ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সিলোনিয়া নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে পশ্চিম পাড়ের গাবতলা এলাকার শতাধিক কৃষকের বোরো ধান খেতে মারাত্মক পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সীরহাট ইউনিয়নের মান্দারপুর এলাকার সাইফুলের দোকানের পূর্বদিকে সিলোনিয়া নদীর ‘করইল্লা’ নামে পরিচিত বশিরের ময়দা বিল এলাকায় গোসাইপুর গ্রামের অন্তত ২২ জনের একটি অংশীদার গ্রুপ নদীতে বাঁধ দিয়ে মেশিনের সাহায্যে পানি তুলে মাছ শিকার করছে। এতে নদীর পূর্ব পাড়ে পানি সরিয়ে নেওয়ায় পশ্চিম পাড়ে থাকা ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকার কৃষকরা সেচের পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, গ্রীষ্ম মৌসুমে সোনাগাজী স্লুইস গেইট খোলা থাকায় দক্ষিণ দিক থেকে উত্তরমুখী পানিপ্রবাহের মাধ্যমে তারা জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে সেই পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধানখেতে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর বলেন, পানি সমস্যা প্রকট। এখানে আমাদের মতো কালাম, হারুন ও নুর আহমদসহ অনেকেরই ইতোমধ্যে অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ধানখেত শুকিয়ে গেছে। গাবতলা ও মান্দারপুর এলাকার বিস্তীর্ণ বোরো মাঠ পানির অভাবে ফেটে যাচ্ছে।

কৃষক সাইফুল বলেন, ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যার পর কিছু পানি ছাড়া হলেও তা কোনো কাজে আসেনি। আমাদের ফসল বাঁচানোর মতো পানি পাওয়া যায়নি। আমরা শুধু দেখলাম, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ খাওয়া হলো, কিন্তু আমরা কী পেলাম?

পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির আওতাধীন আবু মেম্বারের স্কিমে প্রায় ১২০ হেক্টর জমি বোরো চাষের আওতায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আমিন হুজুর নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে গত ৮-১০ দিন ধরে মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে পানি তুলে মাছ ধরা হচ্ছে, যার ফলে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে মান্দারপুরের আবু মেম্বার বলেন, বিষয়টি পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাস্টার আবুল কালামকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত আমিন হুজুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জামশেদ আলম বলেন, পানি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কৃষকদের তেমন ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি। আমি আবারও খোঁজখবর নিচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার আবুল কালাম বলেন, বিষয়টি আমি আজই জেনেছি। ইউএনও’র সাথে বলবো। নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা ও কৃষকদের কষ্ট দেওয়া আইনত অপরাধ।

এ প্রসঙ্গে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।