রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের স্বস্তি ফেরাতে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাটে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে মুন্সীরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদল। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী এ ‘স্বস্তির বাজার’ এর আয়োজন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় ১ লিটার সয়াবিন তেল, দেড় কেজি বুট, ৪ হালি ডিম ও ৩ কেজি পেঁয়াজ এই চারটি পণ্যের যেকোনো একটি ১০০ টাকার মধ্যে ক্রয়ের সুযোগ রাখা হয়। অনেক ক্রেতা ৪০০ টাকার মধ্যে চারটি পণ্যই সংগ্রহ করেছেন বলে জানান আয়োজকরা।
মুন্সীরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর হোসাইন রাহি বলেন, রমজানে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা কষ্ট করলেও কারও কাছে কিছু বলতে পারেন না। মূলত তাদের কথা বিবেচনা করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন ও সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভুঁইয়া।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভুঁইয়া বলেন, রমজান এলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, ফলে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েন। হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রদলের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি জানান, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সেমাই, চিনি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও স্বল্পমূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রমজানের প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দরবারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক চৌধুরী, মুন্সীরহাট বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব আবদুল ওহাব বাবুল, সাবেক ছাত্রনেতা নুর করিম ও ফরিদ আহমেদ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী সোহেল, ইসমাইল হোসেন ভুঁইয়া টিপু, আবদুল কাদের জিলানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবুল কালাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউছুফ, তাঁতি দলের নেতা আনোয়ার হোসেন, শ্রমিক দলের নেতা সিরাজ উদ্দিনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্বস্তির বাজারে আগত কয়েকজন ক্রেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। রমজানে এমন উদ্যোগ তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে।
ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেড় শতাধিক মানুষের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশ্বাস দেন।
