দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরিয়ে আনা ওমরাহ যাত্রী হেদায়েতুল ইসলাম ওরফে মানিক হুজুর মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচডিইউতে (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হেদায়েতুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মন্ত্রী বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসা ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করবেন।

এইচডিইউ’র কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও সোমবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রোগীকে সোমবারই ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।

এর আগে রোববার (১৪ জুন) ধর্মমন্ত্রী নিজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হেদায়েতুল ইসলামের খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। পরে পরিবারের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়।

মৃত হেদায়েতুল ইসলাম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে সৌদি আরব যান মানিক হুজুর। মক্কায় কয়েকদিন অবস্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারি মদিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ফ্লোরে পড়ে যান তিনি। পরে তাকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার থেকে পাঁচ মাস সিসিইউ ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর প্রায় তিন বছর তিন মাস তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের দাবি, এই সময়ে তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

সূত্র আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল পরিবার। সর্বশেষ তার মেজো ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সৌদি সরকারের সহযোগিতায় গত ১৩ মে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ এলাকা বীরচন্দ্র নগর লিচু বাগান কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।