ফেনীর উত্তর জনপদে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির কারণে পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের ফলে সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি বৃষ্টিতে কাদায় পরিণত হয়ে যান চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
জানা গেছে, উপজেলার আমজাদহাট ও আনন্দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহে এসব সড়ক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সড়কের পরতে পরতে জমে থাকা মাটি বৃষ্টির পানিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এই সড়কগুলো স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। রেল যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কসহ এসব পথই এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা। তবে সামান্য গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতেই সড়ক কাদাযুক্ত হয়ে পড়ায় সিএনজি, মোটরসাইকেল ও বাস চলাচলে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে চিহ্নিত কিছু মাটি ব্যবসায়ী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে মাটি পরিবহন করে থাকে। পরিবহনের সময় সড়কে ছিটকে পড়া মাটি জমে গিয়ে ধীরে ধীরে পুরু আস্তরণ তৈরি করে, যা বৃষ্টিতে ভয়ংকর রূপ নেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি শুরু হলেই সড়ক এতটাই পিচ্ছিল হয়ে যায় যে মোটরসাইকেল বা সিএনজি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময় যারা মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল, পরবর্তীতেও তারাই প্রভাব খাটিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদল হলেও এই সিন্ডিকেট বদলায় না।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাটি ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে। ফলে প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলেও কার্যকরভাবে এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা যাচ্ছে না।
উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি একাধিকবার আলোচনায় এলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। নবনির্বাচিত সাংসদ রফিকুল আলম মজনুও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও বাস্তবে মাটিখেকোদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা বলেন, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সড়কে দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগে মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সড়কগুলোকে নিরাপদ করার আহ্বান জানান।
