজানের শিক্ষা ধরে রাখুন
রমজান মাসের পুরোটা সময় আমল ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন মুসলিমরা। রমজানে ঠিকমতো আমল করার জন্য পবিত্র এই মাস শুরুর প্রায় দুই মাস আগে থেকেই অর্থাৎ রজব ও শাবান মাস থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকেন মুসলিমরা। এই দুই মাসের প্রস্তুতির পর আসে আমল ইবাদতের মাস পবিত্র রমজান। রমজানের পর অনেকেই ইবাদতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু ইবাদতের প্রতি আগ্রহ না হারিয়ে বাকি ১১ মাসও রমজানের শিক্ষা ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এখনই সঠিকভাবে সংকল্প করলে তা সহজ হবে।
২. আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নিন
রমজান আমাদেরকে সহমর্মিতার বার্তা দেয়। রমজানের পরও সহমর্মিতার বার্তা ধরে রাখা উচিত। পুরো বছর আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর রাখা উচিত। এখন থেকেই এই কাজটি শুরু করা উচিত। এর অংশ হিসেবে ঈদের ছুটিতে স্বজনদের বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া এবং তাদেরকে নিজেদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো উচিত।
৩. শাওয়ালের ৬ রোজা রাখুন
শাওয়ালের ৬ রোজা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। শাওয়ালের ৬ রোজার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখল অতঃপর এ রোজার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৪)
৪. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন ঠিকমতো
রমজান মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা করেন সবাই। রমজানের পর নামাজের প্রতি অবহেলা দেখা যায়। অনেকে নামাজ পড়াও বাদ দেন। এমনটি করা উচিত নয়। কারণ, প্রত্যেক মুসলমানের ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। ফরজ ইবাদত ঠিকমতো আদায় না করলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। সেই জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা পেতে পুরো বছর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের পরিকল্পনা করুন এখন থেকেই।
৫. কাজা রোজা দ্রুত আদায় করুন
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ৩০ অথবা ২৯ দিন রোজা রাখা ফরজ। শরীয়ত নির্ধারিত কিছু কারণ ছাড়া রোজা না রাখা বা বাদ দেওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু কেউ যদি শরীয়ত নির্ধারিত কারণে রমজানের রোজা ভাঙতে বাধ্য হন, তাহলে তার জন্য কাজা আদায় করা বাধ্যতামূলক। রমজানের পর যত দ্রুত সম্ভব কাজা আদায় করে নিতে হবে।
