ফুলগাজীতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় স্থানীয় মানুষের আস্থা বেড়েছে। ২০২৫ সালে লক্ষাধিক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে রেকর্ড গড়েছে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি, মাতৃত্বসেবা, এনসিডি কর্নার, সাব সেন্টার এবং কমিউনিটি ক্লিনিক মিলিয়ে লক্ষাধিক রোগীকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় মানুষের আস্থা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রমাণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে প্রাপ্ত বার্ষিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে মোট ৮৭ হাজার ৭৭ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন। অন্তর্বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ১৮৯ জন। জরুরি বিভাগে সেবা পেয়েছেন ১৭ হাজার ৪০৫ জন। প্যাথলজি বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে মোট ৭ হাজার ৬টি পরীক্ষা। মাতৃত্বসেবায় স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে ৭০৫টি এবং সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে ৬১টি। এছাড়া ইসিজি সেবা নিয়েছেন ৩৯৯ জন রোগী, এনসিডি কর্নার থেকে সেবা পেয়েছেন ৯ হাজার ১৭১ জন। উপজেলার সাব সেন্টারগুলোতে সেবাপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ২৮৯ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৭১ জন রোগী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন।

২০২৫ সালের পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডিসেম্বর মাসে বহির্বিভাগে ৫ হাজার ৯৯৯ জন, অন্তর্বিভাগে ৪৩৭ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৩০৩ জন রোগী সেবা পেয়েছেন। প্যাথলজিতে ২৩০ জন রোগীর ৫৯১টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। স্বাভাবিক প্রসব ৫৪টি, সিজারিয়ান ৬টি এবং ইসিজি সেবা ৫২ জন। এনসিডি কর্নারে ৮১৯ জন, আইএমসিআই কর্নারে ৮৫৬ জন এবং এএনসি-পিএনসি কর্নারে ৪১৯ জন সেবা গ্রহণ করেছেন। সাব সেন্টারে ৩ হাজার ৩৫১ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে ১০ হাজার ১৮৭ জন রোগী সেবা পেয়েছেন।

অক্টোবর মাসে বহির্বিভাগে ৮ হাজার ৬৫৫ জন, অন্তর্বিভাগে ৪৯৮ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৪০৬ জন সেবা নিয়েছেন। প্যাথলজিতে ৪৮০ জন রোগীর ৯৫৪টি পরীক্ষা হয়েছে। স্বাভাবিক প্রসব ৭৫টি, সিজারিয়ান ৬টি এবং ইসিজি ৬৯টি। এনসিডি কর্নারে ৯২১ জন, আইএমসিআই কর্নারে ৭৫১ জন এবং এএনসি-পিএনসি কর্নারে ৪৫৮ জন। সাব সেন্টারে ৩ হাজার ৮৩৩ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯ হাজার ৪৪৯ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন।

সেপ্টেম্বর মাসে বহির্বিভাগে ৮ হাজার ৮৯৮ জন, অন্তর্বিভাগে ৪৫৩ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৩০৩ জন। প্যাথলজিতে ৪২০ জন রোগীর ৭০৬টি পরীক্ষা। স্বাভাবিক প্রসব ৭২টি, সিজারিয়ান ৯টি এবং ইসিজি ৬৭টি। এনসিডি কর্নারে ৮৪৭ জন, আইএমসিআই কর্নারে ৮৩৫ জন এবং এএনসি-পিএনসি কর্নারে ৪৭৮ জন। সাব সেন্টারে ৩ হাজার ৬২০ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে ১০ হাজার ১২৭ জন।

আগস্ট মাসে বহির্বিভাগে ৯ হাজার ৮৩ জন, অন্তর্বিভাগে ৪৮৭ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৩৬৮ জন। প্যাথলজিতে ৪৯৮ জন রোগীর ৯৯০টি পরীক্ষা। স্বাভাবিক প্রসব ৬৩টি, সিজারিয়ান ৮টি এবং ইসিজি ৪৪টি। এনসিডি কর্নারে ৯১৬ জন, আইএমসিআই কর্নারে ৬৭৮ জন এবং এএনসি-পিএনসি কর্নারে ৪৯০ জন। সাব সেন্টারে ৩ হাজার ৭২৩ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে ১০ হাজার ৬০ জন।

জুলাই মাসে বহির্বিভাগে ৮ হাজার ৫২ জন, অন্তর্বিভাগে ৪৩০ জন এবং জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৫২৮ জন। প্যাথলজিতে ৪৮১ জন রোগীর ৯০৫টি পরীক্ষা। স্বাভাবিক প্রসব ৫৭টি, সিজারিয়ান ৭টি এবং ইসিজি ১৭টি। এনসিডি কর্নারে ৮৬২ জন, আইএমসিআই কর্নারে ৬৭৫ জন এবং এএনসি-পিএনসি কর্নারে ৪৫৫ জন। সাব সেন্টারে ৩ হাজার ৬৬৯ জন এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯ হাজার ৫২৩ জন রোগী সেবা পেয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বহির্বিভাগে একদিনে ৫৫০ জনেরও বেশি রোগী সেবা গ্রহণ করেছেন, যা এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং রোগীবান্ধব উদ্যোগের ফলে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. গোলাম কিবরিয়া বলেন, উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য আমরা আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগ আরও এগিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আমি আশাবাদী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেবার মান বজায় রাখতে আরও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে এই আস্থা ধরে রেখে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কর্তৃপক্ষ।